Tuesday, May 3, 2022

বিশ্রামরতা নারী

যে বাড়িতে কাজ করে সারা দিন
সে বাড়ি থেকে সে এখন বেরিয়ে পড়েছে।
আলো অন্ধকারে স্পষ্ট হচ্ছে সন্ধ্যারাত।
রেললাইন পেরিয়ে আরো
আধমাইল গেলে তার নিজের বাসস্থান।
সেখানে কি যাবে সে এখন?
সেখানে এখনি পৌঁছোলে ছেলের বৌ
গায়ে গতরে ব্যথা বলে তাকেই
ঢোকাবে রান্নাঘরে আবার।
অথচ খুব দেরি করতেও মন চাইছে না কারণ
নিজের বেলাদুপুরের খাওয়া থেকে দুটো মাছ
কোঁচড়ে লুকিয়ে রেখেছে নাতির জন্য।
  
ঈষৎ নির্জন দেখে সে বসল নর্দমা-ঢাকা ফুটপাথে।
বসতেই হাওয়া তাকে আপন করে নিল।
আপন করে নিল আলোছায়ার গতিবেগ।
আপন করে নিল তার রক্তের ক্লান্তির ঘুম।
আঃ, ছাড়, ছাড় ঘুম নয় যেন দুটো উষ্ণ শিশুহাত
ছাড়িয়ে সে চোখ খুলে তাকাল। উঠবে?
না, আরো কিছুক্ষণ! ভেবে সে বসে রইল ঠায়।

কিছুটা দূরে দূরে আরো কয়েকজন নারী
এভাবেই বসেছিল হাওয়া আর আলোছায়ার
গতিবেগের আপন হয়ে, রক্তের ক্লান্তির ঘুমের
আপন হয়ে; সে খেয়াল করেনি।

৩.৫.২২  


 

  

No comments:

Post a Comment