Saturday, March 5, 2022

প্রয়োগবাদ ও ফ্যাসিবাদ

আমি দার্শনিক নই । প্রয়োগবাদ বা প্র্যাগ্‌ম্যাটিজ্‌ম সম্পর্কে খুব একটা স্পষ্ট ধারণা নেই । একটা সময় ছিল যখন এই দর্শনটাকে প্রতিক্রিয়ার দর্শন বলেই জানতাম তাই বন্ধুবান্ধবেরা অনেকেই কথায় কথায় প্র্যাগ্‌ম্যাটিক হয়ে চিন্তা করা উচিৎ ধরণের কথা বললেও আমি ওই শব্দটা ব্যবহার করতামনা ।
তারপর একদিন পার্টির অগ্রজস্থানীয় এক নেতাকে বলতে শুনলাম প্র্যাগ্‌ম্যাটিক ডিসিশন নেওয়া উচিৎ ! ভাবলাম, তাহলে কি ইতিবাচকও কোনো দিক আছে দর্শনটার ? লক্ষ্য করে দেখলাম, যখন কোনো সমস্যার নিদানে যুক্তিসঙ্গত পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা বা সাধারণ বোধ যে পথের দিকে ইঙ্গিত করছে তার যুক্তিসঙ্গতি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা হয়ত একটু সময় লাগবে, একটু ভাবনাচিন্তা, পড়াশুনো, তাত্ত্বিক কিছু হোমওয়ার্ক... অথচ একটা পথ করে এগোনো দরকার এক্ষুনি... সাধারণ বোধের ওপর ভরসা করেই নাহয় তখনই তিনি (সদর্থে, ইতিবাচক অর্থে) ওই শব্দটার ব্যবহার করছেন ।
দেখাদেখি আমিও শুরু করলাম । তবু একটা খটকা লেগেই থাকছিল ।

