Showing posts with label Bhinshohore. Show all posts
Showing posts with label Bhinshohore. Show all posts

Friday, April 12, 2024

আউটপোস্ট

সৈনিক সে!
তাকে ভালোবাসি!
যুদ্ধে এগোতে জানে
নিশ্চয়ই।
তবে তার চেয়ে অনেক
বড় সত্য, সে
শান্তি গড়তে জানে।
 
আটার র‍্যাশন নিয়ে
শিবিরে পৌঁছে
পুরোনো ভাঙা ফিল্ডগানের
গা থেকে খুলে আনে
দুটো স্টিলপ্লেট,
নদির জলে ধুয়ে
আউটপোস্টের পিছনের
পড়ন্ত বেলার দিকে তাকিয়ে
ভাবে,
একটা হল তাওয়া
আরেকটা হল চাকি
ভাঙা পাইপটা হোক
বেলন
দুটো পাথরের ফাঁকে
শুকনো কাঠে-ঘাসে
ধরানো আগুনে
তার রুটিতে ধরে রঙ;
 
ছুটির বেলায়,
\ঝাঁটার দুটো কাঠি দিয়ে
উল বোনে সে!
লড়াইগুলো থামে না;
অনুক্ষণ যোঝার স্পর্ধায়
প্রৌঢ়ত্ব খিলখিলিয়ে ওঠে
রোদে মায়ের ছোঁয়ায়
 
সে জানে, সে একা নয়।
কেউ একা নয়,
কোথাও।
 
ব্যাঙ্গালোর, ২০১৯

Sunday, November 6, 2022

প্রশ্নকুসুম

স্বপ্নকে গলা টিপে মারলে
হয়ে যায় সে হাজার প্রশ্ন।
প্রশ্নেরই শীষে দোলে পৃথিবীর
আশ্বাস স্বপ্ন! মৃত নও!
 
পতাকার রঙে শুধু দেখো না,
লড়াইয়ের ঠাটে লাল বাড়ছে।
প্রতিবাদী শানে, সুফলনে মূল
স্বপ্নের সন্ধানই থাকছে। 

স্বপ্নের প্রশ্ন উপস্থিত
ধর্ম-বর্ণ-বিষদংশে,
স্বজনে শত্রু খোঁজা যুবটি
জানেনা, এ তন্ত্রেরই সঙ সে।

বাঁচার শিকড়ে আজ স্বপ্ন
প্রশ্নকুসুমে ফুটে দুনিয়ায়
অন্যায় চিনছে, রুখছেও,
মুনাফার তন্ত্রের পরিখায়।
 
ব্যাঙ্গালোর
৬.১১.২০

  


Saturday, July 16, 2022

সিঙাড়া

ভাঙা বেঞ্চে বসে এক 
আটপৌরে, অনেকটাই বুড়ো,
পরনে ম্লান সাদা লপেটা, কুর্তা,
এক প্লেট সিঙাড়া-চাট 
আস্তে আস্তে খাচ্ছেন।
চামচ দিয়ে কেটে কেটে 
একেকটা ছোট্টো টুকরো
ঠোঁটে টানছেন, 
স্বল্পদন্তি মুখের 
এক দিক থেকে আরেকদিকে
পাঠাচ্ছেন, 
আবার ফিরিয়ে আনছেন।
গিলতে ফুলে উঠছে গাল, 
গলার পেশিগুলো।...

শরতসন্ধ্যা। 
উৎসব-ঋতুর আবহাওয়া। 
বাজারে ঢুকবার মুখে 
চিরাচরিত যানজট।
পুরোনো স্কুলটার পাঁচিলঘেঁষা 
ট্রান্সফর্মার, সামনে আবর্জনা,
তার সামনে সার্বজনিক 
পুরূষ প্রস্রাবখানা,
তারই সামনে এক ঠেলা-দোকান -
বিক্রি সিঙাড়া, কচুরির।...

একে একে সবাই এসে খাচ্ছে, 
চলে যাচ্ছে,
বুড়োর আর 
শেষ হচ্ছে না খাওয়া। 
দোকানদারেরও তাড়া নেই;
হাজার হোক, 
তার গ্রাহক-পাড়ারই দাদু তো!
বাড়িতে খাওয়ার 
কষ্ট না হোক
একটু চাইতেই পারেন মুখরোচক!
একটু লোভ হতেই পারে।
পেট খারাপ?
হলে হবে!...
বাঁচা-মরা তো লেগেই আছে। 

যানজটে ফেঁসে থাকা টোটোর 
চালক ছেলেটিও
দৌড়ে কিনে আনল দুটো সিঙাড়া।
পাশে বসা আমার দিকে 
এগোলো ঠোঙাটা,
‘খাবেন, কাকু?’ 

