Tuesday, April 12, 2022

মেয়েটি (পরবলপুর, নালন্দা: ২২.৫.৯২)

অশথের তলায়
বালখিল্য ছায়ারা কাঁপবে নতুন নতুনতর পাতার।
মাইকে বাজবে কুৎসিততর গান।
                                 পিছনে তেলকলে
ধুতি গুটিয়ে বসবে মালিকপুঙ্গব 
বাপের দ্বিগুণ হারামী। 
বাদুড়ঝোলা বাসটা এসে দাঁড়ালে
স্টলে, সোডার বোতলের সাথে
ঠুনঠুন করে বাজবে মহানগরের বেলেল্লা ইশারা।

অশথের তলায়
                 নোংরা স্কুলড্রেস পরে দুলে দুলে 
শশা চিবোতে থাকা মেয়েটি 
ডানপিটে নেত্রী হবে নিজের খেলার 
                              সঙ্গী ও সঙ্গিনীদের।
ইস্কুলের মাঠে তার ভাষণের খবর ছড়াবে দ্রুত...
বুদ্ধের ধ্যানভঙ্গ হবে।

নালন্দার চত্বরে সেদিন অনেক ভীড়।
স্মৃতি জেগে ওঠায় সচকিত জেলার কৃষক, কারিগর। 
কানে কানে ছড়াবে খবর,
এক্ষুনি, 
এক্ষুনি আসছে মেয়েটি
বুদ্ধের হাত ধরে।



Monday, April 11, 2022

গোয়েন্দা-পুলিস

১
মনে হয় বহু কাজ রয়ে গেছে বাকি!
যেই ভাবি ডুবে যাব সময়ের মীড়ে –
ঝর্ণার মুখ চুমে, গড়িয়ে পাথরে,
বাগানে কার্নেশানে বুলিয়ে আঙুল
সাগরে উসকে বিস্ময়ের অকুল –
তাড়া খাই, “ওখানে? কাজ আছে নাকি? …”
থাকতে পারিনা স্থির, ফিরি রোজকারে,
একটানা – হই ক্লান্ত অক্ষম তবু
সবলে মেলাতে কাঁধ, মানুষের কাঁধে।
আমারই আগুন ছিল, বৃষ্টি আমারই,
যুগিয়েছি কার্বন পৃথিবীর সাধে! …
অথচ দিনের শেষে অস্থিরতা বাড়ে।  
 
২
সকালের আলোমাখা বিস্ময়পথে,
হঠাৎ পেয়েছিলাম তার কড়া হাঁক,
“কে আপনি? এখানে? কী কাজ, বলুন! …”
হয়ত সে ভেবেছিল বিপজ্জনক –
লোকটি এখন ঘুরে এই জনপদে,
খসাবে জুলুম ঢাকা প্রগতির চুন! …
অনেক ধন্যবাদ, সিআইডি সা’ব!
খোঁচা আপনার, বুকে এনে দিল ঝোঁক!
সোজা রাখি আজ ঘাতকের চোখে চোখ। …
 
দিও না শস্প তুমি স্পর্শ পেলব,
কিছুটা বরং হই অবৈজ্ঞানিক
ফিরে আসা যায় ভেবে চলে যেতে চাই।     

১২.৪.২২



Saturday, April 9, 2022

শিশুকাল

অবাক হয়েছিলাম যে সকালে
উঠোনে পড়ল কার্তিক-গণেশ!
রামকে সামাল দিল নারায়ণী।
আমার উঠোনে ছিল পেপেগাছ,
পেয়ারা কবে গজালো, জানিও না।
আর, ওদিকে ছিল না তো খিড়কি!
জঙ্গল থেকে পাথরছুরি এনে
স্নানঘরে চৌবাচ্চায় নন্দলাল
ফোটালেন হাভেলি খড়গপুর!
জড়িয়ে গেছে অনেক শিশুকাল …
এভাবেই আঙুলে আঙুল বেঁধে
ধুলো বা বরফ বা ঝরাপাতায়
দৌড়োও, পাহাড়ে চড়ো, জলে নামো,
রক্তে গড়াও মহাদেশগুলোর!
অপুর মত তেলের শিশি নিয়ে
ফেরো বরং সন্ধ্যায় গোদাবরীর,
ঘাস চিবোও সুরাটে ভাঙা-মিলে,
ঢিল ছোঁড়ো ফাঁকা দুর্গ্‌ স্টেডিয়ামে।

