Thursday, August 6, 2026

বাইশে শ্রাবণ ২০২৬

এখনো মুখে লেপেনি কালি?
দাড়ি ছোপায়নি গেরুয়া রঙে?
সেরেছে তাহলে রবিঠাকুর,
কদর পাবেন নতুন ঢঙে।
 
হয়তো ভাগ্যে রয়েছে চা-পান
রাজা অজৈব-কীর্তি পথে!
হয়তো পাবেন বাৎসরিকও,
তিলেতন্ডুলে শাস্ত্রমতে! 
 
দাঙ্গাবাজ ভাঁড় রাজার
রাজত্ব তো হবেই শেষ।
তার চাপানো অনেক পাপের
বোঝায় ধুঁকছে সারাটা দেশ।
 
এবারকার শ্রাবণ বাইশে,
অর্পি বরং নতুন ফুল
এই শতকের ছেলেমেয়েরা,
শিখছে লড়াই, জবর ইস্কুল!
 
রক্তমাখা মুখের হাসি
রণভূমিটাই রঙ্গভূমি!
ছ্যাঁচোড়রাজের নবাবীকালে
প্ল্যাকার্ড হাতে নতুন রুমি।
 
রাজা অজৈব ময়ুরবিলাস!
উঠছে তেনার নাভিশ্বাস!

ব্যাঙ্গালোর
৭.৮.২৬

Sunday, August 2, 2026

ডাকঘর

ডাকঘর দূরে হোক হেঁটে যেতে দ্যুতিময় হই,
মেঘরোদে মানুষের ব্যস্ততার ঘষা খেতে খেতে
নতুন শহরে অচেনা দুটো ভাষার বিনিময়ে
হাসিতে বিরক্তিতে বুঝে উঠতে বাঁক, কানাগলি  
দুধাপ সিঁড়িতে উঠে লাইনে দাঁড়াতে কাউন্টারে। 

একটা ভরসা আছে এসব সবটা আমাদের।
এই দেশ, সরকার, প্রতিষ্ঠান, তার লোকজন
প্রতিদিন গুঁড়িয়ে যায় সে ভরসা বাস্তবতায়!
তুলি সে কাতর গুঁড়ো, আশা মাখি সঙ্কল্পসংকুল
পড়ে পাওয়া তো নয়! প্রপিতামহদের শোণিত।
 
ওটিপি না এলে বিতণ্ডা, নেট আপনাদের ঢিমে!
ভালো লাগে। আপনিও তো জানেন এপারে-ওপারে
স্যার, একই মানুষ!
                              ধুলোদুপুরে বাইরে আসি,
সিঁড়িতে ফুঁ দিয়ে ভাবি বসি। মালিকানা বলে কথা।

ব্যাঙ্গালোর,
২.৮.২৬

Saturday, July 25, 2026

সার্জাপুর জার্নাল - ১

এ শহরটা আমাদের নয়
তবে কখনো সেটা বুঝিয়ে দেওয়া নেই
এত বেশি কাজে ব্যস্ত মানুষ
নিজেদেরকে ঈষৎ দূর থেকে দেখছি
 
বাইরের দিক; রাত প্রায় এগারোটায়
কিছুটা অন্ধকার রাস্তা মাঝে মাঝে
গা ঘেঁষে বেরিয়ে যাচ্ছে বাস, ডাম্পার
রাস্তা ছেড়ে হাঁটছে এক বয়স্ক দম্পতি
 
এই তারা এক জীর্ণ বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়ালো
মোবাইলে কথা বলছে কারো সাথে
আজ মনটা হাল্কা, দেশে যুবরা উদ্দীপিত
মন্ত্রী ইস্তফা দিয়েছে তাদের দাবিতে
 
খুব সাবধানে হাঁটছি, পাশাপাশি জায়গা নেই
সামনে-পেছনে, জলকাদা-আবর্জনা এড়িয়ে
খুব কম সুযোগ হয় এভাবে একসাথে একা
চায়ের তলানির চিয়াবীজগুলো প্রথম খেলে আ

ব্যাঙ্গালোর,
২৬.৭.২৬

Tuesday, July 21, 2026

২০শে জুলাই ২০২৬

নতুনের বার্তা আনছে রক্তাক্ত যুবমুখ
শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ, নেপাল, এবারে ভারত!
পাকিস্তানও পিছিয়ে থাকবে না নিশ্চয়ই;
উপমহাদ্বীপ ফিরে পাক নিজের ভূগোল।
 
সামান্য তিনটে হক শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোজগার;
রাষ্ট্র-বদলের নয়, বেঁচেবর্তে গোলামির!
সেটুকুতেও নারাজ লুটেরা পূঁজির চর,
ফিরিঙ্গি পাঁকের দাঙ্গাবাজ রামনামীগুলো!
 