ব্যাঙ্গালোর
৫.১১.১৯



Tuesday, June 7, 2022

হল্ট

ওফ্‌! বিরক্ত করে দিয়েছে এই আভাসী জগৎ।
জানি, এভাবেই সার্বভৌম হয় নতুন।
উন্নয়ন, প্রযুক্তি এসব অমোঘ –
কথাগুলো ব্যবহার করি আমিও।

তবে আগে এই রোববার,
সওয়ারি গাড়িতে চড়ে পরের
হল্টটায় নামবো।

হল্টটা তো আরো নতুন, তৈরি হল
ওই আভাসি দুনিয়া জেঁকে বসার
অনেক পরে, বলতে ওই
হোয়াটস্যাপ গ্রুপটুপও চালিয়ে...

লড়ে, কাঠখড় পুড়িয়ে,
সামাজিক বুদ্ধি ও স্থানীয় নেতার 
নেতাগিরি তোয়াজ করে
ট্রেন দাঁড়াতে বাধ্য করল বসতের মানুষেরা।

প্ল্যাটফর্মও ঠিক তৈরি হয়নি;
মাটির রাস্তা এঁকে বেঁকে গিয়ে হারিয়েছে।

হাঁক দেব।
ভূলে যাবো যে বহুদিন দেখা হয়নি।
সেও ভুলবে, ওই আভাসি দুনিয়ারই
যন্তরটা কানে লাগিয়ে বেরুতে বেরুতে।

“সাবধানে আসবেন!
বৃষ্টিতে পিছল হয়ে আছে উঠোনটা।”
পিছল উঠোনের আছাড় সামলাতে সামলাতে
গল্প শুনবো নতুন বসত গড়া
এবং তাতে হল্ট বসানো মানুষদের সাতকাহন।


ব্যাঙ্গালোর
১৬.৭.২০


Wednesday, April 20, 2022

হাঁটাপুল

রোজ দেখি দুর্ঘটনা, পেরোতে রেললাইন
কে জানছে এ স্টেশনে, থ্রু কোন্‌ ট্রেন !  
শেষে এল এপারওপার নতুন হাঁটাপুল।

মাটি ছেড়ে কিছুক্ষণ আকাশ ধরে চলা
এইতো উন্নয়ন! কবে প্রজার দাবি মেনেও
সাজায় না রাজা তার অবদানের গুল?  
 
সাঁঝে নামছি, সভা আছে, পুলের আঁধার দিল
নানান চিরকুটের সাথে একটি দরকারি
চাকরি পেতে ফোন করুন (পাঁচটা নম্বর) ...
 
ফেলতেই পারতাম তবু আলোয় মেলে পড়ি।
কাজ ইজ্জত বলে কথা, গুঁজে রাখি বুকে!
কাউকে দেব চিরকুটটা? পৌঁছে সত্বর?
………

ঠান্ডা মেঝে দুদিনের বৃষ্টি-স্যাঁতসেঁতে
কষ্ট ঢাকবে নিজের মত পুরোনো শহর
মা বোনে পরিবারের অভাব গেঁথে মিল!   
 
রাত বাড়বে, দরজা খোলা, ফিরবে একটু পরে
ঘরের আশা, ভাষা সবার, সোনার সন্তান
চিরকুট দেখালে যদি দেখা বান্ডিল?
 
