Labels
- Ajker dintar janya (10)
- Alokji's poems in English translation (6)
- Articles (133)
- Arun Kumar Roy (1)
- Behar Herald (2)
- Bhinshohore (56)
- Biography (1)
- Engels (11)
- Hindi (55)
- Housing Question (10)
- Kedarnath Bandopadhyay (1)
- Krishak Sabhar Smriti (2)
- Lok Janwad (4)
- Magadher Sahitya (6)
- Meghsumari (163)
- Other's writings (1)
- Phire ese (241)
- Plays (10)
- Poems (543)
- Poems by Robin Datta (5)
- Priyo Pochis (8)
- Purnendu Mikhopadhyay (1)
- Sanchita (1)
- Sirir mukhe ghor (20)
- sketches (7)
- Smritiprasanga (3)
- Somudro Dubhabe Dake (29)
- Song (1)
- Songs (7)
- Stories (74)
- Translations (95)
- Video (5)
- कौन थे इश्वरचन्द्र विद्यासागर (200वीं जन्मजयंती पर एक कर्मवीर की कीर्तिगाथा) (19)
Friday, October 9, 2020
অভিব্যক্তি
কমরেড নিসার
মধুচাঁদ
বিহারে রবীন্দ্রনাথ
বোধগয়া
সেই রাতগুলো বড় টানে,
যেন ব্যাপ্তির টঙ্কার ।
অন্ধকারে অশ্বত্থের নীচে
বুদ্ধ-মাহাত্ম্য কথক নিবেদিতা,
শ্রোতা রবীন্দ্রনাথ ও ছেলে রথী,
জগদীশ বসু, স্ত্রী অচলা...
পাটনা থেকে তরুণ যদুনাথ ও মথুরা পৌঁছেছেন ।
যুক্তির প্রাচীনতম দিগ্বলয়
ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখাচ্ছে এক আবেগদৃপ্ত প্রাণ,
শুনছে পিতৃশোকে বিচলিত এক চিত্ত এবং এক দরদী বৈজ্ঞানিক;
বাকিদের চোখে বিস্ময়ের আলোড়ন ।
রাতভর সবাই বোধগয়ার
মন্দিরে, ঋদ্ধ ভারতের সাধক ।
হঠাৎ কেঁপে উঠল সেই দিগ্বলয় !
বুদ্ধ বলে উঠলেন –
আমার শরণে, অর্থাৎ অন্বেষণে এগোও,
দৃঢ় রাখো তর্কের অনুশীলন – ধর্ম আমাদের,
পথটা কঠিন – সঙ্ঘে থাকো হাতেহাত ।
............
আমরা ওইসব
বড়মানুষদের ধারেকাছেও আসি না বস্ !
কিন্তু রাতগুলো আসে ।
কখনো দিনে, কখনো সন্ধ্যায়, আমাদের আলোচনায় –
বুদ্ধের হাঁকটা শুনবো কিনা, সেটা আমাদের এলেম ।
বেলা স্টেশনে
সেদিন আপনার গায়ে জ্বর ছিল রবিঠাকুর !
যার পৌঁছোবার কথা ছিল – আমাদেরই, মানে বিহারেরই তো
লোক –
পৌঁছোলোই না, অদ্ভুত !
আর আপনি, জোড়াসাঁকোর বাবু,
স্নান না, খাওয়া না,
সুর্যাস্তে সুর্যোদয়ে পথের গান লিখে গেলেন সারা দুপুর ।
পরে বুঝেছি, কবি হলেও
আসলে তো ছ’ফুট্টা কুস্তিগীর !
চওড়া কব্জির রক্তবাহী শিরাগুলো দপদপ করছে আজও !
মুঙ্গের
ব্যাথার চাঁদ আরো বড়, আরো মাদক হতে থাকে
রক্তে তার শ্বেত নির্জনতা রোধ করে ইস্পাত-আকাশ
একটু আড়াল নীলে, মৌনে মুখর হয় ব্যস্ততা মহাজাগতিক
কষ্টহরণীর ঘাটে কি শমী এসেছিল ?
মুঙ্গেরে উত্তরমুখী গঙ্গা,
অথচ কোনো উত্তর নেই
কেন কবির বুকে নিদারূণ এই শেলটা এখানেই বিঁধলো ।
এই যে এখন সেতু হল এপার-ওপার
এখনো কোনো উত্তর নেই !
মুজফফরপুর
তিরহুতের বৌ আপনার বড় মেয়ে ।
আবার স্কুলও তো একটা খুলে গেছেন, এখনো চলছে ।
শুনি, পণ নিয়ে কোনো ঝামেলায়
আপনাকে আসতে হয়েছিল আবার !
হঠাৎ শহর মুজফ্ফরপুর যখন
ক্ষুদি আর প্রফুল্লর বোমায় কাঁপলো...
মাধুরী শুনেছিলেন?
ছুটে এসে ধরেছিলেন জানলার গরাদ?
যাঃ, একটু বেশি কবিত্ব হয়ে গেল ।
কিন্তু সত্যিই তো,
এত কম আমরা জানি মুজফফরপুরের মাধুরীকে !
