Friday, October 9, 2020

অসফল


অস্থায়ী শিক্ষকতার কাজটা ফস্কালো।
টাটা-রাঁচি রূটে হড়তালের ফুটো গলে লজ্ঝড়
বাসটা তিন ঘন্টার রাস্তা ঘন্টা পাঁচ-ছয়ে;
সে নিতান্ত উদাসীন, পিছনের সিটে চিৎ।

চান্ডিলে চারটে ডাইভার্সন
বাসটা ওল্টায় ওল্টায়
রোধ করতে পতন, সে আঁকড়ে ধরে ঘুম।

পেরিয়ে যায় জলবিদ্যুৎ, স্পঞ্জ আয়রন, গুঞ্জরিত পাহাড়তলি,
অপসৃয়মান সোডিয়াম-বাষ্প হাতছানি
পেরিয়ে যায় সামাজিক বনসৃজন সাক্ষরতা অভিযান।
জোনাকির স্রোত নিভিয়ে বৃষ্টি নামে তুমুল;
জানলা নামাতে গেলে খুলে ঝপাৎ,
ছাতের ফোকর দিয়ে গলে জল,
কেউ কেউ ছাতা মেলে অন্ধকারে
সে উঠে বসে, নিজের প্রবীণতা মনে পড়ে তার। 

তার অসফলতার, শূণ্যতার প্রবীণতা,
তার জেলাস্কুলের প্রয়োগশালার আরশোলা
তার প্রাইভেট কলেজের তহবিল-তছরুপ
বুন্ডু থেকে বাস ছাড়ে সাইলেন্সারহীন ইঞ্জিনের গর্জনে 

রাঁচিতে বর্ষণমুখর রাতে
সে ঠিক করতে পারে না যাবে কোথায়
বরিয়াতুতে স্বজনের বাড়ি নাকি রেলস্টেশন
সে আদ্ধেক পথ বরিয়াতুর দিকে গিয়ে স্টেশনের দিকে ফিরে যায় 

পুরো ভাড়া উশুল করে গালি দেয় অটোচালক।


No comments:

Post a Comment