কিছুদিন আগে দেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী শহরে (হিন্দী ক্ষেত্রের) আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলাম । উপলক্ষ্যটা ছিল ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে নিয়ে আলোচনাচক্র । পিছনে এক অশীতিপর বোকা বাঙালী অতন্দ্র প্রয়াসে কলকাঠি নাড়িয়ে যাচ্ছিলেন অবশ্যই (নইলে বিদ্যেসাগরকে নিয়ে আজ আর কে চিন্তা করে), তবে আলোচনাচক্রের প্রধান উদ্যোক্তা ছিল একটি প্রতিষ্ঠিত গার্লস কলেজ, প্রধান বক্তারা ছিলেন সরকারের মুখ্যসচিব, নগর উন্নয়ন সচিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ইত্যাদি এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালিকা ছিলেন চোস্ত উর্দু-হিন্দী শায়রী ও কবিতার ঝড় বইয়ে দেওয়া এক প্রফেশন্যাল চুল-দোলানি (আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, আপনি কি সাহিত্যের শিক্ষিকা ? তিনি চুলের ঝাপটা মেরে তাচ্ছিল্য সহকারে হেসে কার্ড দিয়েছিলেন, প্রফেশন্যাল অ্যাঙ্করিং আর ম্যাথ্‌সের কোচিং) ।
তা সেই আলোচনাচক্রে আমি জানলাম যে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একজন অসাধারণ কবি ও ছবি-আঁকিয়ে শিল্পী । নির্মল ভারত অভিযান, নগর উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন ও উদ্যমিতা (ব্যবসা করার ঝুঁকি যারা নেয়) বিকাশ নিয়ে তাঁর লেখা থেকে অনেক উদ্ধৃতি পেলাম সেদিন ।
মানে, ভুল বুঝবেন না, আমাদেরই বিদ্যেসাগর, অন্য কেউ নয় । কর্মাটাঁড়ে যাঁর বাসভবন নন্দনকাননকে ঘিরে বিহার ও ঝাড়খন্ড বাঙালি সমিতির কাজকর্ম সম্পর্কে আমি বলতে গিয়েছিলাম এবং পরের দিন অর্থাৎ দ্বিতীয় সত্রে কিছু বলেওছিলাম বেশ কয়েকজন বিদ্বান মানুষের উপস্থিতিতে ।
সেদিন থেকেই আমার মাথায় কেন জানিনা প্রয়োগবাদ ও ফ্যাসিবাদের মধ্যে একটা অন্তর্সম্পর্কের কথা মনে এল ! বাড়ি ফিরে অন্তর্জাল ঘাঁটতে শুরু করলাম আর আশ্চর্য ! দেখলাম নতুন কিছু নয় আমার চিন্তাটা । অনেকেই লিখেছেন এ বিষয়ে ! যেমন দেখুন, নিচের লেখাটায় ।
Whenever I am doing work that involves fascism, one of the annoyances is that of establishing what fascist doctrine is. ...In fact, if one reads about the Bamberg Conference http://en.wikipedia.org/wiki/Bamberg_Conference , one sees the promotion of a pragmatic principle called the Führerprinzip, an exercise of pure party discipline with no regard for ideology, ...
Anyway, the northerners wanted something a bit more meaty on the ideological level. Hitler's response was to make clear to them that the party was his, he had control, and he expected complete obedience from each party member to his superiors. Is this really ideological purity? No. Instead it is a pragmatic exertion of party discipline to ensure that the party function as efficiently as possible and not get bogged down in issues of ideology. Such made the party easily wieldable in Hitler's hands so that whenever circumstances required a compromise on a position or with a group outside of the party, his hands were free to make it. By placing total authority with the leader, the leader is no longer bound to follow principles of the party when they prove inconvenient.
The Nazi Party was based on pragmatism, not ideological purity.
Posted by JVS on Tue Apr-28-09 09:17 PM
আবার জন পি ডিগিন্স লিখিত একটি বইএর নাম ফ্লার্টেশন উইথ ফ্যাসিজমঃ আমেরিকান প্র্যাগম্যাটিক লিবারালস অ্যান্ড মুসোলিনিজ ইটালি । বইটির শুরুতেই ইউএস কংগ্রেসম্যান মিলফোর্ড ডব্লিউ হাওয়ার্ডের বই ফ্যাসিজমঃ এ চ্যালেঞ্জ টু ডেমোক্র্যাসি থেকে একটি উদ্ধৃতিঃ-
This is the day of pragmatism, not dogmatism of realism, but a realism that can also be rich in spiritual ideals, and I want to go on record at the beginning of this unpretentious book by avowing my faith in Benito Mussolini, Italys great premier, and Fascism, the child of his marvelous brain, as the highest expression of pragmatic philosophy of government whose invariable formula is: Does it work?
এই উদ্ধৃতির পর জন পি ডিগিন্স নিজের কথা শুরু করতে গিয়ে লিখছেনঃ-
"The sources of Mussolinis popularity in this country may be easily explained, at first glance, by the action of peculiar forces in American society. A middle class, property conscious nation, confronted by the towering antithetical figures of Lenin and Mussolini would naturally turn to the charismatic Italian who paraded as the saviour of capitalism. A nation of churchgoers, faced with a crisis in moral values, would understandably respond to the image of Mussolini as the redeemer who turned back the tide of materialism and anticlericalism in Italy.... 