পাটনা
তোমার সাথে ছিল চিত্রাঙ্গদার নাট্যদল ।
পাটনা জাংশন থেকে বিশ্রামের জায়গায় তারপর মহড়ায়...
তারা কেউ সাদাকালো ছিল না, রঙীন,
তুমিও; জীবন,
নিসর্গ, লড়াই – সবই তো বাস্তবে
রঙীন !
আর, রঙে বদল নিয়ম, যেমন এলফিনস্টোন এখন ।
যা অবস্থা হয়েছে,
টিভিতে সাদাকালো এলেই – অ্যাই থাম, থাম, দেখা,
কী চলছে চ্যানেলটায়
?
রঙে আর মন স্থির থাকে না, বিশ্বাসও থাকে না আজকাল...
ভাঙা স্বাস্থ্য নিয়ে,
বিশ্বভারতীর জন্য চাঁদা চাইতে এসেছিলে, সর্বস্ব ঢেলেছিলে,
যার আচার্য এখন পদগুণে এক দাঙ্গাবাজ ।
– হাঃ ।
শুটার
তারূণ্যের দেশ
সাতসকালে সতেরোখানা বাইক, অন্তঃস্রাবে অ্যাড্রিনালিন,
রোববার, বন্দ দোকানপাট – মাঝচত্বরে দাঁড়িয়ে বৈঠক,
“হামলার অ্যাটিচুড চাই, তবে পুরো হবে টার্গেট। প্রত্যেক
বাড়ি তোমাদের বাজার; আজ কোনদিকে? অবধেশ! রবীন!”
এখন সে এম.আর.এর দিন নেই, ইয়েজ্দি হাঁকিয়ে মিঠাপুর
গুমটি পেরিয়ে...বীমা এজেন্টেরও কি আছে? সব সেল্স - ভীড়,
ঘাম, ছাঁটাইয়ের হুমকি, গলায় জিপিএস ট্র্যাকার – “শোহেব, তোমার
সিগন্যালে কাটনি, চা খাচ্ছো স্টেশনে; সাতনা যথেষ্ট দূর!”
এবং সবটাই তো বাজার – আলাদা আলাদা - চুল, খুলি, কান
চোখ, কপাল, নাক, গলা, চামড়া, নোখ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দেহের...
মেডিক্যাল, কস্মেটিক, জিমের আসবাব, হেল্থড্রিঙ্ক, গার্মেন্ট্স;
ঘরে কড়া নাড়ে শীর্ণ কালো মেয়ে, “ধুপকাঠি নেবেন?
সাবান?”
অদৃশ্য চাবুকে বিষোচ্ছে তারূণ্যের দেশ, জীবন তবু ঢেউ;
“আমরা ফ্রেঞ্চাইজি মশাই, চাকরি গেছে, যান মুম্বই, দিউ!”
এবারের বর্ষা তোমায় বাঙালির…
এবারের বর্ষা তোমায় বাঙালির খাসতালুক গদ্যে জাগাবো।
যেমন এ উদ্দীপক মেঘান্ধকার–ভুত
সুর্যস্নাত পাতায় জলবিন্দুর হাসি
দিগন্তে বিদ্যুৎচমক; --এ্যাডভেঞ্চার
জাগায় বাঙালিয়ানার দুরন্ত কিছু, মহারাজ।
তেমনই গদ্যে এবারের বর্ষা তোমায়
নিষিদ্ধ অতিক্রমণে
সমুদ্রের দিকে নিয়ে গিয়ে
জাগাবো বন্দরের দুপুরে।
টিপটিপ বৃষ্টির অনিঃশেষে
ভাত বা ধাতের তাড়ায় যে নিরুদ্দেশ সফর,
বোটের তেরপলের নিচে বেআইনি...........
এবারে কোথায় সারেং?
কোসোভো না ইস্ট টিমোর?
বাগদাদ?
জাফনা, গাজা স্ট্রিপ, নাকি
এরিট্রিয়া?
ভাষার মেঘতোরণ দিয়ে
ঢুকে খুঁজবো
ইরাবতি মেকং হয়ে আবিশ্ব এক প্রবল জাতিস্মৃতিধারা
ওখানেই আকাশটা যখন রীডবাঁশির সুরে ফিকে নীল,
বলব, ‘ভারতবর্ষ? ওই যে
ওই ঠান!
বাদবাকি যা দেখছেন সব নানা জলের পিছুটান!
যাবেন নাকি সুমাত্রা, বালি?
নৌকো তৈরি, ওস্তাদ নাবিক,
আজাদ হিন্দের ছেঁড়া উর্দি,
জাতে ধর্মে কিছু হিঁদু,
মোছলমান, কিছু বৌদ্ধ, লোমাই
কাত্তিকও বটি,
মোট সব মেলায়ে বাঙালি!’
এবারের বর্ষা তোমায় সোনার তরী নয় বরং
বিপর্যস্ত সময়ের চোরাগলিতে ফিরিয়ে
মাশাল্লা, এক জাহাজি বাঙালিয়ানায় শানাবো।



