Showing posts with label Poems. Show all posts
Showing posts with label Poems. Show all posts

Saturday, August 22, 2026

একটি মেয়ে

একটি মেয়ে তৈরি হচ্ছে জীবনজয়ের পথে,
বেউর জেলে চল্লিশ দিন পুলিস হেপাজতে।
কলেজ খোলার দাবি নিয়ে বন্ধ করে শহর,
প্রদেশজোড়া সাড়া ফেলে, আছে অতঃপর।
 
প্রতিটা দিন চারপাশ তার ঘিরছে তাকে
ভাঙতে চাইছে কচি বুকের বল।
সে যে নেত্রী নতুন দিনের এগোবে না?
      লাগাবে না
                   হাত,
                          ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে,
সারা দেশের মানুষজনকে
                   পিছিয়ে রাখার,
                          দাবিয়ে রাখার কল?
 
সে গড়ছে কথা নিজের, নীরবতার নীড়ও,
সঙ্গে আছে সাথীরা তার, বোনভাইয়েরা, দৃঢ়!

২৩.৮.২০২৬

 

Saturday, August 15, 2026

ভয়-তন্ত্র

হাতে অস্ত্র, যদিও ওরা ভীত,
ক্ষমতা মুঠোয় নিয়েও ওরা মৃত।
ওদের জিগির, জয় শিকলের জয়,
পথের দুকানে ছড়িয়ে দিচ্ছে ভয়।
 
বেশিদিন য়ু নেই তন্ত্রের, ভয় ঘুচছে।
রাজ-প্রচারক ভাটসমাজের মুখ পুড়ছে।  
লুটেরাশাসন ঢাকতে ওদের শাস্ত্রার্থ,
হাপিশ হবে তন্ত্রের টান শুধু স্বার্থ
 
রাজ্যের ছেলেমেয়ের ঝরিয়ে প্রাণ,
প্রধান দিচ্ছে রাষ্ট্রনীতির জ্ঞান!
নাটুকেপনা হাওয়ায় উড়িয়ে দিতে
আঘাত করছে দেশটা, ভয়ের ভিতে।
 
ইতিহাসে নয় নতুন, বশ্য প্রজাতি গড়া,
ধর্ম-জাতির নামে জাগানো জ্যান্তমড়া।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার চাই, সহজ দাবি,
জলকামানে তোড়ে খুলছে যুগের চাবি।  

১৫/২৩.৮.২৬ 

Thursday, August 6, 2026

বাইশে শ্রাবণ ২০২৬

এখনো মুখে লেপেনি কালি?
দাড়ি ছোপায়নি গেরুয়া রঙে?
সেরেছে তাহলে রবিঠাকুর,
কদর পাবেন নতুন ঢঙে।
 
হয়তো ভাগ্যে রয়েছে চা-পান
রাজা অজৈব-কীর্তি পথে!
হয়তো পাবেন বাৎসরিকও,
তিলেতন্ডুলে শাস্ত্রমতে! 
 
দাঙ্গাবাজ ভাঁড় রাজার
রাজত্ব তো হবেই শেষ।
তার চাপানো অনেক পাপের
বোঝায় ধুঁকছে সারাটা দেশ।
 
এবারকার শ্রাবণ বাইশে,
অর্পি বরং নতুন ফুল
এই শতকের ছেলেমেয়েরা,
শিখছে লড়াই, জবর ইস্কুল!
 
রক্তমাখা মুখের হাসি
রণভূমিটাই রঙ্গভূমি!
ছ্যাঁচোড়রাজের নবাবীকালে
প্ল্যাকার্ড হাতে নতুন রুমি।
 
রাজা অজৈব ময়ুরবিলাস!
উঠছে তেনার নাভিশ্বাস!

