Saturday, August 10, 2024

ধর্মচক্র

পুরোনো কাঁসার বড়ো থালা ঘিরে রাতে
অনেকক’টি আমরা দিদি বোন ভাই,
আধঘুমে, তবু ঠোঁট খোলা সব, পাছে
এগিয়ে ভাতের গ্রাস ধরা জেঠিমার
বকুনি কপালে জোটে; আজ মনে হয়,
অলীক পার্বণ কোনো উচ্ছিন্ন বৃক্ষের।
 
যবে থেকে ধর্মচক্র, শুনছি শান্তির,
ন্যায়ের মর্মে প্রোথিত; প্রত্যক্ষ দেখছি
বিপরীতে, চক্র এক, নির্মম, অমোঘ,
সময়ের শয়তানি পরিহাসে যেন
ছিঁড়ে দিচ্ছে দেশ, ভাষা, পরম্পরা, শ্রুতি …
ঐ এক কাঁসার বড় থালাটির আভা
কৃষ্ণ প্রতিপদের চাঁদের চেয়ে বেশি
দীপ্র, ধর্মচক্র করে রেখেছি সম্বিতে।

১০.৮.২৪
   

সত্য আর তথ্য

ঠাকুরদাদার কোলে বসে
ছেলেটা প্রথম পড়ল যেই
অ-য়ে অজগর আসছে তেড়ে,
পাশ থেকে দাদাটি তার
ফুট কাটল – অজগরও
নানান রকম, জেনে নে রে!
তারপর তো হাতের ফোনে
ভিন্ন ভিন্ন অজগরের
ছবি দেখা শুরু হল,
সেসব কিছু দেখে দেখে
দাদু-নাতির মাথা থেকে
অ-টাই হারিয়ে গেল।

৩০.৭.২৪  

 

প্রেমচন্দ ২

একদিনে হন নি, সময় লেগেছিল
বই পড়ে হন নি, জীবন লেগেছিল।
লমহীর ধুলোয় সামান্য আছে স্মৃতি
বাকিটা হিন্দির যাপনে তাঁর কৃতি।
ভারতের, যাকে বলে গঙ্গা-যমুনি
আঁচলের রঙ তাঁর দৃষ্টিতে চিনি।
কে এমন ধ্রুপদি প্রাখর্যে কলম
চালিয়ে দেখিয়েছিল সত্যের দম!
রুক্ষ শিল্প তাঁর কংক্রিট ঢালাই
কোথাও শিক বেরুনো – উদ্দেশ্য, তাই। …
হামিদের চিন্তায়, দিদার আনন্দে,
জোখুর খাওয়ার জলে বিষাক্ত গন্ধে,
গঙ্গির নিদারুণ ভীত পলায়নে,
হোরির মৃত্যুকালীন অবচেতনে,
ঘিসু আর মাধবের বুকের মড়কে,
হিরা আর মোতির বিদ্রোহের ছকে
ব্যথার দার্ঢ়্য নির্মাণ, তাঁর চলে –
শব্দ ইতিহাস হয়ে চাগায় বদলে।

১০.৮.২৪

 

চিঠিচর্চা ৪

এ চিঠি যেখানে যাবে, পাহাড়ি জায়গা, যে পড়বে,
উঁচুনিচু পথ বেয়ে অনেকখানি নামবে এক
বান্ধবীর আপিসে পৌঁছোতে … তবে ঝিল নেই নিচে;
ঝিল পেতে হলে চিঠির মেজাজ হবে ভিন্ন, কিছু
চেতনাবৃত্তিক, ভাষাও বদলাবে এবং জগত
আরাবল্লি থেকে বিন্ধ্য, প্রকৃতির বিরল আর্দ্র্যতা …
আরো এগোলে সমুদ্রে পৌঁছোবে হৃদয় কিন্তু কাকে
খুঁজবে আতপ্ত সাহচর্য দীর্ণ সময়ের? তাকে?
যার নীল ছোট্টো চিঠি রাখা আছে মহামূল্যবান –
ফেনায় পা ভেজানো লেখা, “সামনে রোদচিকচিক
ঢেউয়ের আহ্বানে দাঁড়িয়ে, বড্ড একা লাগছে রে!
মনে পড়ছে তোদের সব্বাইকে, – যদি থাকতিস!”
শেষকথা, লেখা নয়, পাওয়ায় অমৃত হয় চিঠি।

