Sunday, October 7, 2018

মাড়োয়ার লালচে বুনটে


‘উত্তম খেতী
মধ্যম বাণ
অধম চাকরী
ভীখ নিদান’…

কখনো দস্যু কখনো ফৌজী
এ নদীতটের চতুর্থ সন্তান
সময়ভেদে কর্মী, রাজনৈতিক;
সবার সব কথাই কিছুটা ঠিক
তবু ঝান্ডার লালের অঙ্গীকারে,
নির্জনতর যৌথ অভিসারে

সে কবেকার উচ্ছল কৌতুহল –
ব্লক ঘেরাওয়ে প্রথম হাতেখড়ি;
পিতার ক্ষোভে মায়ের শঙ্কায় চুপ
জল ভেঙে প্রশ্নসমাকূল তরী;

কবিতার মতই এক রাতে পেল
দেখা, কিম্বদন্তীর – যার জীবিত
কিম্বা মৃত শির সন্ধানে পুলিস
নাকাল; শাসককুল সন্ত্রস্ত, ভীত।

তারপর কত রাত বুকে চাবুক,
বিশ্ব আন্দোলিত দুর্নিবার,
নিরবচ্ছিন্ন মানুষের শ্রমে
প্রস্ফূটনে যুগ বদলে দেওয়ার

চালচিত্রে স্থিতধী হয়ে ওঠা –
কমরেড! ভালো আছো? কমরেড!
ভনি আরো সুত্রকাব্য কিছু!
হস্টেলে পাঠচক্র? পুলিস-রেড?

·          

একদিন দেখল সে দেখার যুক্তিতে
জেলাশাসকের বিলিতি বাংলোয়
ওই তো চোট্টা মিলমালিক, বিধায়ক,
                             অনুগত আমলা আরো খান ছয়,

                             বরেণ্য ভূপতি, সদ্য মালিক
দশ ট্রাকের, ঠিকেদার বাহাদুর –
শান্তির মহতী নাগরিক সভায়
লাস্যে পরিহাসে সৎসঙ্গে চুর!  

দেখল শীতের সকালে কালভার্টের নিচে লাশ।
এপ্রিলে রেলধর্মঘট। লোকনায়ক জয়প্রকাশ।
হঠাৎ টগ্‌বগে দেশ – স্কুলকলেজ বন্ধ্‌ -
          প্রত্যেক রাস্তায় মোড়ে পুলিস সিআরপি মোতায়েন।
ছাত্র মানে নায়ক? বিপ্লবের?
                   না, ওটা বিচ্যুতি,
                             ছড়িয়ে গেছে ফরাসী কোহেন।
তাহলে এ গণরোষ?
হ্যাঁ, এরি মধ্যে কাজ –
এই ছাত্ররাই গ্রাম থেকে গ্রামে বসন্তের আজ
                                      পাঠাবে বজ্রনির্ঘোষ!

সহজ হয়ে উঠল ভারত – দেরিও হল না
দুর্বোধ্য হয়ে উঠতে; ইতিমধ্যে ঠিকানা
সংগঠন – শোষিতের লাঞ্ছনা রুখতে সশস্ত্র
                                      মোকাবিলায়…
কমরেড! তুমি কোথায়?

·          

                             তার বুকে অসুখ গভীর
সে মানে না নিয়তি,
                   ওই চিন্তা কৃষকসুলভ;
বুর্জোয়া আত্মরতি।
                   সাথীদের দেওয়া স্ট্রেপ্টোমাইসিন,
আইসোনেক্স পাস তার ঝোলায় – মানুষ
          অর্থে হতে চাওয়া প্রতিদিন।

যেমন এখন ভোরে মার্টিন রেলের
লাইনদুটি পেরিয়ে মাড়োয়ার লালচে বুনটে
ভাবছে সে কেন্দ্রীয় কমিটিতে পাঠানো
                                      ভাঙা শব্দপটে
চোরা প্রশ্নগুলি;
পা চলছে সত্বর – রাতের খবরঃ
          ‘ক’ গ্রামে দশ রাউন্ড চলেছে গুলি…

মাঝে মাঝে সে নিজের পাথরে গাঁইতির
                             প্রতিধ্বনি শোনে নির্জন!

এলাকার হতদরিদ্র মানুষদের চোখে আশার দাপট;
মহিলারা জোরকদমে অংশ নিচ্ছে দলে – সংগঠন
ভাঙছে গড়ছে ভাঙছে – প্রশ্নের উদ্বিগ্ন ঝাপট

ছায়াছন্ন করে মুখ – জোয়ার কিসে আসবে?
হিংসা-প্রতিহিংসাতীত
নিতান্ত বেঁচে থাকার তৃণমূল প্রয়োজনে
মাটি হচ্ছে পিঙ্গল – রক্ত এত!
বীজ
ধরিত্রী কবে ফেরাবে?

ভাবতে তো হবেই কমরেড! তুমি জানো,   
একনিষ্ঠ কর্মী, নিজের সত্যের নিঃসঙ্গতাতেও
শ্রমের অমরত্বের কাছে ছোটো হয় না কখনো।…  




No comments:

Post a Comment