সে যা হোক, বাকি আরো অনেক এমন আলোচনা, অন্তর্জাল ঘেঁটে আপনারা নিজেই বার করে নেবেন । মোদ্দা কথাটা হল, আমাদের সাধারণ কথাবার্তায় প্র্যাগম্যাটিজম শব্দটা আমরা, আমাদের তত্ত্বজ্ঞানের দুর্বলতা কাটিয়ে এগোবার জন্য ব্যবহার করি । যেমন, চাঁদের পাহাড়এর শঙ্কর আলভারেজের কাছ থেকে সেক্সট্যান্টের ব্যবহার না শিখতে পেরে থাকলেও, কম্পাসের নর্থটাকে ঠিক মত বুঝতে না পারলেও এগোতে বাধ্য, নইলে অবধারিত মৃত্যু । আমাদের ক্ষেত্রেও, অনেক সময় মার্ক্সীয় তত্ত্বের জ্ঞান অগভীর থাকা সত্ত্বেও সাংগঠনিক কাজ বা আন্দোলনের পথে এগিয়ে চলতে আমরা বাধ্য । তাই সাধারণ বোধবুদ্ধির বা সহজাত বোধের ব্যবহার করি আর তার নাম দিই প্র্যাগম্যাটিজম । আপাততঃ এগিয়ে চলতে পারলেই হল । ওই সেই does it work ?... It does work. 
কিন্তু ফ্যাসিবাদের ক্ষেত্রে, বা শুধু ফ্যাসিবাদই বা বলব কেন, আজ যখন বৃহৎ বুর্জোয়াশ্রেণী (তথাকথিত কর্পোরেটস) নিজেই বুর্জোয়া গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণাত্মক -নিজেদের আধিপত্য বিস্তারে, অধিনায়কত্ব স্থাপনে সংখ্যাগরিষ্ঠের সাম্প্রদায়িকতাকে হাতিয়ার করে এগুচ্ছে তখন বলতে হয় সাধারণভাবে আজকের শাসকশ্রেণীর ক্ষেত্রে প্র্যাগম্যাটিজমের ব্যবহারটা উল্টো পথে । Does it work ? মানে পাব্লিক, বা ভোটে জয় নির্ধারক সংখ্যাগরিষ্ঠ জনতা কি খাবে ? আর যদি খায় তাহলে সেটাকেই চলার পথ ঘোষণা করে শুধু তত্ত্ব বা ভাবধারার ওপর নয়, কোনো কিছুরই হৈতুকতা বা যুক্তিনিশ্চয়তার ওপর, ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর, বৈজ্ঞানিক চিন্তাপ্রক্রিয়ার ওপর হামলা চালাও । এভাবেই প্র্যাগম্যাটিজম বা প্রয়োগবাদ ফ্যাসিবাদের, বুর্জোয়া আধিপত্য বা অধিনায়কতন্ত্রের সহায়ক হয়ে ওঠে ।

কিন্তু তাহলে কি ১৮৭০ সালের, উইলিয়াম জেমসের বা পিয়ার্সের প্র্যাগম্যাটিজম অন্য কিছু ছিল ? যুক্তরাষ্ট্র আমেরিকার শুধু রাষ্ট্রশক্তি নয়, প্রধান দর্শনটাও বিবর্তনে সাম্রাজ্যবাদী ও প্রতিক্রিয়াশীল হয়ে উঠেছে ? তাই এমনটা হচ্ছে যে আমরা ব্যবহার করছি এক অর্থে আর শাসকশ্রেণী ব্যবহার করছে ভিন্ন অর্থে ? এ প্রশ্নের জবাব তো বিদ্বান দার্শনিক বা ইতিহাসবিদেরাই দিতে পারবেন । 

Shyamaprasad Bhattacharjee

Comrade, you have raised a vital point for debate that needs to be more critically examined with introspection of our evaluation of various developments and its implementation. Before deciding our course of action on any social development, we need to examine it from its universal aspects not from its particular aspect, i.e. from universality to particularity, Contributions of Vidyasagar in a particular stage of social developments cannot be understood unless we dwell upon the past social structures and its development that shaped the social structures existed during his time. Present originates from past and present merges into future, it is not static but always is in motion and change, "pragmatism" in its narrower sense cannot describe a particular epoch divorcing it from the motion of change. You are right , as I understand ,"pragmatism " is sought to develop as part of social consciousness which would lead the people to confine themselves only on present , separating it from past that would cloud our ways to emancipation from all sots of exploitation.

