Friday, August 1, 2025

এভাবে সবাই যদি …

এভাবে এক এক করে সবাই যদি চলে যান,
কাকে সামনে বসিয়ে রেখে কিছু ফাঁদি বলুন তো?
আমি আবার ওই স্বগতোক্তি কিছুতেই পারি না।
ডীপ ক্লোজাপে দীর্ঘ মনোলগ … নিচু পার্শ্বসঙ্গীতে
বড়ো পুরোনো ফ্ল্যাটবাড়ির ভেজাশুকনো বছর …
অথবা কালো শহর ছাপিয়ে সাদা ওঠা শহর; 
আমার কণ্ঠস্বরে সময় –
                                 একেবারে অসম্ভব।
ঘাপলা বুঝতেই তো নাভিশ্বাস, সময়গুলোর!
 
জীবনে ছোটোভাই থাকা ইস্তক স্বচ্ছন্দে ছিলাম।
কখনো রাতে বাড়ি ফেরার মুখে কারো না কারোর
দরজা ধরে দাঁড়িয়ে ঝাড়তাম শেষ বুলি গুলো।
ফেরার পথে নক্ষত্র পেতাম রেলগেট পেরিয়ে
গাঢ়তর আঁধারে হাওয়ায়; হাতে পুড়তো সিগ্রেট! …
কেমন যেন নিজেই, উন্মাদ নিজেকে বাঁধি রাতে।
 
১.৮.২৫  

Sunday, July 20, 2025

আটা মাখা

সকালে উঠে ভালোলাগার একটা কাজ তো চাই মানুষের!
আমার আটা মাখতে ভালো লাগে। অর্থাৎ, কাজটা কোনোদিন,
যদি হাতে পাই – জমিয়ে লাগি হেঁসেলে।
 
কতো ভ্যাবলা থাকি ছোটোবেলায়, আটা, ময়দা, সুজি যে সব
গমেরই রূপ, জানতে সময় লেগেছে। সেদিন বেঙালুরুর
দোকানে জানালো, সুজিও তিন রকম।
 
রেশনের গম বেছে, ধুয়ে, শুকোতে দেওয়া হতো; পেষাইকলে
দেখতাম আটার ঝর্ণা! অনেক পরে বুঝি, দূরে কোনো গ্রামে
পেষাইকল-মালিক কেন মহাজন।
 
তৈরি গমক্ষেতের শিরশিরানি ভিন্নজাত; গল্পগুলো যেন
নীল নিরুদ্দেশ ছুঁয়ে দানা বাঁধে। ধানক্ষেতের শিরশিরানি
ঢেউয়ে ঢেউয়ে ভিতরের দিকে টানে।
 
আকছার স্বল্প আলো ঢোকে ঘরে, আধো অন্ধকারে বসে মাখি,
ঈষদুষ্ণ আটায় ডোবা আঙুলে অল্প জল ঢালি  – টের পাই
আসছে মা-দিদারা তাবৎ পৃথিবীর।
 
বোন ও বৌদিরা, দুষ্টুমুখ! দাঁড়িয়ে পড়েছে আমার পিছনে …
কতো ভাষার উনুনে গুনগুন, গমের স্বপ্নভূমিতে যেন;
হিন্দুকুশের দুপার ভরে হয়ে উঠি।
 
২০.৭.২৫  



সময়ে যেটুকু করার ছিল

কী লাভ হলো?
ঠিক যে সময়ে যেটুকু করার ছিল না-করে
যে প্রশ্নের ঘাড়টা ধরার ছিল না-ধরে
এতগুলো বছর
বাতেলা মেরে কাটিয়ে যে দিন বদলাবেই,
আজ বসিয়ে যুদ্ধ খাওয়াচ্ছি –
ফুল, হাফ, ডবলহাফ, লাল, চিনিছাড়া,
সঙ্গে বিরাম আর শান্তিবার্তা বিস্কুট –
সব নিজেদেরই পকেট থেকে খসছে!
 
এমনও নয় যে আগের মত বলব
কোনো যুদ্ধের পক্ষে নেই! হাঃ,
শালা সবকটা যুদ্ধের কোনো না কোনো পক্ষে
একটু করে আছি।
অথচ যে যুদ্ধে বস্তুতঃ আছি,
শুধু সময়ের সঙ্গে তাল রাখতে তার
মূলপাঠে কতো যে রদবদল করছি প্রতিদিন
তার হিসেবটুকুও রাখছি না যে
রাতে নোটবুক নিয়ে বসব।  
 
ভিডিওটা বন্ধ করো!
অতো অস্ত্রবিশেষজ্ঞ হয়ে দরকার নেই।
ভাবো তো?
কোথায় কোথায় ফাঁকিগুলো
কখনো নিয়মরক্ষা আর কখনো
সাফল্যের জিগিরে চাপা দিয়ে এগোলাম
গত তিনটে দশকে? 
 
