Wednesday, July 6, 2022

দারুনারী

সত্যি তুমি বন্ধু হবে,
দারুনারী? 
বিক্ষত নীরবতা?
সত্যিই কি বুঝব গাছের 
গুঁড়ি হলে কেন?
হলে যদি মুখের আধেক
পুড়িয়ে নিলে কেন?
যার যতনে ফুটলে
সেই বা কোন হৃদয়?

কোন নদীর জল শুকোলো
কোন জঙ্গল হারিয়ে গেল
আবহাওয়া বিষিয়ে তুলল
লুটেরাদের ধোঁয়া, 
কোন জীবন খোয়ালো রক্তে
স্মৃতির মর্মর,
বুঝব? যদি বোঝাও?
বিক্ষত নীরবতা?
তবু গুনব, যদি গোনাও,
লালসার হিংস্রতা! 

হাওয়া দিচ্ছে বিকেল …
যদি উড়ত তোমার 
                   চুল; ঘোরাতে মুখ
মেঘের রঙটা দেখতে?

৬.৭.২২



বাসা বাঁধার চেষ্টা (ফাল্গুন ২০১০)

বাসা বাঁধার চেষ্টায়
কিছু ঘরে, এ শহরের বিভিন্ন পাড়ায় আমরা থেকেছি।

ঘরগুলো আজ আরো জীর্ণ, তবু আমাদের 
পরের প্রজন্মটিকে জায়গা দিয়ে, রাতে
সস্তার এফএমএ গুলজার।

পথে পথে হোলিকাদহনের 
আগুনেমোষগুলো 
গলার দাউ দাউ শিরা ফুলিয়ে চাটছে
                                         চন্দ্রাসব।

মনে পড়ে, এক ঘরের এক কোনায় অর্থহীন
ছিল একটি বাড়তি থাম। পর্দা দিয়ে ঢেকে
ঘরটাই সংক্ষিপ্ত, এমন বুঝিয়ে রেখেছিলাম।
পিছনে থাকতো সাইকেল।

এই প্রজন্ম
থামটাকে বানিয়ে নিয়েছে ঘরটির
নতুন মাত্রা – ছবির ছয়লাপে নিরুদ্দেশের
                                          রঙীন অর্কেস্ট্রা;
পিছনে আজও রয়েছে সাইকেল।

বাসা বাঁধার চেষ্টার বাসাটি বস্তুতঃ
এক হয় সারা পৃথিবীতে।

সভ্যতার খালপারে,
ছায়া পড়ে – আরো মায়া ধরে,
নোনা ঝরে - রোদে কূল ভরে,
হোঁচট, পতন – মাধ্যাকর্ষণরহিত,
ভূলগুলো – প্রণয়ে উত্তাপ।

বাসা বাঁধার চেষ্টায়
না মচকানোর গুনগুনটাই সব।



Sunday, July 3, 2022

অঙ্ককষা

সব অঙ্ক শেষ হয় না, বইয়ে পড়েছিলাম।
সব স্কুলবাড়ি আমবাগান পেরিয়ে হয় না রেললাইন।
সব রাস্তা হারায় না বৃষ্টিতে। কত ভালোবাসা
ফোটেই না, কেউ অপেক্ষায় ছিল ফোটার –
তার চোখের সামনে ডিমটা ঢিল ভেবে 
গুলতিতে লাগায় কেউ – একটা পাখি পড়ে 
ডানা ঝটপটিয়ে মাটিতে। সে পাখিটাও
হতেই পারে আবার মাটি হতে ডুবে যায় জলায়, 
কেউ কুড়িয়ে আনতে গিয়েও পারে না,
শুশ্রূষাও পায় না সে, মাংসও হয় না খিদের …
নতুন শ্রুতিকথা গড়াও একটা কাজ, কে করবে?

জলায় নামতে হবে সন্ধ্যায়,
কাদা ঘেঁটে খুঁজে পেতে হবে পাখিটার 
অর্দ্ধমৃত শরীর … আঙুলের ফাঁকে ধুকপুক
ধুকপুক – একটা ট্রেন আসছে আমবাগানের পারে!
ধুকপুক – অঙ্কের অবিশ্বাস্য শেষটা ডাকছে মেঘমালায়,
সন্ধ্যারই মেঘমালায়, কবি যেমন বলেছিলেন?
নাঃ, আমার ভালো লাগে না সন্ধ্যা, তাকে বরং সকালের
ঘাসে নামাই, একসাথে শিশির মাখি গড়িয়ে গড়িয়ে। 

ঘোর ভাঙলে উঠে বসে দেখি আমি একাই
শিশির মাখছি নিজের অপরিসীম মুর্খ নগ্নতায়
দুপাশে বসে হাসছে পাখি আর গুলতিধারী হতচ্ছাড়া! 

৪.৭.২২ 



Monday, June 27, 2022

ন্যায়মহল

তা তুমি বেশ ভালো করেই বুঝিয়ে দিচ্ছ সায়েব
কত গুমখুন চালিয়ে যাওয়ার চোরাকুঠরি, গলি 
ছড়িয়ে আছে বাহারি এই ন্যায়মহলের গড়ে,
সবাই ঘুরছে, জানছে না কেউ; ওই কে হল গায়েব!