ব্যাঙ্গালোর
৭.৮.২৬

Sunday, August 2, 2026

ডাকঘর

ডাকঘর দূরে হোক হেঁটে যেতে দ্যুতিময় হই,
মেঘরোদে মানুষের ব্যস্ততার ঘষা খেতে খেতে
নতুন শহরে অচেনা দুটো ভাষার বিনিময়ে
হাসিতে বিরক্তিতে বুঝে উঠতে বাঁক, কানাগলি  
দুধাপ সিঁড়িতে উঠে লাইনে দাঁড়াতে কাউন্টারে। 

একটা ভরসা আছে এসব সবটা আমাদের।
এই দেশ, সরকার, প্রতিষ্ঠান, তার লোকজন
প্রতিদিন গুঁড়িয়ে যায় সে ভরসা বাস্তবতায়!
তুলি সে কাতর গুঁড়ো, আশা মাখি সঙ্কল্পসংকুল
পড়ে পাওয়া তো নয়! প্রপিতামহদের শোণিত।
 
ওটিপি না এলে বিতণ্ডা, নেট আপনাদের ঢিমে!
ভালো লাগে। আপনিও তো জানেন এপারে-ওপারে
স্যার, একই মানুষ!
                              ধুলোদুপুরে বাইরে আসি,
সিঁড়িতে ফুঁ দিয়ে ভাবি বসি। মালিকানা বলে কথা।

ব্যাঙ্গালোর,
২.৮.২৬

Saturday, July 25, 2026

সার্জাপুর জার্নাল - ১

এ শহরটা আমাদের নয়
তবে কখনো সেটা বুঝিয়ে দেওয়া নেই
এত বেশি কাজে ব্যস্ত মানুষ
নিজেদেরকে ঈষৎ দূর থেকে দেখছি
 
বাইরের দিক; রাত প্রায় এগারোটায়
কিছুটা অন্ধকার রাস্তা মাঝে মাঝে
গা ঘেঁষে বেরিয়ে যাচ্ছে বাস, ডাম্পার
রাস্তা ছেড়ে হাঁটছে এক বয়স্ক দম্পতি
 
এই তারা এক জীর্ণ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ালো
মোবাইলে কথা বলছে কারো সাথে
আজ মনটা হাল্কা, দেশে যুবরা উদ্দীপিত
মন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছে তাদের দাবিতে
 
খুব সাবধানে হাঁটছি, পাশাপাশি জায়গা নেই
সামনে-পেছনে, জলকাদা-আবর্জনা এড়িয়ে
খুব কম সুযোগ হয় এভাবে একসাথে একা
চায়ের তলানির চিয়াবীজগুলো প্রথম খেলে আ

ব্যাঙ্গালোর,
২৬.৭.২৬

Tuesday, July 21, 2026

২০শে জুলাই ২০২৬

নতুনের বার্তা আনছে রক্তাক্ত যুবমুখ
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল, এবারে ভারত!
পাকিস্তানও পিছিয়ে থাকবে না নিশ্চয়ই;
উপমহাদ্বীপ ফিরে পাক নিজের ভূগোল।
 
সামান্য তিনটে হক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার;
রাষ্ট্র-বদলের নয়, বেঁচেবর্তে গোলামির!
সেটুকুতেও নারাজ লুটেরা পূঁজির চর,
ফিরিঙ্গি পাঁকের দাঙ্গাবাজ রামনামীগুলো!
 
জুলাইয়ের মেঘলা আকাশ, ভেজা রাজপথ।
এমাসেরই শুরুতে শহীদ হন পীর আলি।
জলকাদায় থৈ থৈ হয় শহরটা আমার।
চিন্তা হয়, বন্যা-খরা রাজ্যে ঘনাবে কেমন।
 
ওদিকে রাজধানীতে শাসকের ধুন্ধুমার,
একহাতে পাজামার ফিতে, আরহাতে লাঠি।
শাহীনবাগে নারীরা, আন্দোলিত কৃষকেরা,
এবারে যুবরা কোথায়? ক্রোনোলজি মাস্টার?
 
ব্যাঙ্গালোর, 
২২.৭.২৬ 

Sunday, July 19, 2026

ইস্তফা

ইস্তফার এটাই যে মুশকিল।
কী করে দিই?
একটা হলেই আরেকটা।
শেষ তো নেই কেলোর কীর্তির,
আর কীর্তিমানদের!
সবারই পিছনে বধ্যভূমি;
কারোরটায় এখনো লোপাটের
জোগাড়যন্তরে ব্যস্ত চেলারা
 
রথযাত্রার দিনই সেই আবার
সাদাপর্দা টাঙিয়ে খুন করতে হল
দেশের যৌবনের উদ্যম, বিবেক!
জয় জগন্নাথঅ! জগন্নাথঅ!
একটু দেখ সামী!
আকাশে মেঘ।
রথের পাঁপর ভাজছে মালব্যের দল।
 
