Showing posts with label Songs. Show all posts
Showing posts with label Songs. Show all posts

Saturday, February 24, 2024

ভাঙা গলির পাথরগুলোয়

ভাঙা গলির পাথরগুলোয় হোঁচট যে খাই এত,   
ভালোবাসার সুর তুলতে সারাটা দিন ঘুরি।
চায়ের পাঁশটে ঠেকটায় বলেছিলাম, সাগর!
সাগর ফিরিয়েছিল কালো ছায়া তার বেঞ্চির।
 
ক্লিন্ন ক্ষয়ের গ্লানি মুছে বৃষ্টির নির্জনে
পৌঁছতে যে বন্ধুদের ছেড়েছি একদিন,
লড়াইগুলোর ব্যস্ত কাজে তাদের কাউকে পেয়ে
নতুন শপথ দেয় মুঠোয়, বিপন্নতা স্মৃতির।
 
কাছের নদীর গাঢ় বুক স্বপ্নে ভরি রোজ;
অনেক উজাড় ভরে সে, আমার ফুসফুসের
সূর্য-পাতায় মর্মরিত তরঙ্গ তার বেয়ে
শহর ভরা কন্ঠ জাগে উৎসবে নদীর। 

Tuesday, March 28, 2023

ন্যায়ের মৌলিক অধিকারের গান

ধুলোহাওয়ায় ভরা এক দুপুরে 
হঠাৎ সে আজ আমায় ডাকল, 
পথের ওপার থেকে এগিয়ে এসে 
মামলা জেতার খবর শোনাল।

মামলা জেতা তার নিঃস্ব মুখে 
দেখলাম এক নিদারূণ পরিহাস 
তেরটা বছর তার ন্যায়ের আঁতে 
পুষ্ট ভেড়ার মত হজম হল।

মহান এ দেশের ন্যায় যে মহান 
নিজের বেতো লাশে সাড় জাগাতে 
প্রমাণ দিতে যে সে মদ্দ-জোয়ান 
তেরটা বসন্তের শরীর খেল।

শুনি অনেকে হয় বদ্ধ পাগল, 
অনেকেই শেষরাতে দড়িতে ঝোলে, 
আবার বাঁচার কথা চিন্তা করে 
(এই) ন্যায়ের শিকার, এর পিলে জোরালো।

জানিনা বছর তের আগের রাতের 
ঘটনায় তার হাত ছিল কিনা।
যারা হল খুন তাদের বাঁচার 
দাম তের দিনও কিনা জানি না।

যেদিন এ শহরের পাড়ায়, মোড়ে
ভেসে এসেছিল এক স্বপ্নের ডাক, 
বোমার গুলির ধোঁয়া পাতলা হতে 
কেউ গেল জেল, কেউ হল পলাতক।

চালাক ছিল যারা খুঁটি নাড়িয়ে 
গগলস পরে হল সহমরমী, 
বোকা ছিল যারা খুঁটি পেলনা, 
মাথায় হাত বোলাল ধর্মযাজক।

দেখি কি আমরা এই আকাশে, পথে 
সবচেয়ে বড় জেল খোলা হাওয়ায়, 
সমান ন্যায়ের মৌলিক অধিকার 
খাটাতে বছর তের সাফ হয়ে যায়।

মহান এ স্বদেশের ন্যায় যে মহান, 
(তার) চোথায় যে ধুলো চাটে অনেক জীবন,
একথা বুঝতে, দিয়ে তেরটা বছর, 
নিঃস্ব ঘোরে সে আজ দুপুরবেলায়।

২১.৮.৮৩

Monday, March 1, 2021

এক পহরের রাতটা


এক পহরের রাতটা যখন কাশে পাড়ার মোড়ে,
কেউ জাগে সব জানলাগুলোর আগাম খোশখবরে।
ছড়ায় যখন তারার আঁচল পাহাড়গুলোর বাঁকে,
টালমাটাল উঠতে কেউ তারায় হাতের ভরটা রাখে।

কেউ বা কালের জল তোলে এক প্রাচীন কুঁয়োর ঘুমে,
জলের শব্দ আঘাত করে বুক ভাঙা নিঝ্‌ঝুমে;
দিনগুলো ভোজবাজির সর্বস্বান্ত উত্তেজনা,
লক্ষ মানুষ মাতাল – শুঁকছে মৃত্যুগন্ধী সোনা...

ঘুমের জলে, তারার ভরে, আগামীর সংবাদে,
জেদটা কষের রক্তে থাকে আশার লবণস্বাদে।

এত ভাষা, এত আকাশ, এত মেঘের দেশে
ঝড়ের বিকেল আগুন ধরায় পথের স্মৃতিরেশে –
শক্ত চোয়াল, শুকনো চোখে, পচনধরা খালে,
দুর্বিষহ বেঁচে মরার অধৈর্যে, ভুলভালে

ভাবের যত আয়না তত চলটে-ওঠা পারা,
ভিতর থেকে ভেংচি কাটে আধখ্যাঁচড়ার দাঁড়া।ভোজবাজিটার ডাকে তবু কানে দিয়ে তুলো
একটি রুমাল যত্নে ঝাড়ে নিজের মেঘের ধুলো। 


 

গাও সে গান


গাও সে গান যার সুরে জাগে এক নীল আকাশ
গাও সে গান যার সুরে জ্বলে একটি সূর্য
এই শতাব্দীর নিহিত চেতনায় লীন, গভীর
গাও সে গান যার সুরে জাগে এক নীল আকাশ