জুলাইয়ের মেঘলা আকাশ, ভেজা রাজপথ।
এমাসেরই শুরুতে শহীদ হন পীর আলি।
জলকাদায় থৈ থৈ হয় শহরটা আমার।
চিন্তা হয়, বন্যা-খরা রাজ্যে ঘনাবে কেমন।
 
ওদিকে রাজধানীতে শাসকের ধুন্ধুমার,
একহাতে পাজামার ফিতে, আরহাতে লাঠি।
শাহীনবাগে নারীরা, আন্দোলিত কৃষকেরা,
এবারে যুবরা কোথায়? ক্রোনোলজি মাস্টার?
 
ব্যাঙ্গালোর, 
২২.৭.২৬ 

Sunday, July 19, 2026

ইস্তফা

ইস্তফার এটাই যে মুশকিল।
কী করে দিই?
একটা হলেই আরেকটা।
শেষ তো নেই কেলোর কীর্তির,
আর কীর্তিমানদের!
সবারই পিছনে বধ্যভূমি;
কারোরটায় এখনো লোপাটের
জোগাড়যন্তরে ব্যস্ত চেলারা
 
রথযাত্রার দিনই সেই আবার
সাদাপর্দা টাঙিয়ে খুন করতে হল
দেশের যৌবনের উদ্যম, বিবেক!
জয় জগন্নাথঅ! জগন্নাথঅ!
একটু দেখ সামী!
আকাশে মেঘ।
রথের পাঁপর ভাজছে মালব্যের দল।
 
একটু দেখ!
বাকিটুকু দেখবে শাহজির ব্রিফকেস।
 
ব্যাঙ্গালোর, 
১৯.৭.২৬

Thursday, July 9, 2026

বারো বছর

আপন-খোয়ানো লোকটার মুঠোয়
খুনির শোকবার্তা বেজে ওঠা ফোন যেন
রোজ খবরে আমাদের সরকারটির
অমায়িক হাস্যমুখ
তার লাস্য শিরোনামগুলোয়
 
সারাক্ষণ সশংকিত থাকি
আবার আমাদের এ দেশটাকে না এক
নতুন দুর্বৃত্তায়নে জড়িয়ে নেয়
এ সরকার ও তার ঘাঘু লোকলস্কর
যেভাবেই হোক,
নির্বাচিত বলে কথা!
 
কোনো হত্যাকারীকে,
কোনো ধর্ষক, কোনো শিশুঘাতক,
কোনো শূদ্র- বা মুসলমান- বা
ক্রিশ্চান-বা বৌদ্ধ-উৎপীড়ককে না
মালা পরায়, আইন থেকে বাঁচায়,
জনপ্রতিনিধি বানিয়ে নেয়
 
অপরাধ আড়াল করতে
এনকাউন্টারে ঝাঁপিয়ে পড়ছে পুলিস
দ্রুত বদলে যাচ্ছে শিশুদের পাঠ্যসূচি,
স্বাধীনতাচর্চা থেকে দাসত্বচর্চায়
 
জোনাকির ঢেউয়ের মতন
মৃত ও উৎপীড়িতের চোখের মিছিল;
ওদের উন্নয়নী কালো হাওয়ায়
বারো বছর ধরে বাড়ছে
 
ব্যাঙ্গালোর, 
৯.৭.২৬

Sunday, June 21, 2026

ছোটোবেলার শহর

তোমার কাছেই যাচ্ছি বন্ধু এত দিনের পর,
সঙ্গে দুলাইন নতুন লেখা থাকবে না?
ছোটোবেলার সবকিছুতে হাতেখড়ির সখা
সফরপথের এটুকু মান রাখবে না?
তোমার কাছে যেতে পড়ছে অনেক নতুন রোদ,
সে রোদের কিছুটা তো গল্পে ছিল,
গাছগাছালির মাঝে মাঝে নতুন ঘরের দাওয়া,
মানুষগুলোর হ্রস্ব ছায়া তাকাচ্ছিল।
এই সফরপথটাই যে সেদিন দিল সরকার,
তিনটে জেলার বুড়ি ছোঁওয়া ট্রেন।
নতুন নতুন সহযাত্রীর দুপুরভর কচকচানি,
কুশি-প্রাঙণের লেখকটি জানতেন। 
তোমারও কি পাড়াগুলো আগের মতন আছে?
হাইওয়েটার গজরানি দিনরাতে।  
ভোরের আলোয় জলে খেলত সার্কাসের হাতি, 
বাবার হাতটা থাকত আমার হাতে।
এখন তো আর সেসব নেই, তুমিও বদলেছ,
ঠারে ঠারে কাজের রিশ্‌তা সব। 
তবুও নতুন বোল খুঁজছি ফিরে যাওয়ার সুরে,
খেলাশেষের সন্ধ্যার বৈভব।

২১.৬.২৬