Thursday, April 23, 2026

সর্বস্বে রয়েছ

যখন বিদায় নেবে, সন্ধে হয়ে থাকবে রাস্তাটা!
বাচ্চারা আঁধারে খেলবে দিনের শেষ খেলাটুকু,
নন্দুর মা দরজায় বসে ঘাসঝুড়ি বুনছেন
 
রাস্তা-মেরামতি ধুলোয় দুজনে নাকমুখ ঢেকে
মন্দিরের চাতাল পেরিয়ে হাত দেখাই অটোকে
সাবধানে যেও বলে চেয়ে দেখি দিগন্তে রক্তাভা
 
একটু গেলে দেখব শিমুল ছড়িয়ে গোরস্তানে
তবু যাই না, তুমি গেলে কই? সর্বস্বে রয়েছ
 
কিসের বিদায় নেওয়া, কেন, বুঝি না, বুঝবও না
বেশি বোঝাতে যেও না তো! হাত সরাও পিঠ থেকে!  
না থেকে থাকা তোমার তীব্রতর করি সারাদিন
 
ছড়িয়ে থাকা মক্‌শোগুলোয়, কাটাকুটি যুদ্ধেমুদ্ধে,
নিজের ভিতরে সত্যটা জিয়োতে তুমিও বুঝবে
ভালোবাসতে ভালোলাগাটাই ঋদ্ধি নশ্বরতার  
 
২৪.৪.২৬

Tuesday, April 21, 2026

ঘাতকের নাম

সে যে এক কাব্য হয় অন্তর্গত নিসর্গ নিরিখে
অশ্রুবর্ষণ করার, ঘাতকের নামটা না লিখে?
ঘাতকও উত্তরীয়ে মোছে চোখ, শিল্পীর সম্মানে!
 
শিক্ষানবিশ বালখিল্যেরা সূক্ষ্মতর ব্যথাহুতি ঘ্রাণে,
সত্বর এগোয় চাতুর্য চমকে হয় প্রতিবাদী!
ঘাতক বড়ই খুশি, ছাগলে সোনার ছাড়ে নাদি।
 
ঘাতকের নাম বলা ক্রমে হয় কুশিল্প ঘোষিত
শব্দ হোক, রঙ, হোক জীবনের অনিত্যে পোষিত!
নিহতের ঘরে দেখি, চোখে চোখে, ইঁটে, আসবাবে,
ঘাতকের নাম ঘৃণার অব্যক্ত আগুনে কিংখাবে।
 
ধূর্ত ধর্ষকও ক্রমে মুখ নেয় মৃত ধর্ষিতার
ঘটনার প্রতিশোধ চায়! শিল্পকর্ম নির্বিকার
নিষ্প্রাণ মুখটির দিকে ঈষৎ লজ্জানত চায়।
তারপর চিরন্তন সৌন্দর্য সন্ধানে চলে যায়। 
 
২১.৪.২৬

Friday, April 10, 2026

রাত হলে

রাত হলে ফিরে বসি এক ঘরে সবাই যখন
সেও বসে, যে যায় নি, সেলফোনে ছিল এতক্ষণ
সারি নৈমিত্তিক, শোনা-দেখা খবরে গল্পগুজব,
তখনি ছিন্ন মুন্ডু ও ফর্বেসগঞ্জের দুটো শব,
অথবা হুউউউৎশ্‌ বুম! রোজকার যুদ্ধে ওড়া গা,
ধপ করে মাঝে পড়ে; বাঁধা রাত বিঘ্নিত হয় না।

হয়তো দুর্বোধ্য ভবিষ্যৎ কাঁপে গেলাসের জলে,
তাৎক্ষণিক।
                  টের পাই না ভাবনার অনর্গলে,
কতটুকু অস্বাভাবিকতা কাল ঢুকবে অস্থির
আচরণে আর, উত্তরাধিকার হবে সন্ততি্র।

আর বাঁচাবে না বলা অন্য কেউ, অন্য কোনোখানে।
একগ্রহ পরস্পর গ্রন্থিত মগজ কালযানে,
একযোগে স্নায়ুতন্ত্রে পচনের ত্বরায় পৌঁছোচ্ছি   
পৃথিবীর যৌথ আবাসনে ঘাতক পারস্পরিক।

১১.৪.২০২৬

Saturday, April 4, 2026

আমার বাংলা

আমার বাংলা চুটি সিগারেট ভাগ,
বোঁটায় কয়টি ভাষার থুতুর দাগ,
অসুবিধে নেই, চলে
                         বন্ধুতা গাঢ় হলে
থাপ্‌ড়ে চেনাই ব্রিগেড আর শাহবাগ।
 
বলি, তোদেরকে বাংলা শেখাই চল।
তোরাই তো বস্‌ আমার ভাষার বল।
আমার বাচ্চা যদি
                         মাতৃভাষার নদী
না পায় স্বপ্নে, ছোঁবে বাঁচার অতল? 

ঐক্য বোঝাতে পিঠে বাঁধিস না কুঁজ
মানা-বলা-খাওয়া-পরায় মিলের বুঝ!
ধর্মের নামে ঘৃণার
                   শেষ চাওয়া দেশটার
মগজ ফাটাতে হাতে নিবি পিলসুজ?
 
অনেক ভাষার পড়া রে, এই ভারত,
অনেক আশায় বাঁধা প্রতিটির গৎ,
তারই একটির মা,
                      ছিন্ন বাঙালিয়ানা,
রক্তের মাটি-জল-আকাশের পথ।

৫.৪.২৬

Thursday, April 2, 2026

হাসি

আমার একটি নাম না জানা নদী আছে ঘুমে
খুঁজেও দেখিনি তার ধারাটির শুরু আর শেষ
বস্তুতঃ বিষয় নয় সে, স্বপ্নের মগ্ন পটভূমি
পাড়ের পাথরে বসে কথা বলি বহু উপন্যাসে
যেগুলো লিখি নি লিখবোও না সে ক্ষমতাই নেই
সে-সমস্ত উপন্যাসে মাঝে মধ্যে তুমি ঢুকে পড়ো
হাসতে হা-হা ধরিয়ে পাঠের কোথাও কোনো ভুল
ঘুম ভাঙায় প্রতিধ্বনিত চরাচরে সেই হাসি

ঘুম ভেঙে যায় স্বপ্ন ভাঙে না, হাসিও সারাদিন
ঘিরে থাকে ধরে থাকে জাপ্টে ব্যর্থতা সুদ্ধু আমাকে
সবচে খারাপ কাজ করো তুলে রাখো রাগে ছেঁড়া
অসহ্য নিষ্কৃতিহীন প্রত্যহ আমার লেখালিখি
৩.৪.২৬