Saturday, June 15, 2024

জানলা

সব জানলাই তো কিছুটা অন্ততঃ
আকাশের দিকে খোলে।
আকাশের অভাবের দিকে খোলা
জানলাগুলোও –
দেয়ালের কালচে ইঁট
নালিমুখে
ভিতরের মেঝে ধোওয়া জল
ফাটলে বেরুনো
বট অশ্বত্থের চারা
ওপরেই হারানো রোদ্দুর
মাঝে মধ্যে
শালিক বা কাঠবেড়ালিও
আসে না এমন নয়
ইঁদুর
বেরিয়ে ঢুকে যায় সুরুৎ
বৃষ্টি দুর্গন্ধ বাড়ায়

কাজে আসে সিগরেটের
বুটকি ফেলতে
সারাবচ্ছর
কিম্বা খালি পাঁইট
ছাড়ানো ন্যাতা কন্ডোম
কাগজে মোড়া বাচ্চার গু …
হঠাৎ ঝঞ্ঝাট হয় একদিন
দরজায় কড়া নাড়ে বাড়িওলা
কে ফেলছে এসব
বেমালুম বলি জানিনা
আর তখনই, ঠিক
তখনই ঐ জানলাটার  
আকাশ দেখা যায়
দাঁতখোঁচানি মুখে নিয়ে
মুচকি হাসছে
মাথা নাড়ছে অল্প অল্প
স্‌সালা শুধরোবে না 

২০.৫.২৪ 

ক্লিষ্ট আশনাই

সেদিন মথিত এক গানে অজানার
জয় দিলো খোঁচা, আরো
                           নিষেধ ভাঙার।
নব্বইয়ের পর থেকে তাই তো ভাঙছি …
পেতাম সান্নিধ্য যদি আরেকটু বেশি !! 

তবে দূরে আছি ভালো! আপনাকে পাই
মে’মাসের লু-য়ে – গড়ি ক্লিষ্ট আশনাই,
মানুষের আগামির পথে। স্মিত দৃষ্টি
আপনার,
                 যুক্তিপথ ভাবায় কৃষ্টির।

মধ্যবিত্ত বাঙালির বিপন্ন বৈভবে,
কেন যে বলে গেলেন, ‘গান শুধু রবে’?
শাপে বর জানতাম, এ যে বরে শাপ!
গান ছাড়া বাকি রবি, পরিত্যক্ত ধাপ?

সুরের সম্ভ্রান্তলোকে ভাসমান সাঁঝ …  
আপনার বিনির্মাণে মন খোঁজে কাজ।

৬.৫.২৪

গ্রীষ্মের দুপুরে

গ্রীষ্মের দুপুরে বসে টিনচালা ভাতের দোকানে
ঘেমেচুমে অপার্থিব আনন্দে খেয়েছি মাংসভাত!
অথবা স্নেহান্নে মুগডাল, লঙ্কা, শশার চচ্চড়ি …
দুর্গাবতীর ঝুপড়িঘরে দুপুরে; মনে আছে অমিত?

খাওয়াগুলো খাওয়া হয় না বস্তুতঃ, বন্ধুত্বযাপন,
এবং অন্যদিকে – চাখা, সে বসতের রহস্য-মৌতাত।
বেঁচে থাকার সাতকাহন টানে প্রতিটি বসতে,
ভোরে রেলগেট-কাঁপানো ট্রেনের ফুলকি খবর,
এমনকি থানার বিটগুলোর নক্‌শা রোজকার,
চিত্তাকর্ষী মনে হয়। যদি এখানেই হতো বাড়ি?

তাও তো ঘুচেছে ভাতমাছ কিছু স্টিমারঘাটায় –
বালিয়াড়ি ঠেলে হল্ট, কোয়ার্টার, চিলতে-বাজার …
থাকলে ছুঁয়ে নিতাম গেটে ঘেমো চিবুকের দাগ,
অপরাহ্নের আলোয় এক ভিন্ন জন্মের আশ্বাস।

২৩.৫.২৪

রবি ও জগদীশ

আপনাদের বন্ধুত্ব, শতাব্দীর
সন্ধিকালে ভারতেতিহাস।
দেশজিজ্ঞাসায় বিজ্ঞানে কবিতা,
কবিতায় বিজ্ঞানের বাস।
আমরা ফেল পড়ুয়া, গোলাপ,
জ্যামিতিরই বাক্সে তবু রাখি –
শুনি সে জ্যামিতিকে ছোঁড়ে চ্যালেঞ্জ;
ভয়ে ঝাঁপ বন্ধ করে থাকি …
কবিতায়ই পথ পেয়ে দাসত্ব ঘুচিয়ে
মানুষের কাজে নামে
বৈজ্ঞানিক; অসীমের বহুত্ব গড়তে
কবি জাগে মধ্যযামে!     

কোন সভ্যতা ধরে নি তার
লোকগানে বিজ্ঞানের পরিক্রমা?
কোন সভ্যতা বলে নি তার
বিজ্ঞানে সৃষ্টির ছন্দের সুষমা?