Like

7 y

Dilip Kumar Sinha

Will it be a pragmatic step to evaluate relavence of Sri ISWAR CHANDRA BIDYASAGAR in context of todays social structure?

Like

7 y

Shyamaprasad Bhattacharjee

Comrade, you have raised a vital point for debate that needs to be more critically examined with introspection of our evaluation of various developments and its implementation. Before deciding our course of action on any social development, we need to examine it from its universal aspects not from its particular aspect, i.e. from universality to particularity, Contributions of Vidyasagar in a particular stage of social developments cannot be understood unless we dwell upon the past social structures and its development that shaped the social structures existed during his time. Present originates from past and present merges into future, it is not static but always is in motion and change, "pragmatism" in its narrower sense cannot describe a particular epoch divorcing it from the motion of change. You are right , as I understand ,"pragmatism " is sought to develop as part of social consciousness which would lead the people to confine themselves only on present , separating it from past that would cloud our ways to emancipation from all sots of exploitation.

Like

7 y

 

Dilip Kumar Sinha

Will it be a pragmatic step to evaluate relavence of Sri ISWAR CHANDRA BIDYASAGAR in context of todays social structure?

Like

7 y

Santi Ranjan Bal

বিদ্যুৎ, তোমার লেখাটা ভাল লাগল। তুমি যে প্রসঙ্গটি তুলেছ, তা নিয়ে আলোচনা দরকার। কারণ, আমার মনে হয়, রাস্তাখুঁজে না পেয়ে তথাকথিত প্রাগম্যাটিজমের আশ্রয় নেওয়া একটা রাজনৈতিক কৌশল যা অযোগ্য নেতৃত্বের কাছে একটি সুবিধাভোগী হাতিয়ার। এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি শক্তিশালী যুক্তি ও ভবিষ্যতে উত্তরণের উপায়ের জন্য স্পষ্ট পথনির্দেশ না থাকে তাহলে এটা বিপ্লবী আন্দোলনের পক্ষে ক্ষতিকর।

Santi Ranjan Bal

বিদ্যুৎ, তোমার লেখাটা ভাল লাগল। তুমি যে প্রসঙ্গটি তুলেছ, তা নিয়ে আলোচনা দরকার। কারণ, আমার মনে হয়, রাস্তাখুঁজে না পেয়ে তথাকথিত প্রাগম্যাটিজমের আশ্রয় নেওয়া একটা রাজনৈতিক কৌশল যা অযোগ্য নেতৃত্বের কাছে একটি সুবিধাভোগী হাতিয়ার। এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে যদি শক্তিশালী যুক্তি ও ভবিষ্যতে উত্তরণের উপায়ের জন্য স্পষ্ট পথনির্দেশ না থাকে তাহলে এটা বিপ্লবী আন্দোলনের পক্ষে ক্ষতিকর।

Bidyut Pal

Santi Ranjan Bal শান্তিদা, আপনি মোক্ষম জায়গাটা ধরেছেন । ওই জায়গাটাই আমাদের জন্য প্রধান ভাবনার বিষয় । তবে আরেকটা দিক আমার অবজার্ভেশনে ধরার চেষ্টা করেছিলাম । সেটা আজকের এই কর্পোরেট-হিন্দুত্ব শাসকীয় নেক্সাসের প্রশাসনিক সুবিধের জায়গাটা । প্রশাসন যাদের মাধ্যমে চলছে, বুর্জোয়া গণতন্ত্রের তৃতীয় স্তম্ভ সেই বিশাল একজিকিউটিভ - ব্যুরোক্র্যাসী, পুলিস, জুডিসিয়ারী ইত্যাদি, তারা সবাই কর্পোরেট সমর্থক বা হিন্দুত্বের রাজনীতির সমর্থক হয়ত নয় কিন্তু অনেকাংশে সুবিধাভোগী এবং তাই সুবিধাবাদীও বটে । তাদের যে এ্যাটিটিউডটা তাদের বিশেষ কোনো রকম অসুবিধে না ঘটিয়েই সরকারের মর্জিমাফিক চলার পথ করে দেয় সেই এ্যাটিটিউডটার দার্শনিক আবরণ, আমার মনে হয় প্র্যাগম্যাটিজম যোগায় । কিকরে যোগায় সেটা একটা দার্শনিক প্রশ্ন যার উত্তর আমার কাছে নেই । সেখানেই মনে হয়, প্রয়োগবাদ (প্র্যাগম্যাটিজম) এবং ফ্যাসিবাদের কের্নেলে একটা ইউনিটি আছে । এরই সাথে তৃতীয় একটি দিক, মধ্যমেধা, মিডিওক্রিটি । মধ্যমেধাকেও দার্শনিক আবরণ যোগায় প্র্যাগম্যাটিজম এবং তাই, এই যাকে বলছি সুবিধাবাদ, মধ্যমেধা ইত্যাদি... সবকিছুকে নিজের মত কাজে লাগিয়ে নেয় বিভিন্ন দেশে ফ্যাসিজমের রকমফেরগুলো ।