একটু দেখ!
বাকিটুকু দেখবে শাহজির ব্রিফকেস।
 
ব্যাঙ্গালোর, 
১৯.৭.২৬

Thursday, July 9, 2026

বারো বছর

আপন-খোয়ানো লোকটার মুঠোয়
খুনির শোকবার্তা বেজে ওঠা ফোন যেন
রোজ খবরে আমাদের সরকারটির
অমায়িক হাস্যমুখ
তার লাস্য শিরোনামগুলোয়
 
সারাক্ষণ সশংকিত থাকি
আবার আমাদের এ দেশটাকে না এক
নতুন দুর্বৃত্তায়নে জড়িয়ে নেয়
এ সরকার ও তার ঘাঘু লোকলস্কর
যেভাবেই হোক,
নির্বাচিত বলে কথা!
 
কোনো হত্যাকারীকে,
কোনো ধর্ষক, কোনো শিশুঘাতক,
কোনো শূদ্র- বা মুসলমান- বা
ক্রিশ্চান-বা বৌদ্ধ-উৎপীড়ককে না
মালা পরায়, আইন থেকে বাঁচায়,
জনপ্রতিনিধি বানিয়ে নেয়
 
অপরাধ আড়াল করতে
এনকাউন্টারে ঝাঁপিয়ে পড়ছে পুলিস
দ্রুত বদলে যাচ্ছে শিশুদের পাঠ্যসূচি,
স্বাধীনতাচর্চা থেকে দাসত্বচর্চায়
 
জোনাকির ঢেউয়ের মতন
মৃত ও উৎপীড়িতের চোখের মিছিল;
ওদের উন্নয়নী কালো হাওয়ায়
বারো বছর ধরে বাড়ছে
 
ব্যাঙ্গালোর, 
৯.৭.২৬

Sunday, June 21, 2026

ছোটোবেলার শহর

তোমার কাছেই যাচ্ছি বন্ধু এত দিনের পর,
সঙ্গে দুলাইন নতুন লেখা থাকবে না?
ছোটোবেলার সবকিছুতে হাতেখড়ির সখা
সফরপথের এটুকু মান রাখবে না?
তোমার কাছে যেতে পড়ছে অনেক নতুন রোদ,
সে রোদের কিছুটা তো গল্পে ছিল,
গাছগাছালির মাঝে মাঝে নতুন ঘরের দাওয়া,
মানুষগুলোর হ্রস্ব ছায়া তাকাচ্ছিল।
এই সফরপথটাই যে সেদিন দিল সরকার,
তিনটে জেলার বুড়ি ছোঁওয়া ট্রেন।
নতুন নতুন সহযাত্রীর দুপুরভর কচকচানি,
কুশি-প্রাঙণের লেখকটি জানতেন। 
তোমারও কি পাড়াগুলো আগের মতন আছে?
হাইওয়েটার গজরানি দিনরাতে।  
ভোরের আলোয় জলে খেলত সার্কাসের হাতি, 
বাবার হাতটা থাকত আমার হাতে।
এখন তো আর সেসব নেই, তুমিও বদলেছ,
ঠারে ঠারে কাজের রিশ্‌তা সব। 
তবুও নতুন বোল খুঁজছি ফিরে যাওয়ার সুরে,
খেলাশেষের সন্ধ্যার বৈভব।