ব্যাঙ্গালোর
১৯.১২.২০



Saturday, March 5, 2022

একটি সাদা কাগজের সামনে

একটি সাদা কাগজের সামনে বহুক্ষণ ধরে বসে আছি।
যদি পদ্য লিখি, কালো কালো অক্ষরে, শব্দে, বাক্যাংশে,
কাগজের বাঁদিক ধরে ফুটে উঠবে তটীয় ভুগোল পাহাড়,
সিঁড়িক্ষেত, বালুকারাশি
মাঝেমধ্যে স্তবক শেষ হলে ফুটবে নদীপথ ...
মিশবে ডানদিকে, শ্বেত সফেন সমুদ্রকল্লোলে;
 
আদৌ আছড়ে পড়বে কিনা তটে, ফিরে যাবে কিনা ফসফোরাস রেখে সেই সমুদ্র,
তা কিন্তু বলবে না পদ্যের ধরণ ছন্দোবদ্ধ না মুক্ত, সমপর্ব না ভাঙাচোরা ...
বলবে নিহিত প্রাণ, যা পদ্যেরই প্রাণ, যেখানে
পাথরও ততটাই প্রাণবন্ত যতটা ঘাস, মৃত মাছ এবং জীবিত মানবশিশু

যদি গদ্য লিখি
তখন আবার এই তটীয় ভুগোল বা সমুদ্রের প্রশ্ন থাকবেনা,
চিহ্নিত হবে মার্জিন যা পদ্যেও ছিল, কিন্তু উপেক্ষিত;

এই মার্জিন শব্দটি আবার ভিন্ন অর্থ নেয় সমাজের আলোচনায়, ইতিহাস,
অরণ্য বা নদী ব-দ্বীপ থেকে উঠে আসা অবিচারের খবরগুলিতে,
যদিও তার সাথে লিখিত গদ্যটির কোনো সম্পর্ক
থাকুক বা না থাকুক
কিছু যায় আসে না তাতে

অবশেষে থাকবে সাদা বা ব্যর্থলেখায় ব্যবহৃত, নষ্ট কাগজ
খুব বেশি হলে নৌকো বা উড়োজাহাজ বানিয়ে
শিশুকে খুশি করতে পারি কিছুক্ষণ, তাও যদি সে
আদৌ পছন্দ করে এসব বোকা-বোকা খেলনা ...
অরিগ্যামি আমি শিখিনি।

শুধু গন্ধের স্মৃতি আছে
ছোটোবেলায় পড়া প্রবালদ্বীপএর কাগজের
টেক্কামার্কা দেশলাইয়ের মোড়কের
ট্রেনের পাঞ্চ টিকিটের...
আর স্মৃতিচর্চা আমি যতটা পারি পরিহার করে চলি আজকাল।  

ব্যাঙ্গালোর
৬.১১.২০


 

Thursday, August 5, 2021

প্রেমচন্দ

প্রেমচন্দকে আমি বাংলার করে নিয়েছি, যেমন শরতকে
শুধু হিন্দি কেন, ভারতের সব ভাষা নিজের করে নিয়েছে।
এবং করতে কোনো অনুবাদের সাহায্য লাগেনি; অবশ্য
আমি নিজে যে আজন্ম ধূর বিহারি, সেটাই কারণ। আর
বাংলার করে নেওয়া মানে তো বাংলার চোখে তাঁকে দেখা!

অনেকে শরত বাংলার বলে পেছন বাজিয়ে ঢাক পেটায়, 
অনেকে প্রেমচন্দ হিন্দির বলে ঢোল – ওই একই ভাবে!
বাংলা তো পুরো দেশেরই নতুন চেতনার প্রথম রণভেরী!

হিন্দিই বা কী? বা বলা যায়, হিন্দভী, হিন্দি-উর্দু স্রোতধারা,
সে তো বাংলার মাটিকেই দিয়েছিল তার অনির্বাণ শহীদ!
ঠিক যে সময় বিদ্যাসাগর নামের সূর্যটা অদূরে জ্বলছিল!

প্রেমচন্দকে বাংলার করেছি নিজের গরজে, কেননা রোজ
দরকার পড়ে আমার তাঁর গড়া মানুষগুলোর সাথে আলাপ,
ঘাম-ধুলোয় মজে সেঁটে সেঁটে বসে ধার করা রক্তের গরম,
তাত লাগে ওই ছড়ানো গাঙ্গেয় নিসর্গের, ঈষৎ কম সবুজ,
লাভবান হই জমিদার, কুলীন ভদ্দরলোক, শহুরে বজ্জাত-
গুলোকে প্রতিদিন গাঁথতে মাথায়, যেমন ‘হালদার গোষ্ঠি’  
কবির। বাংলা, হিন্দি, উর্দু, তিনটেতেই যে গেড়ে আছি কনুই!

