Tuesday, July 19, 2022

সভা

রোদ গেছে বহুক্ষণ, তবু উত্তপ্ত রাস্তাটা শ্লথ করে গতি,
কখনো চাগায় কদম – যদিও আজ দেরি হয়নি পৌঁছোতে;
বিষয় যাই হোক না কেন – রবিঠাকুর বা জাতীয়করণ,
সভাঘর ভরা হোক অথবা গোনাগুনতি নিজেদের লোক,
ভালো বলি অথবা খারাপ, রক্তের দাগগুলো তো দেখাবোই –
দেশপ্রেম-চর্ব্বনে ভুলে যাবোনা ভুলতে দেবোওনা কাউকে
আখলাক, পহলু খান, একটিও হত্যা আর বেহদ্দটা – যে,
ফাঁসির সে আসামীরা আমাদের মাথায় বসে হাগছে দিব্যি ।

পাটনা
১৯-৬-১৭



Saturday, July 16, 2022

সিঙাড়া

ভাঙা বেঞ্চে বসে এক 
আটপৌরে, অনেকটাই বুড়ো,
পরনে ম্লান সাদা লপেটা, কুর্তা,
এক প্লেট সিঙাড়া-চাট 
আস্তে আস্তে খাচ্ছেন।
চামচ দিয়ে কেটে কেটে 
একেকটা ছোট্টো টুকরো
ঠোঁটে টানছেন, 
স্বল্পদন্তি মুখের 
এক দিক থেকে আরেকদিকে
পাঠাচ্ছেন, 
আবার ফিরিয়ে আনছেন।
গিলতে ফুলে উঠছে গাল, 
গলার পেশিগুলো।...

শরতসন্ধ্যা। 
উৎসব-ঋতুর আবহাওয়া। 
বাজারে ঢুকবার মুখে 
চিরাচরিত যানজট।
পুরোনো স্কুলটার পাঁচিলঘেঁষা 
ট্রান্সফর্মার, সামনে আবর্জনা,
তার সামনে সার্বজনিক 
পুরূষ প্রস্রাবখানা,
তারই সামনে এক ঠেলা-দোকান -
বিক্রি সিঙাড়া, কচুরির।...

একে একে সবাই এসে খাচ্ছে, 
চলে যাচ্ছে,
বুড়োর আর 
শেষ হচ্ছে না খাওয়া। 
দোকানদারেরও তাড়া নেই;
হাজার হোক, 
তার গ্রাহক-পাড়ারই দাদু তো!
বাড়িতে খাওয়ার 
কষ্ট না হোক
একটু চাইতেই পারেন মুখরোচক!
একটু লোভ হতেই পারে।
পেট খারাপ?
হলে হবে!...
বাঁচা-মরা তো লেগেই আছে। 

যানজটে ফেঁসে থাকা টোটোর 
চালক ছেলেটিও
দৌড়ে কিনে আনল দুটো সিঙাড়া।
পাশে বসা আমার দিকে 
এগোলো ঠোঙাটা,
‘খাবেন, কাকু?’ 

ব্যাঙ্গালোর
৫.১১.১৯



হদিশ

হারিয়ে কোথায়ও যাবো – এত কুনো হদিশ বুকে,  
আকাশ রাখে নজর আর জল চেনে শুঁকে।
ওদেরও তো বয়স হল কত টানবে চুল, 
জন্মের সে ভাড়াবাড়ির পাড়াও আজ কুল।
চৌকাঠের পরে দু’পা আরেকটি চৌকাঠে
রাখছি কিনা ঘুরে দেখে বেড়াল ধোপার মাঠে। 

কিছু বড় গাছ ছিল আঁধার আমার সাঁঝে
হারিয়ে যেতাম ঘরে ফেরা পাখিগুলোর মাঝে
সেসবও এখন কাঠের দেদার ঠিকেদারি,
দূরত্ব আজ বন্ধুমন, দিলদরিয়ায় পাড়ি। 
একবার গিয়েছিলাম চাকার সুরে দূরে
হারাই নি, বাঁধা পড়ে দেশের হৃদয়পুরে।

শব্দ আছে, কাজ আছে, রাত আছে ভারি, 
পুরোনো ডাইরিটা খুলে চাঁদিপোকা মারি।

১৬.৭.২২



জিরো মাইল

শহর নয়, ভালোবাসার 
জিরো মাইলের কথা ভাবছি।
আমাদের তো বেশির ভাগ সময়
জিরো মাইলেই কাটে ভালোবাসার।

শহরের তো পরে হয়,
ফুলে ফেঁপে উঠলে নগরায়ণ,
ভালোবাসার অনেক আগেই তৈরি হয়
ভালোবাসার জিরো মাইল।

ওই জিরো মাইলেই যখন
ভালোবাসার হদিশ ছিল না,
রাস্তা বলতে 
জলার ধার দিয়ে ঘাসপথ
সুনীলে উধাও,
বৃষ্টির বিকেলে ভিজতে ভিজতে
দুহাত ছড়িয়ে গেয়েছি
‘এসো আলিঙ্গনে’ …

ঈর্ষা করেছি 
চাকায় হাওয়া দেওয়ার
বা চা বিস্কুটের
দোকান খুলে পিছনে
থাকার ঘর তোলা বাবাজিকে
মনে হয়েছে সে আমিই
সন্ন্যাসি অথবা চা করছি
অথবা হাওয়া দিচ্ছি চাকায় 
যেন এসব কিছুই
দূরের এক 
ভালোবাসা গড়তে জরুরি! 