২১.৬.২৬ 

Wednesday, June 17, 2026

হত্যার অস্ত্র

হত্যার অস্ত্রটা কি পেয়েছেন ধর্মাবতার?
সাজিয়ে যে সাক্ষ্যপ্রমাণ টেবিলে আপনার
 
রাখা আছে কাট্টা, তরোয়াল বিভিন্ন জিনিষ,
নিরীহ উপকরণ; আসল তো তার শিস,    
 
যার ভোজসভায় কাল রাত্রে গিয়েছিলেন,
ছবি টবি হল, বিশ্রম্ভালাপে যোগা, জিনসেং
 
সুযোগ্য সম্মান আপনার, অবসরোত্তর
তারি যে শিসটি হয়ে পাশবতার মোচড়,
 
ইতিহাসের পায়ের কাঁচা জখমে বাজছে,
সনাতনী হিংসার ক্রিমিকীটগুলো জাগছে,
 
আপনাদের আইন-ফাইনে ঢোকাচ্ছে ঘুণ!
মানুষের মুঠোয় স্বাধীনতার নষ্টভ্রুণ।
 
অস্ত্রটা মিলর্ড, আদিষ্ট প্রতিবর্ত মগজে –
ওই শিসটাই; বেজেছিল আপনারো ভোজে। 
 
১৭.৬.২৬

Monday, June 8, 2026

চাহনি

খুব বেশি হলে নিজের শহরটার সন্ধ্যারাতে
গলিতে ঢোকার আগে কবেকার চকিত চাহনি
এর বেশি দৌড় হয় নি কাব্যের রহস্য আখ্যানে
গর্বোন্নত কারো গ্রীবাভঙ্গিমায় পিছলেছে আলো
প্রাচীন নায়িকাদের বরং দাপটে খুঁজেছি নাট্যে
চাতুর্য্যে, জবাবি শঠতায়, রাতে নগর প্রাকারে
তবে সে চাহনি ভিখনাপাহাড়িতে বা মিঠাপুরে
জ্বালিয়েছে প্রতি বার, স্মৃতি বলতে পারেনি সে কে
কেনই বা তাকালো ওভাবে, স্মিত হাতছানি হয়ে
বহু শতকের সিগরেটে আচ্ছন্নতা কাটিয়েছি
ভেবেছি দেখা তো হবে নিশ্চয়ই দিনে মুখোমুখি
কথালাপে বুঝে নেব কেন দৃষ্টি তার মনে হয়
সমাপতিত দৃষ্টি আরো অনেক যাপিত যুগের
হয়তো মুহুর্মুহু ভাঙার শব্দ হবে চারদিকে 

৯.৬.২৬

Sunday, June 7, 2026

মাপ

প্রকৃতি শাস্তি পাবে, যেহেতু সে তার
কিছু পাহাড়কে
             করতে পারেনি
                  উঁচু একশো মিটার
শাস্তি দেবে দেশের সরকার!
মাটিতে মিশিয়ে দেবে।
ঠিকেদারকে বেচে দেবে পাথরকুচি।
বিল্ডারকে বেচে দেবে জমি।
 
সরকারমশাই!
আরেকটি ব্যবস্থা নিন কাল!
প্রকৃতিকে শাস্তি দিন, যদি সে তার
কিছু নদীকে
           না দিতে পেরে থাকে
স্রোত ঘন্টা প্রতি কিছু একটা
                        কিউবিক মিটার!
শাস্তি দিন আবর্জনা ফেলে
করে তুলুন সমতল,
ছেড়ে দিন জমির বাজারে,
দালালদের হাতে।
তারা বানিয়ে নেবে খতিয়ান,
দরকারে পুড়িয়ে ফেলবে মানচিত্র পুরোনো।
 
এভাবেই একটি দেশের
আপনি পাঁচ বছুরে সরকার
লক্ষ-কোটি বছুরে আমাদের মা,
প্রকৃতিকে শাস্তি দিয়ে চলুন
তার পাহাড়, নদী, পুকুর, জঙ্গলের,
সুবিধেমতো বিভিন্ন মাপ ধরে!
সময় আছে এখনো আমরা
আপনাকে মাপার মতো হয়ে উঠতে পারি নি।
সাধে কি আর
আপনাদের দেওয়া মাপের মধ্যে না বাঁচার
শাস্তি পেয়ে চলেছি প্রতিদিন?

৭.৬.২৬

Saturday, June 6, 2026

ভাষা

প্রশ্ন সেটাই, না হোক মাতৃভাষা,
কোনো ভাষাকে ভালোবাসি কিনা।
পড়েছে পা
              কোনো ভাষার শব্দের
                    বাতিল বানানের
জলভরা গর্তে?
জল ছিটকে ভিজিয়েছে মুখ,
আর হাসিতে ফেটে পড়েছেন
           কাঠের বেড়ায় হাত রাখা
               এক ভিনদেশী দিদা?
বাঙালি ছেলের পাঞ্জাবি বৌয়ের
ইংরেজি নির্দেশে কাজ সেরে
                    রুমানীয় প্রবীণা,
বাড়ি যান মিলানের সন্ধ্যায়
ফেসবুকি বন্ধু আমার,
শুভেচ্ছা পাঠান রুমানীয়,
আমিও গুগলের মদতে সেটা বুঝে
রুমানীয়তে তাঁকে ধন্যবাদ বা
প্রতিশুভেচ্ছা জানাই।
মির্চা এলিয়াদের বইটা আমি পড়ি নি,
ভাস্কো পোপার জন্যও রুমানীয় শিখি নি,
প্রবীণা আমাকে
না, লজ্জা বলব না
তবে সমস্যায় ফেলে দেন।
 