ব্যাঙ্গালোর
৩১.৭.২১ 



টিকটক

একটা ছোট্ট টিকটক ভিডিও দেখছি ফেসবুকের হোমপেজে।
ক্ষেতের হাঁটুজলে দুমুঠোয় ধানচারার গোছা নিয়ে এক মেয়ে
হঠাৎ শুরু করল নেপথ্যের গানের সুরে শরীর দুলিয়ে নাচ।
পাশ থেকে দিদা এসে গালে মাখিয়ে দিল আনন্দের কাদা।

নাচটা অবশ্যই তার নয়, ফাউ পাওয়া লুটেরা উন্নয়নে, তবু 
শরীরের উদ্দাম ঢেউয়ে এক লহমায় তার বেঁচে থাকার 
শক্তি ছড়িয়ে পড়ল জলে, মাটিতে, ধানচারায় আর আকাশে।

এটা সেই দেশেরই গল্প যেখানকার ভীত দুর্বৃত্ত শাসককুলের
প্রতিটা দেববাণী তাদের মহার্ঘ্য জীবনের পাজামা খুলে দেয়।

ব্যাঙ্গালোর
২৪.৭.২১





লকডাউনে বৃষ্টির পর বিকেল

এমনকি দিকচক্রবালে ঘুরে ঘুরে উড়তে থাকা পাখির
ঝাঁকটির কথাও, শুরু তো করতে হবে ছাতেরই 
কার্ণিশ থেকে, যার এক প্রান্তে আমি ও অন্য প্রান্তে বয়স্কা 
স্থূলাঙ্গী মহিলা দূরত্ব রেখে হাঁটছি – 
দুজনেই জানিনা এই হাঁটার শেষ
কিসে বা কবে হবে, কিভাবে। এবং সিঁড়িতে শব্দ করে
উঠে এল তরুণী, “আমাদের কল করার জন্য ধন্যবাদ, একটি সুন্দর
দিন কাটান স্যার”, বাড়ি থেকে কাজ চলছে তার
কম্পানির, আপাততঃ মোবাইলে, ঘরে ল্যাপটপ খোলা নিশ্চয়ই।
দূরত্ব বজায় রেখে সেও, বা বলতে গেলে তার খোলা চুল, তন্বী ভঙ্গিমা
মাত্রা যোগ করল পাখির ঝাঁক ও আকাশের আলাপচারণে। 
একটি ঘুড়িও উড়ছে – কংক্রিটের অন্তঃস্পন্দ জঙ্গলে 
কোথাও আছে লাটাই ঘোরানো ছেলেটি।

ব্যাঙ্গালোর
৪.৬.২১



Tuesday, August 3, 2021

বিদ্যাসাগর ও এঙ্গেলস

বাংলা মায়ের বিদ্যাসাগর,  
বিশ্বশ্রমিক-নেতা জার্মান কিসের মিল!
জন্মসালটা ছাড়া তাদের,
সব ভিন্ন, দুই জগতে কালের খিল।
 
যদিও ঐ দুজনেরই
পড়ি আমরা বর্ণমালা,পাঠ্যবই!
এক বর্ণে মাতৃভাষা,
অন্য বর্ণে গড়তে শিখি ভোরের ছই।  
 
এক পাঠ্য ছিল বলে,
মায়ের ভাষায় লিখে বুঝি যুক্তিপথ।     
আর পাঠ্যে সাঁঝের সভায়
জাগে প্রাণের সংহতিতে ভবিষ্যৎ।
 
সিংহশিশুর জেদটা বরং
ফ্রেডের বন্ধু মূরের মত একগুঁয়ে।
মূর তবু বন্ধু পেলেন,
এঁড়ে বাছুর একাই গেলেন বীজ রুয়ে।

ওদিকে ওই তুখোড় ফ্রেড,
বন্ধু-বিনে একাই ভরে অস্ত্রাগার 
দিয়ে গেলেন সারা বিশ্বে
নয়া শতক দেখলো সে স্বপ্নের জোয়ার।      

ব্যাঙ্গালোর
৩.৮.২১

 

ব্যাঙ্গালোর
৩.৮.২১

 


Monday, July 12, 2021

পিছিয়ে গিয়ে

বাঁচার যুদ্ধে সেদিন
বাধ্য হয়েই তারা পিছিয়েছিল।
যেতে যেতে ... শক্তভাবে, নতুন
ঐক্যে ঘুরে দাঁড়ানোর আড়ালটা যে পেল
প্রাচীন এক অধিত্যকার রোদে,
দেখল হঠাৎ আগে যখন পেরিয়েছিল এ পথ,
চোখ রাখেনি শত্রু তাদের ধ্বংসের দ্রুততায়,
                            ছেড়ে গেছে রসদ
অরণ্যে, জনপদে! ...