2nd March 2015

Santi Ranjan Bal

Bidyut Pal, তুমি বিষয়টি নিয়ে যথেষ্ট চর্চা, পড়াশুনা ও চিন্তাভাবন করেছ দেখতে পাচ্ছি। আমি তা করিনি। তবে আপাতদৃষ্টিতে pragmatism-কে একটা তত্ত্ব হিসাবে খাড়া করে প্র্য়োগবাদ নাম দিতে আমার আপত্তি আছে। লেনিনের 'One step forward, two steps back' - কে pragmatic চলা চলে, কারণ ১৯০৫ সালের ব্যর্থ বিপ্লবের পর পার্টিকে নতুন ভাবে উজ্জীবিত করার জন্য এটা করা দরকার। অথবা Brest-Litovsk চুক্তি বা লেনিনের New Economic Policy (NEP) -এর সিদ্ধান্ত তখনকার বাস্তব পরিস্থিতিতে শিশু সোভিয়েত রাষ্ট্রকে রক্ষা করার জন্য দরকার ছিল। তখন হয়তো অনকেই লেনিনের সিদ্ধান্তের সাথে একমত হতে পারেন নি। কিন্তূ পরবর্তী পরিস্থিতিতে লেনিনের দূরদৃষ্টি সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। ঠিক তেমনি গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স প্রভৃতি পুঁজিবাদী রাষ্ট্রগুলি ফ্যাসিষ্ট জার্মানীর আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সোভিয়েত রাশিয়ার আহবানে সাড়া না দেওয়ার ফলে, স্টালিন যে হিটলারের সাথে সাময়িক অনাক্রমণ চুক্তি করতে বাধ্য হয়েছিলেন সেটাও একটা উল্লেখযোগ্য কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের উদাহরণ যার মূলে রয়েছে pragmatism. এই সিদ্ধান্তগুলির ইতিবাচক পরিণতিই সেগুলির যৌক্তিকতার ও যাথার্থ্যের অকাট্য প্রমাণ। অর্থাৎ, আমার মতে আপাতদৃষ্টিতে মূল আদর্শ ও কর্মনীতির বিরোধী মনে হলেও অলঙ্ঘনীয় বাস্তব পরিস্থিতির সার্থক মোকাবেলা করার জন্য pragmatic সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে। এটা কোন ism-এর ব্যাপার নয়। প্রতিকূল বাস্তব পরিস্থিতির মোকাবেলা করার জন্য এটা দরকার হতে পারে। তবে অযোগ্য লোকের পক্ষে এটা ব্যবহার করার পেছনে সুবিধাভোগী ঝোঁকও থাকতে পারে। সে সম্পর্কে সতর্ক হতে হবে। আমার মতে এটা কোন ism-এর ব্যাপার নয়। ফাসিষ্ট বা পুঁজিবাদী বা সমাজতান্ত্রিক যে কোন রাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ পরিস্থিতিতে এর প্রয়োজন হতে পারে। এটা একটা কৌশল মাত্র। আমার মতে এটাকে প্রয়োগবাদ হিসাবে ব্যাখ্যা করে একটা মতাদর্শ হিসাবে খাড়া জলঘোলা করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সমতুল।