 
 
………
এ নাহলে খেলা?
একে অন্যেকে হারিয়ে দেওয়ার যুদ্ধে
ওরা একে অন্যেকে জিতিয়ে দিচ্ছে –
বিক্রি বাড়ছে অস্ত্রের,
দাম বাড়ছে জিনিষের,
আরো সস্তা, আরো ক্ষুদ্র, আরো বর্বর হচ্ছে মানুষ –
আর আমরা?
সবাইকে জিতিয়ে দেওয়ার যুদ্ধে
ওগুলোর কোনোটাকেও
হারাতে পারছি না।

১৮.৬.২৫

ভিমলিপতনম ২০১৫

উঁহ! এত গোমড়া কেন?
হাসুন! – বলেছিলাম।
বলায় শুধু অভ্যাসটা ছিল
                 ছবিতে হাসিমুখ তোলার।
তীরের বালিতে সাইক্লোনের ধ্বংসচিহ্ন ছড়িয়ে থাকলেও
মাথায় ছিল না প্রেক্ষাপট।
 
জিজ্ঞেসও করিনি, ঝড়ের দিনগুলোয়
কেমন ছিলেন তিনি, তাঁর পরিবার, এলাকার মানুষেরা।
যদিও স্পষ্ট ছিল যে তাঁর দোকানঘরটাও
জলে ক্ষয়ে বেরিয়ে আসা কাঠ,
রঙের পোঁচ, নতুন প্লাস্টিক।
বালিতে গেঁথে ছিল ভাঙা মৎস্যকন্যা,
ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়া কোনো পাকা ঘরের
অবশেষটুকু।
 
সমুদ্রের পটভূমিতে তিনি হেসেছিলেন।
পায়াওয়ালা ছোট্টো গুমটিটার
আলোআঁধারে আকাশি শাড়িতে বসে,
শঙ্খ, ঝিনুক দিয়ে গড়া বাহারি সব জিনিষের মাঝে …
 
এত দূর! আবার গিয়ে ঝালিয়ে নেওয়া যাবে না
এক দুপুরের ক্ষণিক আলাপ।
আর সেই অক্ষমতায় যেন এ্যালবামে
দিনে দিনে সংক্রামক হয়ে উঠছে হাসিটা।
 
৯.৬.২৫

Monday, June 30, 2025

যুদ্ধবিরতি

চলো যাই, যুদ্ধবিরতি যখন, শান্তিতে এগোই
প্রাদেশিক দৈনন্দিনেঃ শিশুঘাতী জয়োৎসবে,
দেখি শাসকের আশীর্বাদধন্য ব্রাহ্মণ্য লাঞ্ছনা
মানুষের, কখনো মুসলমান, কখনো দলিত,
কখনো খ্রিস্টান বলে পথে,
                               এবং দূষিত আঁধার,
মহাজনী লাভধন্য বঞ্চনা-গাথার, সারা দেশে।
 
দেখি কতো নায়ক, অন্যায় নিবারণে নিয়োজিত,
মাল্টিপ্লেক্সে, ওটিটিতে; কতো নিঃসঙ্গ কর্মপথিক,
মানুষে, শাকসব্জিতে সাফল্য ফলিয়ে চলেছেন …
পশুপ্রেমী দেশাধিপতি, অক্লান্ত, দুর্বৃত্ত-প্রবীণ!
 
নতুন আইনে অপরাধ সম্মিলিত প্রতিরোধ!
সে চাষি পাবে না সিলোর টিকিট, শ্রমিক জীবিকা।
তিন দশকে বুঝিই নি কতোটা রক্তে আমাদের
প্লাজমা চেটে খেয়ে গেছে উন্নয়নী যুদ্ধবিরতি।  
 
২৭.৬.২৫

অস্থির ঘুমের স্বপ্ন

অস্থির ঘুমের স্বপ্ন রেখে যায় অবসন্ন মন
সে জগতে সব বাড়ি একতলা, রাস্তা ভরা জল
চেনা সব নাম, ডাকলে দরজা খুলে সাড়া দেয়
কেউ দূরে থাকে, মনে পড়ে কথা দিয়েছি, আসব
 
আবছা আঁধারে নিজের বলে পাই না কোনো বাড়ি
একা একা সাইকেল নিয়ে পৌঁছে যাই বাইপাসে
দেখি সেখানেও ইঁটে ঘাসে মানুষে ঘিঞ্জি রাস্তাটা
ঐ তো বাড়ি আমার কিন্তু থামি না, আরো দূরে যাই
 
অথবা বাঁদিকে রেললাইন পেরিয়ে আরো চেনা
অন্য পাড়ায় কিন্তু সেখানে এখন থাকে না কেউ
ক্রসিং ধরি, রিক্সা ধরি … সবশেষে এতদিনকার
বেঁচে থাকাটারই এ্যাসিড-খাওয়া ছবি হয়ে ঘুরি   
 
সকালের আলো খুব ভালো করে এঘরে আসে না।
মানা করি তবুও দুটো বাল্ব জ্বালিয়ে যান স্ত্রী।
 
২৪.৬.২৫

অনিলদা

এমনকি কলকাতায় যাওয়াও, হাওয়াই চপ্পলে, 
মানে দরকার পড়লেই হাজির, হাতে ফাইল –
অনিলদার হাসিতে ছেড়েছি;
                                    এই দ্যাখ্‌, কিভাবে
এসেছে! – পিঠে হাত – খেয়েছ? ওকে নিয়ে যা, এ্যাই!
 
গড়ার তাজা নেশায়, নতুন লড়াকু সংগঠন,
ঝাড়খন্ড সুদ্ধু সেদিনের পুরো বিহার চক্করে,
ডাকলেই চলে আসতেন বিচক্ষণ মানুষটি! …
তাঁরটাই ছিল প্রথম আমাদের শ্রীহীন করে 
অবসরপ্রাপ্তি – নাগালের বাইরে যাওয়া হঠাৎ!
তারপর আর কখনো পাইনি সে-মাতৃত্বস্বাদ।
 
অনেককিছু এল-গেল, সগর্বে সভায় বলেছি –
অনিলদার সংগঠন! তাঁরই শিষ্যসমাহার!
কালচারটা লড়াইয়ের রক্তে থেকে যায় বস্‌!
মুখে মুখে ঘোরে মানুষকে কাছে টানার আখ্যান!
 
২৩.৫.২৫