একটা উজ্জ্বল দিন আসে আজ কত আঁধার মৃত্যুর পরে
একটা স্বপ্নের পিছনে আজ কত দগ্ধ জীবনের ছাই ওড়ে
বৃষ্টি আসে আর ভাঙা মাটিতে রেখে যায় অসংখ্য চোখ
কত আকাঙ্খার শুভ্র মেঘ সেই চোখের মণিতে খেলা করে

গাও সে গান যা তিলে তিলে সেই দিন গড়ার
পথ দেখায় আর রক্তে সাগরের ডাক শোনায়
এই শতাব্দীর নিহিত বজ্রে লীন, অধীর
গাও সে গান যার সুরে জাগে এক নীল আকাশ

এক মুহূর্তও দ্বিতীয় বার এই ধমনীতে ফিরে আসবেনা
সময়ে এই হাত ছিল তোমার হাতে – এছাড়া আর কিছু বাঁচবেনা
মাঝে মাঝে এই জীবনে আসে দিন স্বপ্নের সত্য জানতে
মৃত্যু যত আজ সেদিন অমর যদি না করি সাগর আর ডাকবেনা




 

সাইকেলের গান


দূরের নেশায় বন, বসত ছেড়ে
সাইকেল আমাদের এগিয়ে যেত।
ক্লান্তি এলে, কালভার্টে
জলের কলধ্বনি ঘুম পাড়াতো।

কত ধুলোপথ এ দেশের
আজও টানে, যেতে হারিয়ে।
আসে হাওয়া উপসাগরের
ঝুরো নুন দিতে মাখিয়ে। 

যদিও পেরিয়ে যাওয়া বসতগুলোর
বাঁচার শিকল-ঘষা কম বুঝতাম,
সুহৃদের ডাকে যারা হাল পুছতো,
মুখেও আনেনি শয়তানদের নাম।

শুধু সাথে যেত আমাদের
তাদের দূরপিয়াসী চোখ;
অপরিচয়ের চায়ে, অন্নে
ভরে দিত আমাদের রোখ।
......

দূরের নেশায় বন, বসত ছেড়ে   
সাইকেল আমাদের এগিয়ে যেত।
ক্লান্তি এলে, কালভার্টে
জলের কলধ্বনি ঘুম পাড়াতো।


 

আলোর ঝড় বওয়া


আলোর ঝড় বওয়া     একটি পথ হবে।

সবুজ কাঁপবে তার     বাতাসি দুই ধারে।

মাতবে সারা দেশ      শ্রমের জয়গানে

স্কুলে যাবে সব          শিশুরা কলরোলে


পারি তো চোখ ভরে   সেদিন দেখে যাবো

বা তার জলচাকায়     মথিত ঢেউ হবো।


দীর্ঘ কলমুখর            এক সেতু হবে।

এ গান ছোঁবে তার     ডানার দিগ্বলয়।

সাঁঝের ট্রেনগুলোর     হলুদ জানালায়

খুঁজবো জীবনের        বন্ধুদের সেদিন


আঁধারে নদীবুক        ভরা অনেক নায়ে

দিনের শক্ত কাঁধ        বাইবে ভালোবাসা।


পারি তো চোখ ভরে   সেদিন দেখে যাবো

বা তার জলচাকায়     মথিত ঢেউ হবো। 





 

Friday, October 9, 2020

হও, গান !

গান, তুমি হও !
প্রাণের সখার ছল ।
বৃষ্টি-আঁধার বনে ঢোকার মুখে
কালভার্টের তলোচ্ছাসে ঝুঁকে
চেনাও শোক !
পরাজয়ের দাও ধ্রুপদী
সন্ধ্যা-মেদুর ফল
তিক্তাসবে নিঃস্ব কারো বুক
লোহার, মোমের সখ্যতায় ফিরুক !
 
গান, তুমি হও !
রুটির চুল্লি খুলে বেরোও, ধ্বক !
ক্ষোভের খুলির বিনিদ্র চৌচিরে
দাও সে শিশু, পা দুটো যার
রক্তে খুরের চিহ্ন মাপে, ধীরে
তার কান্না ও জেদ
ছিঁড়ুক মনের ভেদ
বর্ণচোরা আত্মঘাতের ছক !
 
গান, তুমি হও !
সুর্যের হও বীথি !
ইতিহাসের রোদজাগানো তিথি !
সবার চোখে তীব্র ফেল লেলিহান এক টাটকা ফুলের ছায়া
সন্ধিক্ষণের ভাঙচুর সে ফুলের গঠন
সুগন্ধে তার অনেক বাকির ক্রমোন্মোচন
মর্মে জাগাও পৃথিবীর পথ, ধারা উচ্ছল, এক জন্মের মায়া !
 
গান, তুমি হও !
গোলাপী মেঘ চাবুক করে হানো !
যদি দেখ সৈনিকেরও সম্বিতে ক্লান্তি
পাগল মাথার মৃত অংশ সুরের খেলায় আনো ।
 
গান, তুমি হও !
ঘৃণা যদি দেখ গড়ে মুখ ফেরাবার ছল,
হয়ে ওঠো বিদ্রুপ
রাজপ্রাসাদেসোনায় প্রজা রক্তের তছরুপ
দুঃখসুখের মীনা ।
 
গান, তুমি হও !
আকাশ ব্যেপে স্কোয়াড্রনে বলো,
একলা কেউ নও!