৬.৬.২৬

থিম্ফু-চু

তোর্সার খাত থেকে কুড়িয়ে আনা পাথরটার
সারা গায়ে কালো কালো
মশা তাড়ানোর কয়েলের দাগ।
এছাড়া আর কিই বা হতে পারতো!
যে পাথরটা এনেছিলাম
সেটা আমাদের স্মৃতিচিহ্ন ছিল
তাই এমন হয়ে গেল অপব্যবহারে,
নদীর হলে হতো না।
নদীর স্মৃতিচিহ্ন কি আনা যায়?
সে তো তার তীরের জনপদগুলোর
হয়ে ওঠার রোজনামচা, যেমন
থিম্ফুর বিকেলে, গোলাপ বাগানের মাঠ।
তীর ছোঁড়া খেলায় প্রতিযোগীদের
উৎসাহিত করা, উত্যক্ত করা বর্ণময় নারীদের
গান। তার প্রতিধ্বনি
চারপাশের পাহাড়ে আর
                সেটা শুনতে শুনতে
থিম্ফু-চু নদীর
খিলখিল হেসে নিচে নেমে যাওয়া
পরবর্তী জনপদের রাতে!
 
৬.৬.২৬

Wednesday, June 3, 2026

নতুন শতকে লাল ঝান্ডা

লাল ঝান্ডার গল্পগুলো
সমতলের,
পাহাড়েরও
             বসতগুলোয়
         নতুন শতকে বাড়ছে।
বিপর্যয়ের ভাঙা গম্বুজ
ইতিহাসের,
হৃদয়েরও,
              পিছনে ঠেলে
          রোদের নজর কাড়ছে।
 
একটা কথা মনে রাখার
গোড়া থেকেই
বলত ঝান্ডা,
               শাসককুলের
              নতুন যুগটা ধাপ্পা।
ধনকুবেরের রক্ষী হয়ে
জাগবে ফের
ধর্মধ্বজা
               দাঙ্গাবাজরা
        দেখবে সাপের পাঁচ পা।
 
সময়টা খুব কঠিন, অথচ
প্রযুক্তিরও
বিস্ময়কাল;
             ছাড়াচ্ছি বসে
         রুটির ডেয়ো পিঁপড়ে।
ঠিক এখনই ঝান্ডার লাল
আলো করছে
নতুন মুখ,
              ধন-দম্ভের
           চালটা দিচ্ছে বিগড়ে।
 
৪.৬.২৬

Monday, June 1, 2026

এদেশের প্রতিটি শহর

এদেশের প্রতিটি শহর
গড়ে কিছু মানুষ যাদের
চোখে সেই শহরের জ্বর।
 
কেউ বা পাহারা দেয় প্ল্যাটফর্ম, ময়দান,
কেউ হেঁটে পাড়ি দেয় রাষ্ট্রপতি ভবন,
কেউ বা চায়ের ভাঁড়ে
হঠাৎ কপাল খুঁড়ে
বেবাক চালিয়ে যায় তিন আঙুলে স্টেনগান।
কেউ বা দাঁড়িয়ে থাকে উদাসীন, ঝিম মেরে,
কেউ বা সাংবাদিক প্রলাপে দেয়াল ভরে
                  মানবাধিকার আর তদন্তকমিশন
                  নিখোঁজ মেয়ের নাম
                  ভুয়ো দলিলের দাম
                  বিধায়ক-আবাসের রাতগুলো ফাঁস করে।
কেউ বা ব্যাঙ্কে গিয়ে তিন লাখ ধার চায়,
কেউ বা পুলিশ-জিপ দেখে পেছন নাচায়,
কোর্টের গেটে কেউ শোনায় শেষবিচার
বিচারক আমলা ও মন্ত্রী সান্ত্রীদের
কেউ বা নগ্ন হয়ে না দেখিয়ে ছাড়ে না
বীভৎস রাত ভরে দয়া তার স্বামীদের।
কেউ বা একলা খুব, বারোমাস শীতে কাঁপে,
রাতের বিজন পথে যেচে সখ্যতা চায়,
কেউ বা ধর্মপ্রাণ, হঠাৎই মোড়ের কাছে,
আকাশ প্রণাম করে গলিতে পালিয়ে যায়।
 