সরাতে সে স্তুপ, পেল শব্দ।
উঠল মানুষ, দেখা গেল জীবন ভিতরকার
নিজেদের, শত্রুদেরও পরিত্যক্ত রসদ পেতে গোঠে,
জল খেল তারাও, করল সাথে আহার
ভরসা দিল; ব্যথার কথায় ভর,
পিছিয়ে থাকার অনেকটা কাল, দীপ্র নিদাঘ!
গল্প শুনে, গান ... দুদলেই অবাক
একই তো রক্তের সংরাগ! 

এবার তারা একসাথে
এগোল এক ভিন্ন অভিযানে।
পেছোল বন গভীর শত্রুতাড়ায় নয়
আছে নাকি আরো স্বজন, নিভৃত আশ্রয়ে?
ঋতুর গুল্মে ঢাকা তাদের বিস্মৃত সন্ধানে
খুঁজেও পেল বাতিল হওয়া  
কারখানার এক যন্ত্রঘরে
বড় হওয়া শিশুর দলের খেলায়!
জলপ্রপাত-ঢাকা শিলার গোপন কন্দরে! 

ভাব, এত জরুরি শক্তি,
বাঁচার যুদ্ধে জয়ের প্রাণপাখি,
ছেড়েই গিয়েছিল?
পিছিয়ে আসাও জরুরি ছিল নাকি?


ব্যাঙ্গালোর
২.১১.২০



Sunday, July 11, 2021

শিল্পী সে নয়

পোস্টার লিখতে রঙ লাগে মেয়েটির
মনে। আর অক্ষর করে তাকে সুস্থির।
 
শিল্পী সে নয়, শুধু কথা, দেওয়ালে চাই,
অথবা নিজেরই হাতে, রাস্তায়।
অক্ষর আঁকাবাঁকা, রঙও আলতা, কালি,
তুলি নয়, তুলো-কাঠি ঘষ্টায়।
 
কবে কি লিখছে তারা, কাগজসুদ্ধু সব
খেয়ে নেয় রোদ্দুর, বৃষ্টি।
শহর স্মৃতিতে রাখে রোদ্দুরে, বৃষ্টিতে
প্রতিবাদী তাদের সে দৃষ্টি।

পোস্টারে হাতযশ ভালো তবে তাথেকে
চিন্তার রস জাগা সার-বুঝ।
একসাথে রাতভর ধুলো, ঘামে জেগে থেকে
গড়া যায় শব্দের কার্তুজ।
 
বস্তুতঃ এও এক বসে আঁকো খেলা।
দাপুটে মনের শিশু জাগিয়ে তোলা।

ব্যাঙ্গালোর
৭.১১.২০



উনুন

পরিত্যক্ত বাড়ি
ভাঙা শুরু হলে
অনেক দিনের পর,
একটি উনুন জ্বলে।
ভাঙায় খাটতে আসা
মজুরেরা সাজে,
উনুনটি, ভাঙা
ইঁট লাগিয়ে কাজে।

ভাঙন বিক্রি হয়
ইঁট, কপাট গুনে ...
নতুন বাড়ি ওঠে
মাটির গভীর খুঁড়ে।
এবারও সেই উনুন,
তবে ভাঙায় নয়,
গড়ায় আসা মজুর
জ্বালায় দুপুরে।   

সাতমহলা দাঁড়ায়।
উনুন যায় নিভে।
ইঁট কটা রে
কাজের শেষ খেপ
সিঁড়ির প্রথম ধাপ।
পলেস্তারা সরাও,
দেখবে প্রথম ধাপে,
কয়েকখানি ইঁটে,
কাদের রান্নাঘরের
কালির ছে ছাপ।

ব্যাঙ্গালোর
৫.১১.২০



 

Friday, July 9, 2021

সুহৃদ পরিষদ এবং হেমচন্দ্র গ্রন্থাগার

মহামারীর অস্বাভাবিক এই সময় পেরিয়ে
মনে থাকবে কি অধুনালুপ্ত সুহৃদ পরিষদ
এবং হেমচন্দ্র গ্রন্থাগারে এক সন্ধ্যার যাপন?
যেটা সন্ধ্যা ছিল না, ছিল সাবেক যুদ্ধপ্রবণতা
একঝাঁক ভিন্ন বয়সী তারুণ্যের ধরে রাখব
গ্রন্থাগার; জেগে উঠবে পরিষদের সুহৃদেরা! 