রাস্তাটা ঘরে ফেরার
আনন্দের মত করতে জরুরি।
যেন ভালোবাসার তপ্ত নিঃশ্বাস
শূন্য জিরো মাইলে
মে মাসের রোদ্দূর।

এমনকি ভালোবাসায় পৌঁছেও
আবার ফিরেছি এখানে,
খুঁজেছি সেই ভালোবাসা
যেটা ছিলই না তখন।
আর আশ্চর্য, তবুও পেয়েছি!
তা সে পাটনার হোক
বা বেগুসরায়ের জিরো মাইল,
পুর্ণিয়ার বা অন্য শহরের …

১৩.৭.২২



Thursday, July 14, 2022

মেজাজ

বাসটা ভরছে। ভরুক, বোসো,
             নাহয় একটা ছাড়বে।
চায়ের রঙে ধরছে মেজাজ,
আসমানটাও খুলবে এবার;
এত অধীর হয়েই বা কী করবে?

বাদলা-চায়ে প্রথম চুমুক 
                   হলই বা রোদ্দুরে!
এটা বিহার, চা এখানেও 
       হয়, ওই তো কিশনগঞ্জে,
                   ডুয়ার্সের অদূরে।

দেড়শো বছর, হচ্ছে।
হাতে-হাজা বাচ্চাটা এনে দিচ্ছে।
শেষচুমুকের চিনিটুক্‌ গুলে খাচ্ছি –
শুকিয়ে বেচলে জমি হত এক কিতে। 

এত আকাশ দেখছ যে বারবার,
সময় মাপছ?
                   আছে তেমন ফিতে?



Wednesday, July 13, 2022

সোনার নোখ

সময় যতই আনজান এক হাওয়া
তারও ততই হামলাবাজ চাওয়া ।

বন্ধুরা সব এক এক করে, কে কোথায় ....
সেও যাবে দুই কাঁধ ফাঁসিয়ে বাজের পায়ে।

সাতসকালের আয়না দেখবে ঝড়ের চোখ,
গলিতে রোদজলের গল্পে সোনার নোখ,
চায়ের ঠেকে এক সিগারেট তিন ইয়ার -
                              দিল্লি, দুবাই, জাঞ্জিবার ...
স্কুলছুটিতে মেয়েদলের 
গুনগুন আর সুগন্ধে এক
                             হারিয়ে যাওয়া রাজকুমার।

এই সময়ের মোকাবিলায়
সময়েরও দ্বিগুণ খুনে, আজনবী,
হতেই হবে -
                   রোদচশমায়
                    কাঁধের ছালায়
মরলে সালা মুখের ফেনায় -
                                          আজনবী।

২০.১২.২০০২



Tuesday, July 12, 2022

আভা

গাছের ফাঁকে হঠাৎ চোখে 
রূপ ছেটাল নদীর বাঁক।
রোদঝিলিক, সবুজকালো; 
আর একটু পথ যেতেই 
বসত, বাজার, মাইক বাজছে -- 
স্বাধীনতার স্বপ্নস্মৃতি
উন্নয়নী বিষে ধুঁকেও 
রুখবে দেশে বিষের বাড়। 

শিকড় ঘিরে জনসভা, 
গ্রামশ্রুতির  ঐক্য প্রাচীন।
ভাঙতে পাল্টা ডিস্কো ভজন 
জোরদখলি মন্দিরের। 
তামাশাবাজ বাকিরা সব 
এদিক ওদিক চা খাচ্ছে
ঠিকেদার ছাড়ছে বসে 
ঘোলা জলে চাঁদির টোপ ...

কোথায় গ্রাম? ধ্বসে গেছে, 
ধু ধু এক অপেক্ষাতে,
শিক্ষা নেই, চিকিৎসা আর 
রোজগার – কিছুই নেই
শুধু ক’টি গাড়িরাস্তা, 
নতুন কিছু দোকানদারি; 
সময় তাতেই সস্তা জিন্স, 
সাইকেলছুট এক মেয়ের …
        
চাপানো যায় দোষ, তবু 
শিক্ষক দুই আদর্শবান, 
পড়ান; গ্রামের ঔপন্যাসিক, 
ভাঙা কুঠির ধ্বংসছায়ায়  
লিখে ফেলেন প্রণয়গাথা, 
কবি লেখেন আশার গান;
জোর একটা হাওয়ায় বিকেল 
আভা ছড়ায়, যুদ্ধ চলুক!

১১.৭.২২