দেশভরা এই মানুষেরা
নাগরিকদের কাছে নিজেদের ইতিহাস
                  জানাতে দেখায় এক দেশ
বাঁচার দ্বন্দ্বে জর্জর।

৪.২.৮৩

 

ভাষাস্মৃতি

অনুভব, তবু নিরেট, হয়ত দেয়াল! খনি বলেছিল।
ড্রিল কর, গোঁজো বিস্ফোরক টিউবগুলো প্রশ্নের,
কাঁচা আকরশক্তিতে ভরা ওয়াগন আনো বর্তমানে।
 
মেলাও ভাবনার প্রতিশত! বলেছিল ধাতুশাল।
কিছু উৎপ্রেরক, কিছু শুদ্ধিকারক, কিছু দেয়
প্রয়োজনমত দৃঢ়তা, নমনীয়তা আর সহ্য ক্ষমতা।
চুল্লিটা জ্বলছে জীবনের!
জ্বলছে মাথায় বেঁচে থাকা, অভিশপ্ত বেঁচে থাকা।
আরেকটা নতুন চুল্লি চার্জ কর লড়াইয়ের তার উত্তাপের কাঁটায়
মিশেল গড় সত্ত্বার!
 
হেসেছিল কামারশাল দেড়শো মোটরের গর্জন ছাপিয়ে।
পাঞ্চিং নোজটারও দরকার পড়ে হে!
রকমারি হাতুড়ির! আবার কুল্যান্টেরও মাঝে মাঝে!
 
নির্মাণ কথা বলেছিল। সাথে এসেম্বলি-লাইন।
গঠন! সংগঠন গড়ে তোল রক্তের সঞ্চারে ও অভিসারে!
কাঠামো, তার জ্যামিতি ঘিরে গ্রন্থনা,
গতির কোষ ও প্রবাহ শরীরে; স্বাধিকার অথবা ক্ষমতার,
শিক্ষা অথবা ভালোবাসার, গানের,
অথবা নিছক দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাওয়ার সংগঠন!
 
তোমরাও তো কথা বলেছিলে! রুজিখেকো যন্ত্রগুলি!
বলেছিলে অমলিন কতকাল শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে?
গড়ছ কেন্দ্রীয় কম্যান্ড, বিপুল হিসেবনিকেশের,
বৈজ্ঞানিকদের ব্যক্তিগত সচিব, কোনোদিন
গড়বে চকখড়ির ভায়োলিন, ব্ল্যাকবোর্ডের পিয়ানোকর্ডিয়ন
স্কুলে যাবে পৃথিবীর শেষ শিশুটিও।
শেখাতে চেয়েছিলে তোমরাও
সংহত গণিত, কত জরুরি ক্রিয়ার!
 
দাঁড়াও হে তোমরা!
এত ভীড় কবিতায় ধরা কি সম্ভব?
আপাততঃ পরিবহণের দিকে যাই।
ক্রীতদাসবাহী জাহাজের খোলেও একটা ভুগোল
আজ তার রক্তের ইতিহাস হয়ে আছে।
 
গুরুজনেরা ধমকেছিলেন, বলি, টিঁকবে তো?
যা গড়তে চাইছ?
বলি, রক্ষণাবেক্ষণ আর যোগান! ভুলে গেলে?
ভুলে গেলে যে ঘুমের জন্য লাগে গ্যাংম্যান?
বর্ণমালার জন্য টার্বাইন আর জলাধারের কর্মীদল?
গোধুলির জন্য প্রহরী?
আর নীলকন্ঠ কম্পোজিটর যে বন্ধুত্বের ডায়ালটা গড়ে প্রতিদিন?
বলি ওই যে জীর্ণ হয়না কখনো, আগুনে পোড়ে না,
ওটারও তেল লাগে, গ্রিজ!
বলগুলো বদলাতে হয় মাঝে মাঝে বেদনারও বেয়ারিংয়ের
নইলে শক্তির না দিয়ে নিছক প্যাঁচাল হয়ে ফেঁসে যায়।
 