যারা ডেকেছিল সবাইকে সেই সন্ধ্যায় অথবা
হেঁকেছিল সঙ্কল্পে তারা নেই। যে গান গেয়েছিল
মেজাজটা আনতে, সে নেই। হাতে লেখা পত্রিকাটি,
প্রথম সংখ্যার পর নেই। বইয়ের আলমারি,
সেই বাড়ি নেই। মানুষের মনে প্রয়োজন নেই।
মহামারী আসার আগেই এসব হল অতীত। 

আর কী মাংসভাত ছিল! নাদুদা? রাণা? কোথায়?
বর্ণালী বয়স! মাতৃভাষার টান! সঙ্কল্প-স্বাদ! 

ধীরে ধীরে ছন্দে ও দ্বন্দ্বে ফিরছে পাড়ার বাজার।
রাস্তায় জলে শ্রাবণের আছাড় খাচ্ছে সাইকেল। 

থাকলে ধুলো সরত বইগুলো থেকে হাতে হাতে!
ঘরের মেঝেতে হত বেঞ্চি ঘষটানোর আওয়াজ!
সুহৃদ পরিষদ এবং হেমচন্দ্র গ্রন্থাগার কি
থাকবেনা সেই একটি সন্ধ্যার স্বপ্নপ্রয়াসেও? 

ব্যাঙ্গালোর
৯.৭.২১



Tuesday, May 25, 2021

চোখ পেতে আছি

এসবের পরেও একটা দিন আসবে আশার দিন আমরা সবাই চোখ পেতে আছি।
মৃতদেহ তলিয়ে যাবে অতলে বালি জল ও দৃষ্টির, বৃষ্টিই সাহায্য করবে।
এ দু’বছর বসন্তে ফুল ফোটা, গ্রীষ্মে ফল পাকা, শষ্যের বাড় বর্ষায় হেমন্তে বন্ধ থাকে নি।
তারা স্মৃতিতে উজ্জ্বল থাকবে শেষনিঃশ্বাস নিতে চাওয়া সেসব প্রাণের যারা পারল না।
কেননা সেটাই শেষ বার্তা পৃথিবীর যা তারা সঙ্গে করে নিয়ে গেল।
যে বার্তা পৃথিবী এত অত্যাচার সয়েও দিচ্ছে এখনও এই তো এবারও। 

আজ সকালে আকাশে মেঘের দীর্ঘ আঁচড় কিছু ছিল কালকের ঝড়ের পর।
পরশু সন্ধ্যায় পুঞ্জিভূত মেঘের ওপরে খেলছিল বর্ণালি।
এসব কি রূপকথা? মনে হয়। এক তীব্র শ্রমযাপনে রত মানুষ ও তার বিজ্ঞান।
এবং তার লড়াই, সময়ের ঘাড়ের কেশর টেনে পেটে গোড়ালি বিঁধিয়ে বাগে আনার। 

সে মানুষদেরকে, সে লড়াইকে পিঠ চাপড়ে মালা পরিয়ে প্রতারণা করে এক তন্ত্র।
বস্তুতঃ মানুষ-খেকো তার মন্ত্র সন্ত্রস্ত – সময়ের বহ্নিমান চোখ, মুখের ফেনার দিকে তাকিয়ে।
দিনগুলো টের পাওয়াচ্ছে যুদ্ধে যেমন, প্রাণ অথবা জীবিকা হারিয়েও কিসে প্রাসঙ্গিক মানুষ।
এবং কত প্রতারক, মানুষ শব্দটির মায়ায়-মোহে মোক্ষে-দ্রোহে আপ্লুতের শীলিত হুঁশ, বেহুঁশ।


ব্যাঙ্গালোর
২৪.৫.২১

Tuesday, May 4, 2021

মে’দিন ২০২১

কেমন যাবে এবার মেদিন?
বাইরে ভয়, ভিতরে ক্ষয়!
মড়কের দিনরাতের কষ্টে  
ছাড়ব কি যুদ্ধের অন্বয়?   
 