চড়বড়িয়ে দু’পাক উড়ে ফিরে আসছে পাখি
টিকটিকিরা গম্বুজ ছেড়ে নামছে তরতরিয়ে
পিঁপড়েসারি ঢুকে যাচ্ছে কয়েকটি ফাটলে
এসব দিয়েই বুঝছে কেউ দেয়াল-থামের ফাঁকি!

আবার খোলা বাগানও আছে, ফুলে ঢাকা ঢিপি
মাগিবাজ এক ন্যায়পতির পাট্টি চলছে জবর
ফেরেন্ড আছে, তুমি আছো, দেওয়ানি লেনদেন
অনেকগুলো ফৌজদারির টাইট করতে ছিপি!

বাগান ছেড়ে খোলা মাঠ, জমিদারির শুরু
কোটপ্যান্টে ঘুরছে তোমার ন্যায়ঠ্যাঙাড়ের দল
জবর তোমার মহলখানায় বড় গন্ধ সায়েব,
রঙ করাবার সুযোগ পেলে ঘোল বানিও পুরু। 

২২.৬.২২



Friday, June 24, 2022

চাঁদ চুঁইছে কবিকন্ঠে

তাশা বাজছে, বাজছে জংলি হাতি –
চাঁদ চুঁইছে কবিকন্ঠে, 
                                ভালোবাসার শপথ,
উপড়ে ফেলবে চার্দিকের এই লুটের বেসাতি।

শপথছায়ে মা-পাখির ভীত বাচ্চাগুলো
দুর্যোগের রাতে মায়ের ডানার নিচে খেলে।
লেবুরঙা রোদে ওড়ে ঘুড়ির সাথে বালক,
ভোরের শরত ঘন্টি বাজায় চকচকে সাইকেলে।

শপথছায়ে ইতিহাসের পায়ের জুতো জাগে,
কালের যুদ্ধে হাসিল প্রাণের জীর্ণ নির্মোক, 
শেকল ভেঙে দেশের মেয়ে মুখর স্টেডিয়ামে
পৌঁছোতে চায়; 
                       বেসাতিও বদলে চলে ছক।

বয়সকালে আমাদেরও সখ্যযাপন ভাঙে, 
কে কোথায়? নিজের মত, চালিয়ে যাই লড়াই,
আলোয় বাড়ে চোখের আঁধার, আঁধারে নেই আলো,
শব্দে-সুরে খাদ ধরতে, গড়ি নতুন নেহাই।  

কবি এগোন, মগ্ন রাতে দেখেন দেশ, পৃথ্বী –
ধ্বংস, ধ্বংস .... প্রশ্ন করেন, এই হওয়ার ছিল?
আমরা গুছোই যুদ্ধরসদ – ভগত সিংএর বাণী,
ক্ষেতে পোড়া মজুর মেয়ে, ফসল-তারার মিলও।

তাশা বাজছে, জংলি হাতি বাজছে –
চাঁদ চুঁইছে কবিকন্ঠে:
                           পবিত্রতম ঘৃণায়
কলম তার মানুষখুনের শাসনগুলো দাগছে।

২৪.৬.২২



Thursday, June 23, 2022

বুলডোজার

তোদের মনু তোদের ধেনু তোরাই রাখ
আমি বরং রাখছি তোদের বুলডোজার।

মনু নিলে ডোমনি আমার ঘর ছাড়বে
ধেনুর মায়া ছেড়েই আছি কংসবধে

তোরা তোদের অস্ত্রেশস্ত্রে নেচে বেড়া
আমি আমার উজাড় মাঠে জমা করি

আখলাকের খাবার শোঁকা বুলডোজার
আসিফার লাশ খোবলানো বুলডোজার।

দেশ বলতে রইল আমার ত্রিনয়নে
আফরীনের ব্যথার শান্ত বুলডোজার।

১৪.৬.২২



 

নতুন চরে দুপুর

নতুন পুলে ট্রেন, বাস যাচ্ছে ওপর নিচে।
লঞ্চগুলো ধুঁয়ো ছাড়ছে মাটির খাড়াই ঘেঁষে।
নদীর বুকে নতুন চর, জলের নতুন বাঁক,
নিরুদ্দেশও দেশ গড়ছে অচিনপুরের রেশে।
 
চরে খাড়া চালায়, বলছে নতুন বৌয়ের হাসি,
তোমাদের বনভোজনের সাকিন আমার ঘর,
এখানে যে জন্ম নেবে আমার সোনামনি,
তার চোখে মেপে দেখব তোমাদের শহর।
 
স্বাচ্ছল্যের পৃথিবীটা ক্রমে ছোট হলেও
প্রতিদিনই বড় হচ্ছে রুজির পায়ে পায়ে!
ধ্বংস করছে পৃথিবী যে মুনফাবাজি, তার
দালালটিও হিসেব লিখছে ওই চালায় ছায়ে।

২২.৫.২২