১০.৪.২২

 


বেমেল

বিদিশা বলতে সস্তা হোটেলে জুয়াড়ি মনে পড়ে।
বেলা দিনে নিজের পাড়ায় চিৎকারে ফিরে দেখি
ভাড়ার খুপরি থেকে বেরিয়ে ঘেমো ফুলজামায়
প্যান্টে, রাতের সাজঝরা মেয়ে বাঁচাচ্ছে পরিবার …
 
ঠিক এটাই তো চেয়েছিল পুলিশ, ও পড়শিরা!
গা-বেচে দীর্ণ হয়েছে রাত, তবু ফুঁসিয়ে বেরোবে
মেজাজ, মুখের খিস্তি হবে গেরস্তঘরে বেমেল …
 
ক্লিন্ন ভীরুতা দেখল চেয়ে জান্তব মাতৃবন্ধন,
এগোতে দেবে না পুলিসকে – কাটারি হয়ে দাঁড়িয়ে।
দিনটাও খেল থানা, উৎখাত তো হতে হলই।
 
নিষ্প্রভ দিনগুলোর ছেঁড়া কাগজ বাড়ে মেঝেতে,
পরে ফেলতে গিয়ে বুঝি বাতাসের ধুলো বাড়ছে …
আমি তো গ্রাহক নই তার, তবু তার শ্রান্ত যৌন
শ্রাবস্তীর কারুশিল্পে এঁকে, বুকে দাগি – কৌমচিহ্ন।

৯.৪.২২   


 

Tuesday, April 5, 2022

বৃষ্টির প্রায়ান্ধকার দিনগুলোয়

বৃষ্টির প্রায়ান্ধকার দিনগুলোয় 
ঘরে বসার জায়গা করি দু’পাঁচটে –
কতজন আসবে তাও তো জানি না
ভুলতে বসেছি এটা কোন শহর
যারা আসবে তারা কারা
কোন দেশের প্রাণের বন্ধুরা
কী সব বিষয় হবে সংক্ষিপ্ত গোপন বৈঠকের 
যে পথে বেরুবো এক্ষুনি
বন্ধুদের জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসতে
কে রুখবে হাতে অস্ত্র নিয়ে সে পথে
কোন দেশের সশস্ত্রবাহিনী …
একই লড়াই তবু ভিন্ন কিছু প্রশ্নের
মোকাবিলায় মানুষের
বিভিন্ন সভ্যতা এশিয়ায় আফ্রিকায় আমেরিকায়
এবং লেনিনের তির্যক হাসি আমাদের মুখের ওপর … 
বৃষ্টিও কি আর সমান
এই জানলায় আর ধরা যাক লিমার 
মিরাফ্লোরেসে দৌড়ে ট্রামে ওঠা
আমার কোনো বন্ধুর ছাতায়
আর বিনাবিচারে বন্দি হাজার হাজার
লড়াকু মানুষের সেলের বাইরে?
অথবা স্ট্যান স্বামীর মত তিলে তিলে নিহতদের কবরে? 
……………
লুন্ঠনে বিপন্ন গ্রহে
নিরবচ্ছিন্ন বর্ষণের শুশ্রূষায় লীন, দেখছি –
চোর শাসকশাসিকারা নিজেদের
পাছা থাপড়ে নাম বাগাচ্ছে ইতিহাসে।
তাদের আঁটি চুলকে আরাম দিচ্ছে কবিদের
পয়মন্ত আংটি পরা আঙুল।