চোখের পরিশ্রান্ত জ্বালা
স্রোতে ঠেলে মাটির সরা,
ফেরার পথে দেখে জীবন
আহ্বান এক কৃষ্ণচুড়ার।
 
সরকার তো সরকারই
শোষক-কুলের ঘাঘ-দালাল,
জলে ভেদের বিষ ঢেলে
মারছে ইমান, লুটছে মাল।
 
অতিমারির মুনফাখোরির
দাম মেটাতে, ফি হপ্তায়,
খালি হচ্ছে ঘরের জমা,
রোজগেরেরও মুখ শুকায়।
 
মেদিন তাই মেদিন, সাথীর
দলগুলো সব মেলাব হাত
বুকেই সই মিছিল হয়ে  
এক পৃথিবী পোহাব সাধ।

ব্যানার কাঁধে পৌঁছে দেখা
চিরাচরিত অনেক হাসি,
নেই আজ, তাও আসবে সবাই
এক ঘরাণার স্বপ্নচাষি।

ব্যাঙ্গালোর
২৯.৪.২১



Saturday, February 20, 2021

একুশের চেতনা

দেশ ভেঙেছিল, ভাঙতে পারেনি সত্ত্বা।
প্রাণ চাপা ছিল বেহুঁশ ভ্রাতৃহত্যায়।
ভাঙার গল্প মিথ্যে করে তিন বছরের মধ্যে
তাজা যৌবন রক্তে ঝরিয়ে চেতনার নির্বন্ধে
বাংলা দিল সারা বিশ্বকে একুশে ফেব্রুয়ারি
আশার ধাত্রী মাতৃভাষা, ঝলসালো তরবারি!
 
হাতে হাত রেখে চলতে পাইনি ঠিক।
দুই ভুগোলের প্রশ্নযাপনে খুঁজছি নতুন ঋক,
নতুন আত্মপরিচয়
ইতিহাসের ভিন্ন বর্ত্মে রুখছি মাথার ক্ষয়!
 
জন্ম থেকে পথে নেমে বার বার
একুশ হয়েছে মাতৃভাষার ধার।

ব্যাঙ্গালোর
২০.২.২১



রাতের নিঃশ্বাস

চিরকালই শেষ সময়ে, তাড়াহুড়োর চোরাপথটা ধরি।
বিপদে পাই লোহার শিক, ছুঁচলো ভাঙা সিমেন্ট-পাথরকুচি,
অন্ধকার, বিষগাছড়া, পেচ্ছাপ আর পাঁকের গন্ধে নালা ...
যেন জিন, প্রজাতিদোষ ভিন শহরেও, এমনই খুঁজি পথ;
মজার কথা, পেয়েই তো হিন্দ এত ভাষার মগ্নতায় আপন। 

অন্ধকারে হোঁচট খেয়ে আমিই নই অন্য কেউও পড়ে,
এগিয়ে ধরতে কাঁধ, পাই অচিন হাসি, এটাই তো বিশ্ব!
একটা বাস ছাড়ল, যাক, পরেরটা কখন, দুশ্চিন্তায়
ভাবি, এখন নিয়মমাফিক চলায় জোর, আগে এর পরেই
ঢুকত নাকে নতুন বসতগুলোর রাতের রহস্যনিঃশ্বাস!

ব্যাঙ্গালোর
২৪.১.২১   

 

বিকেল-জন্ম

একটু শুধু জায়গা আর সময়।  
সরঞ্জাম তো খুঁজেই নেয় চোখ।
কত নতুন খেলার আবিষ্কারে
শিশুর মাথায় সোনার হয় বিকেল!
 
আগে খোঁজে সাথী কেউ আছে?
না পেলেও একা আর এ জগৎ।
বিধি, সঙ্কেত, ডাক, স্পর্শ, দৌড় ...
সূর্য শেখায় অস্ত যেতে যেতে।
 
কি জাদুতে শুকনো ডাঁটি, কঞ্চি,
চাকতি, রঙ, গর্ত, আড়াল, সব ...
সম্পদ হয় শিশুর বা তার দলের
কিছু থাকে বার-উঠোনের কোনে,
 
খেলার গন্ডি ঘিরে নামা রাত
পাহারা দেয় বাকি জিনিষগুলো;
দিন বোঝেনা নিষ্প্রাণ নয় ওরা,
খেলার চিহ্ন, বিকেল-জন্ম আশে।