১০.৮.২৪

চিঠিচর্চা – ৩

গুছিয়ে কাজ করা বয়স্করা বোঝাতো বার বার
যখনি চিঠি দেবে, কপি রাখবে, না হোক কার্বন!
শুনিনি তাই হারিয়েছি লিখতে সুখ পাওয়া কিছু
চিঠি, যেমন লম্বা ত্যাগপত্র প্রথম চাকরির।
উনিশশো তিয়াত্তর সাল; প্রাপক কর্তৃপক্ষও
সদ্য এপারে আসা বাঙালি – মার্জিত, নায়কোচিত!
 
সেসব যাক, ভাবো বেআক্কেলে; শুনছি দীপ্ত আহ্বান
বইয়ের পৃষ্ঠায়, মানুষের মুখে আমি সেসময় …
বৃক্ষচ্যুত জল অশ্রুতের নিক্বণ ছড়াচ্ছে হাতে!
 
ইস্তফায় ভরা ছিল বালখিল্য সাহিত্যপ্রয়াস!
তা’বলে কি শেষ হয় ছাপোষার চাকরি জীবনে
ইস্তফা দেওয়ার দর্প! মালিকের মুখের ওপর? 

৯.৮.২৪

 

চিঠিচর্চা ২

তুমি কী ভেবেছিলে বন্ধুনী? কেন’বা ফিরিয়েছিলে
চিঠিগুলো। এতোই সতর্ক যদি, পুড়িয়েই দিতে?
ঐ যে পোড়ালে না, বুঝলাম, দিনযাপনে নতুন
যদিও এড়াচ্ছো শঙ্কা কোনো অশান্তির, ভালোবাসো,
কোথাও বাঁচাতে চাও, একসাথে কাটানো সময় –
আঁধার বার্থে আমার ওভারকোটে ঘুমোনো নারী!
জানলায় রাত সিগরেটের ধোঁয়ায় বয়ে যায়।
কতো কিছু দেখাতে নিজের শহরে সারাটা দিন!
 
দেখ তাই বাঁচিয়ে রেখেছি চিঠি তোমার ফেরানো,
জীবনসঙ্গিনীকে পড়িয়ে, বলেছি ঋণ তোমার!
 
অপূর্ণ তা যে কারণেই রয়ে যাক প্রণয়গুলো,
হয়তো নিজেরি ভীরুতায় হেরেছি কখনো, সব 
আমারি তো, এক স্রোতে মিলিয়ে পেয়েছি অনাবিল।
কোনো বিকেলে তোমার গেরস্থালি ভরাবো সস্ত্রীক!

২৫.৭.২৪

 

চিঠিচর্চা ১

না পাঠানো চিঠিগুলো ভারাক্রান্ত করে না আমায়।
মাঝে মধ্যে হাতে এলে পড়ি – কবেকার ভালো লাগা!
তরিবৎ করে লিখেছিলাম, দু’চার পৃষ্ঠা হতো,
তাই প্যাডের কাগজে।
                              আগে ঘরে খাম, ইনল্যান্ড
পোষ্টকার্ড এবং … মুখগুলো থাকতো স্মৃতিতে!
ঠিক সে চিঠিগুলোই না পাঠানো আছে ডাইরিতে
যার প্লাবক কবিত্ব সব মাঝপথে ধন্ধে শেষ –
সত্যিই সে নেবে তো মুখে আমার আলোর দুপুর?
 
এমনো তো চিঠি ছিল! যাকে লিখছি তাকে কখনো
পাঠাবো না ভেবে লেখা হতো একটু একটু রোজ! …
সত্যি? নাকি নিবিড় দেখা হলে বসে শোনাতো কেউ
অপেক্ষমান সন্ধ্যার বেঞ্চিটায়! …
                                        না, আমি লিখিনি।
একটাই তো চিঠি ভালোবাসার লিখে তাও আগে
তাকে নয়, বন্ধুকে রাতে স্টেশনে পড়িয়েছিলাম।
 
২৫.৭.২৪