Santi Ranjan Bal

বিদ্যুৎ, আমার আরও একটি কথা মনে হচ্ছে। যে কোন তত্ত্ব বা ism-এর সার্থকতা বোঝা যায় তার প্রয়োগের মধ্য দিয়ে। তাই প্রয়োগবাদ বলে একটি আলাদা মতবাদ কি হতে পারে? এটা তথাকথিত pragmatism-কে একটা তত্ত্ব হিসাবে খাড়া করার একটা সুবিধাবাদী ঝোঁক নয় কি, যা অযোগ্য লোকের হাতে পড়ে সংগ্রামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে? তাই pragmatic কারণে কোন সিদ্ধান্ত নিতে গেলে তার যার্থাথ্য সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে হবে। তোমার মতামত পেলে খুসী হব।

 

Santi Ranjan Bal

বিদ্যুৎ, তুমি এই প্রসঙ্গে বিদ্যাসাগর মহাশয়ের আলোচনাচক্রের উল্লেখ করেছ, তা থেকেই বোঝা যায় pragmatism-এর আশ্রয় নিয়ে একজন প্রথিতযশা শ্রদ্ধেয় বাঙ্গালী সমাজসংস্কারকের চরিত্র কিভাবে বিকৃত করে দেখানো হয়েছে। যেহেতু কারমাটাড়ের লোকে তাঁর নাম জানে তাই বর্তমান শাসককুল নিজেদের প্রতিক্রিয়াশীল স্বার্থে ব্যবহার করার জন্য উদ্ভট বক্তব্যের আশ্রয় নিয়েছে। এটাও কি একধরনের 'প্রয়োগবাদ'? আমার ধারনা পরিশীলিত চিন্তা বিপথে চালাবার জন্য এটা বিরোধীদের একটি কৌশল।

Bidyut Pal

সত্যি বলতে, প্রয়োগবাদ শব্দটা আমিও ব্যবহার করতে চাইনি । কিন্তু প্র্যাগম্যাটিজমের বাংলা হিসেবে ওই শব্দটাই হাতের কাছে, অর্থাৎ নেটে পেলাম । বাংলায় দার্শনিক চর্চায় প্র্যাগম্যাটিজমের জন্য কী ব্যবহার হয় জানতে পারলে নিজেকে শুধরে নেব । আর ওই যে আপনি লিখেছেননা "আপাতদৃষ্টিতে মূল আদর্শ ও কর্মনীতির বিরোধী মনে হলেও অলঙ্ঘনীয় বাস্তব পরিস্থিতির সার্থক মোকাবেলা করার জন্য pragmatic সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হতে পারে" এইখানেই, প্র্যাগম্যাটিজম শব্দটার ব্যবহারে আমি সন্দেহ প্রকাশ করছি । লেনিন বা স্টালিনের মত নেতা তো তাঁদের দূরদৃষ্টি আর দ্বান্দিক বিচক্ষণতায় নেবেনই এমন সিদ্ধান্ত যা 'আপাত দৃষ্টিতে' আমাদের মত লোকেদের 'মূল আদর্শ ও কর্মনীতির বিরোধী' মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে তো তা নয় ! বরং সেই পরিস্থিতিতে সেটাই মার্ক্সবাদের সঠিক প্রয়োগ ! যখন নাকি (আমার মনে হয়) প্র্যাগম্যাটিজম এক ধরণের একলেক্টিসিজম এবং দর্শন হিসেবে মূলতঃ প্রতিক্রিয়াশীল । আমরা শব্দটা নিছক ভাষাবিভ্রাটে ব্যবহার করি ।

 

No comments:

Post a Comment