ব্যাঙ্গালোর
৩০.১.২১

 


পূর্ণেন্দুদা

পূর্ণেন্দুদাকে নিয়ে কিছু লেখা সত্যিই খুব মুশকিল।
এতে তো সন্দেহ নেই যে মনেপ্রাণে মানভুইয়াঁ ছিলেন।
বিস্মৃত ব্রাহ্মণত্ব এবং জীবন্ত ভিয়েতমিন, দুটোতেই।
 
মাফিয়া-চেলারা কি আদৌ ভয় পেত? তবু তাদেরই সামলাতে
বিশাল গোঁফে টাঙানো রোগা শরীর
কোলিয়রি কামগারের-দপ্তরে
রায়বাবুর সামনে বসে একুশের চেতনা নিয়ে গল্প করত।
দুপুরে ফিরতে একবার পুরানা বাজারের পানের দোকানে
কথা বলে আসতেন শ্রীনিবাস পানুরির সাথে,
আগামি শনিবার ঝরিয়া, মনে আছে তো!
হ্যাঁ, আলোকধনোয়া আসবে! গদ্দিসাহেবও থাকবেন মনে হয়।
রোহিনীবাবুর বাড়ি ধরা থাকত বিকেলের খাতায়।
বলতে পুরো হীরাপুর, লিন্ডসে ক্লাব! সিন্ধ্রি, বোকারো, কাত্রাস,
দুবরাজপুর তো সেবার আমিই গিয়েছিলাম।

সেও তো কয়েকবছর হল ধানবাদে পুরানা বাজার থেকে এগিয়ে
দেখেছিলাম গুঁড়িয়ে মাটি হয়ে গেছে রেলওয়ে ইন্সটিট্যুট; গরু বাঁধা।
বাংলা সিনেমা হত, মহাশ্বেতা দেবী এসেছিলেন এখানেই।

পূর্ণেন্দুদাকে নিয়ে কিছু লেখা সত্যিই খুব মুশকিল।
সারা জীবন, যা কেউ চায়না তাই তিনি চেয়ে গেলেন
ভাষামিলন, ধানবাদে, পাটনায় সাকুল্যে পঞ্চান্ন বছর ...
বাংলা, হিন্দি, উর্দু, মগহি, খোরঠা, সাঁওতালি, মুন্ডারি,
ভোজপুরি, মৈথিলি, অঙ্গিকা, বজ্জিকা ... সব ভাষার
কাব্যসেতুবন্ধন!

বলতে ভালো লাগে। যেতেও ভালো লাগে। তবু, কেউ চায়?
কতটুকু দেখি আমরা নিজেদের ভিন্নতর ভাষায়?

সারা জীবন, যা কেউ চায়না তাই তিনি চেয়ে গেলেন
বার বার নিজের লেখা মাঝপথে ছেড়ে সাংস্কৃতিক কোনো সভায়
এগোবার সঠিক পথটা নিয়ে উদ্বিগ্ন, উত্তেজিত, সোচ্চার।
সুখের অধ্যাপনাতেও হকের লড়াইয়ে জেলে, জন্ডিসে!
কে যায়? অনেকে যায়। যাওয়ার ঐতিহ্য জারি রাখে।
পূর্ণেন্দুদাও তেমনই একজন, জাস্ট একজন ছিলেন।

-       এত বিশদে গিয়ে পড়ালে কোর্স কি করে পুরো হবে স্যার?
-       কিন্তু যেটা জানার, গভীরে গিয়ে জানতে হবে তো!

পূর্ণেন্দুদাকে নিয়ে কিছু লেখা সত্যিই খুব মুশকিল।
ছিন্নবিছিন্ন কবিতা, প্রবন্ধ, সম্পাদকের নামে চিঠি ছড়িয়েছিটিয়ে
মানভুইয়াঁ লালমাটির বন্ধুবৎসলতার চারা পুঁতে যেখানেসেখানে
গোটা সাতেক পত্রিকা শুরু করে তবু মাঝপথে ছেড়ে
চোখের ক্ষীণ দৃষ্টি আর দুর্বল শরীর নিয়ে একটা জীবন,
শুধু জীবনের মত বোঝার, বাঁচার চেষ্টা করে গেলেন।

ব্যাঙ্গালোর
৮.২.২১