অফিস বলেছিল, এমনিতেই একটু বেশি বলি, নতুন কী বলি?
সময়ের ডাইরি রাখা যদি ঠিক মত হয়
কথা আর কাজের ফারাকে জীবনে কম লাগে ঘুণ।
ঝুঠো শিলমোহর ছাপিয়ে আয়না হয়ে ওঠে দস্তাবেজ। 

তাও তো পূর্ণতা নেই! রক্তের পুঞ্জিভূত ধুলোয়
ঋতুদের বিভাজনরেখা অস্পষ্ট করছিল কর্মহীনতা, বেকারি।
 
সবশেষে কথা বলেছিল চাষ।
দেশটা দুধ হয় হে, দুধ! পরিশ্রমী সংকল্পের শিষে!
চুপ করে শোনো তার নীরব উৎসার!
 
কবিতা কি শুনেছিল?
 
৩১.৮.১৯৯১

 

 

ভারতবর্ষ বাড়ছে

আমার এক স্বাধীনচেতা মায়ের বিয়ে
কালো বলে যখন এক
দোজবরের সাথে হয়েছিল
তখন যারা ওই কালো ডানপিটে মেয়ের
দুঃখের ঘর ভেঙে দিতে
লিখেছিল বেনামি উড়ো চিঠি,
বেশ্যা বলতে ছাড়ে নি
তাদেরই আজ রমরমা।
 
ভারতবর্ষ তাই বাড়ছে
তিরতির করছে বাড়,
রক্তের ভিতরে অজানা কোষপুঞ্জের মত
কোন দিকে কতটা হবে বিকৃত বিস্ফার
কবে ফিরব নদীর কাছে
মাটির কাছে
প্রশ্ন কোরো না।
 
কোথায় কী নতুন প্রসঙ্গ ঢুকছে প্রাচীন গীতিকায়
কেমনভাবে ঢুকছে
মিশতে হবে হাওয়ায়;
ওবি ভ্যান শুধু অকুস্থলে ঘোরে।
 
৯০-এর দশক

দ্বিধা

হদ্দ কাজ-পাগলী মেয়ের
কাব্যপাঠে করলে এমন ভর!
দ্বিধা! তোমায় চিনলাম!
শিল্পে না হও, সততায় সুন্দর!
 
থাকো প্রথম প্রণয়-নিবেদনের স্বরে
আবিষ্কারের অনির্ণয়ের বন্ধ ঘরে
অনিশ্চিতের ঠিকানাতে ওড়াও চিঠি।
 
জীবনসাথীর কুড়িয়ে দিঠি
সেও চলেছে ক্লান্ত সাঁঝের
বীথিতে তার শব্দ-দোলন,
কাটাকুটি, মনন-প্রয়াস
 
দিনযাপনের বাচালতার
কঠোর অনভ্যাস।
দ্বিধা! নও সত্যে, তবু স্বভাবে সুন্দর।  
 
পাটনা
১৬.৯.২০০৩

সে ও তার চেয়ার

সে নয় তার চেয়ার বলছে!
সে তো সবার সাথেই চলছে!
যেথায় বলবে, যেতে রাজি।
চেয়ারটাই তো আসল পাজি!
চেয়ার হল রাষ্ট্রযন্ত্র।
সে তো বরং সমাজতন্ত্র!
 
কিন্তু চেয়ার দেয় মাইনে।
চেয়ার-স্ত্রোত্র আছে আইনে।
চেয়ার বাঁচিয়ে যে সাহায্য
করতে বলবে হোক অন্যায্য
সব সে তোমার জন্য করবে;
পকেট থেকে চাঁদা ভরবে।
 
চেয়ার গেলে খাবে কী সে?
জর্জর এই বাঁধন-বিষে
কোথায় যাবে পায় না কূল
চেয়ারটি তার চক্ষুশূল!
 
৩১.৭.২০০৫এর কাছাকাছি