৬.৪.২২ 




Thursday, March 31, 2022

সিনেমা হলে

বসে পড়্‌!
সেই কখন থেকে জায়গাটা
ধরে রেখেছি বল্ তো!
ধাক্কার পর ধাক্কা এসেছে সময়ের
মুখে টর্চ মেরে,
অধিকার দাবি করে, 
ঘুষি বাগিয়ে, বন্ধুত্ব জাগিয়ে …

তোড়ের পর তোড়, বন্যার –
ডুবে গেছে ঘাটের শিউজি, হনুমানজি,
আবার নতুন চরে জেগেছে মৌরসিপাট্টার সাথে,
বালির পরতে হাওয়া ওঠে, চোখ জ্বলে!

রবারের ভেঁপুগুলো অনেক দুপুর নিয়ে রয়ে গেল, 
বাড়ি থেকে পসরা সাজিয়ে বাঁক ঘুরতেই 
জাদুকর হয়ে যাওয়া মানুষেরা 
রয়ে গেল সেই দুপুরে!
বাঁশে লপটানো 
চিনির লাট্‌ঠার জন্য মুখ সপসপ …
সবকিছু কি আর সময়ানুগ করে নেওয়া যায়? 
সজনেও না শুঁয়োপোকাও না!

বসে পড়্‌!
ভাগ্যিস লেট করল ট্রেনটা।
ভাগ্যিস সে সব কিছু হল
যা কখনো ভাবিনি হবে। 
ভাগ্যিস সে সব কিছুই সে ভাবে হল না
যেভাবে হবে ভেবেছিলাম। 
 
৩১.৩.২২


Wednesday, March 30, 2022

ডেন্ড্রাইট

১
ছাত শূন্য, পায়রাগুলো উড়েছে খাদ্য খুঁটে আজ সকালের।
এবার আসবে সন্তর্পণে মেধাবী বেড়াল, গলাটা উঁচিয়ে
নাগালের জানলাগুলোয় দেবে তীক্ষ্ণ উঁকিঝুঁকি – খাদ্য পাবে?
মনোমত? স্নেহও পাবে কি? … খাদ্য ও স্নেহের এই পাশবিক
বুভুক্ষাই কি বস্তুতঃ করে তোলে ঈষৎ হিংস্র-সন্ত্রস্ত চোখ?
তবু তো সে ডাকে, সবিরাম, জানালার সুবাস বুঝে কান্নায়;
এমনকি বেছে খায় মাছমাংসডিম, জৈবনিক প্রয়োজনে …
ওরা তাও নয় – ওই যে ছেলেরা, ভীড়ের ছায়াছন্ন কোটরে
রুমালের ভাঁজে ডেন্ড্রাইট আঠা, শুঁকছে চাখছে মাঝেমধ্যে!
চোখদুটো হিমাঙ্কের নিচে নিষ্প্রভ  – মৃত্যুকে সহবাসে জানে।
২
আমরা কি বহুবিধ কঠিন ব্যাধির সাথে বাঁচতে শিখি নি?
তুলি নি রঙীন ছবি-ভিডিও, জেদে বাঁচার প্রেরণাসঞ্চারে?
মেনেছি তো কিছু রোগ মাত্রা আনে ভিন্ন বরং, জীবনের বোধে;
নেচেওছি রিয়্যালিটি শোএ, ব্যথা দেখিয়েছি, লুকোচ্ছি বুঝিয়ে।
মানতে বাধা কিসের – ব্যাধিশাসিত কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে দেশ;
অপরাধ অপরাধ নয়, অস্বাভাবিক ক্ষণের উন্মত্ত হিংস্রতা।
তাই শাস্তি নয়, পথে বরমাল্যে অভিষিক্ত ঘাতক, ধর্ষক –
গর্বিত স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসবে, উন্নয়নী যুগে।

৩১.৩.২২