অজানার ভয়হীন দুজনেই –
সহযাত্রী রূপে ও অরূপে,
বিজ্ঞানমন্দিরে, বিশ্ববিদ্যালয়ে,
সুচেতনার ধাত্রীস্বরূপে।
আপনাদের প্রয়োগশালা ভিন্ন,
শব্দপথ, যন্ত্রপথ গড়ে
শোনালেন বনস্পতিভাষে,
বাতাসি তরঙ্গে, অশান্ত অক্ষরে,
আকাশলিখন সময়েরঃ
বন্ধুত্ব ভাঙলে কবিতা-বিজ্ঞানে,
দুটোই লুটেরা-শাসক পোষণে,
ধ্বংস দেবে মুক্তিপথ জ্ঞানে।     

১২.৫.২৪

Thursday, May 9, 2024

যুযুধান

এখনো অবাক করে সেই রাত, শমীর মৃত্যুর পর ফেরা।
ট্রেনে বসে জ্যোৎস্নায় নিজের ক্ষোভের সঙ্গে মুখোমুখি জেরা।
এবং ঈশ্বরকে ডেকে সাক্ষী করা, কোথাও যায়নি শমী, এই
বিশ্বচরাচরে থাকবে সৃজনাক্ষরে জীবনের, যদি সেই
অক্ষর তরঙ্গ হয়, শীর্ষে মানুষের গতির ফসফোরাস –
আপনার ভাষায় বিশ্বাস – দুঃখজ্বালার, গ্লানির করে নাশ।
 
আর শুধু শমী নয়, কতো মৃত্যু পেরোলেন শুধু খরদীপ্র
শিখা জ্বেলে সৃজনোৎসবের … কতো আঘাত! সত্য অবিমিশ্র
সম্বল করে এগোতে শেখালেন, যুগের দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে।
ছোট্টো রেণুকা তো … যেতে নাহি দিব বলে নিজেই গেল হারিয়ে।
আর কর্মঠ মাধুরী? মাথায় বুলিয়ে হাত, গল্প শোনাতেন?
সৃষ্টিই মুক্তি! – কালের সঙ্গে যুযুধান হয়ে জানিয়ে গেলেন। 

৬.৫.২৪

 

Monday, May 6, 2024

খোঁজ

কী খুঁজছি না বুঝেই শুরু করি খোঁজ।
গন্তব্য জানি না, পড়ি স্টেশনের নাম।
মাকে তো নয়ই, ঠিক যাচ্ছি কোথায়,
নিজেকেও জানাই না। সারণিতে দেখি
নামগুলো, রাতে এসে এগোনো ট্রেনের।
 
বাঃ, ওই তো দূরের, কম্র হাতছানি!
কবেকার থার্ড ক্লাসে স্থান খুঁজে নিই –
প্রথম তোহফা – জানলায় একা সিট,
দ্বিতীয়ও – জানলাই, তবে লম্বা বার্থ,
তৃতীয় – মাঝের সিট, তাও না পেলে –
ওপরের কোনো বাঙ্কে পা মুড়ে – দূর!
কাগজ বেছাই নিচে, সারারাত জাগি।

সিগনালে থামে ট্রেন! … পাথরে লাফিয়ে,  
উদ্ভিন্ন রোদের বাৎসল্যে মাখি ভোর!
পাশে এসে দাঁড়ায় যে রাতের সাথীটি,
দুটো ঢিলে ঢেউ ওঠে মেঘ ধরা জলে। 

২০২৩

Saturday, May 4, 2024

হকের রোজগার

মার্ক্সকে আমি আমার প্রথম টিউশনির
মাইনের মতো হকের
                 রোজগারে পেয়েছি।
ব্যাটা দিতেই চাইতো না।
হ্যাঁ, আমারই স্কুলের বন্ধু,
ওর ভাইপোদের পড়াতাম,
রোজ জলখাবার খাইয়ে টিরকাতো …
কী ঘোরালো মাল, পয়সাটুকু দিতে!
 
ভাবলাম ঘুরবো দেশ!
অনেকেই ঘুরছে সেসময়!
হেঁটে, হিচহাইকে, আমরা সাইকেলে …
দুপুরে অন্ধ্রে ঢুকতেই, হাইওয়ের বুকে
            কাঠ মাথায় বুড়ির, দাঁড়িয়ে 
কাপড় তুলে কর্কটরেখার ওপরে পেচ্ছাপ!
পেচ্ছাপসুদ্ধু কর্কটরেখাটাই যেন
এঁটে ধরলো শিরদাঁড়া। …
এঁটে ধরলো দু’হাজার মাইলে ভালোবাসার
ঘেমো সান্নিধ্য সব – অচেনা ভাষায়,
অচেনা মায়েদের, চাষীদের, ভালো মানুষদের,
দিনান্তের মজুর আর রাতের ছাত্রদের …

মার্ক্স আমাদের সবারই
নিজের মতো উপার্জন
ততোটাই, যতোটা কবীর!
             কবীরের সঙ্গে মার্ক্স? –
             কোনো মিল হোলো? …
মিলটাও উপার্জন ভাই! –
লড়ে পাওয়া এই উপমহাদ্বীপ!
রাহুলজি বুদ্ধের সঙ্গে মার্ক্সের 
মিল দেখান। কিন্তু চেহারা দেখে আমার
চার্বাকের কথা মনে হয় –
              আমাদের আদিবুড়ো।
চার্বাক অর্জনেও তো, সেই
আমাদের বিদ্যাসাগরকেই
ভাঙতে হলো যুগবিস্মৃতির করোটি!
----
লেনিনের প্রথম বইটা আমি
হিন্দিতে কিনেছিলাম।
কিন্তু, মার্ক্সের – বাংলায়।
যেন মোটা মাথার মোটা হিসেব –
              বিহারি বাঙালি, –
মানুষের সঙ্গে কথায় লাগবেন
লেনিন, আর নিজের সঙ্গে কথায়
মার্ক্স!
বোকামি?
হ্যাঁ, তা বোকামি তো বটেই।
নিজের সঙ্গে কথা আর
মানুষের সঙ্গে কথা যে শেষে এক,
জীবন লাগছে বুঝতে!  

৪.৫.২৪