Sunday, February 11, 2018

পৃথিবী তৈরি হয় প্রতিদিন (হিন্দী কবি আলোকধন্বার কিছু কবিতার অনুবাদ)

কেউ বলেছিল অনুবাদ করতে । বেশ কিছু বছর আগে । কবিও জানতেন না । কাল বললাম । এও বললাম, পড়ে আছে, বরং ফেসবুকে দিয়ে দিই । অন্ততঃ ভূল ধরারও তো দু’একজন পাওয়া যাবে !

 

আমগাছ

বিশ বছর পুরোনো
সাঁঝরঙা এ আমগাছ

বেশ ক’টি ডাল
ভুঁই অব্দি ঝুঁকে উপরে উঠেছে
কয়েকটি
গুঁড়িটাকে নিজেদের সাথে
ওপরে আকাশে নিয়ে গেছে

রাতে এ গাছটির নিচে
শুকনো ঘাসের মত উষ্ণতা
নীড়, পাখিদের নিঃশ্বাস
তাদের ডানা আর বিষ্ঠার গন্ধ
কালো মাটির মত ছায়া।

নদীরা

ইছামতী ও মেঘনা
মহানন্দা
রাবি ও ঝিলম
গঙ্গা গোদাবরী
নর্মদা ও ঘাঘরা
নাম নিতেও কষ্ট হয়

সেটুকুই দেখা হয় এদের সাথে
যেটুকু চলার পথে এরা এসে পড়ে

আর তখনও মাথা
কত কম এদের কাছে পৌঁছোয়
মাথা তো ভরা থাকে
লুটেরাদের
বাজারের কোলাহলে ।

ছাগলেরা

যদি অসীমে থাকত ঝোপ
ছাগলেরা অসীমেও যেত
পেটভরে পাতা খেয়ে
ফিরে আসতো
পৃথিবীর কোনো পরিচিত বারান্দায়

যখন আমি প্রথম পাহাড়ে গেলাম
পাহাড়ের খাড়া চড়ানেও
দেখা হল ছাগলদের সাথে
অনেক নিচের গ্রাম থেকে
গ্রীষ্মে হারিয়ে যেতে থাকা সবুজের সাথে উঠতে উঠতে
তারা চলে আসতো উপরে
   
কিন্তু রাখালের দেখা পেলাম না কোথাও
হয়ত ঘুমিয়ে ছিল তারা
কোনো অশ্বত্থের ছায়ায়
এ সুখ আছে তাদেরই কপালে।

ঘুম

রাতের বখাটেরা
আমারও চিত্তের কাছে দাঁড়াও
দাও এমন ঘুম
যার ওপর একটি তৃণেরও ভার নেই

এমন ঘুম
যেন চাঁদে জলীয় ঘাস।

শরীর

মানবীরা যুগ যুগ ধরে যে’টির রচনা করল
যুগের পর যুগে, রাতগুলোয় এত আপন হল শরীর
আজ তা’ খুঁজতে বেরোলাম আমি নিজের শরীরে।

তফাৎ    

দেখো
একদিন আমিও ওভাবেই সন্ধেবেলায়
কিছুক্ষণ বেড়াতে বেরোবো আর
ফিরে আসতে পারব না!

সবাই বুঝবে যে আমি
শেষ করেছি নিজেকে।

না, অসম্ভব,
সম্পূর্ণ মিথ্যে হবে সে খবর!
তুমিও বিশ্বাস করে বোসো না আবার
তুমি,
যে জানো আমাকে একটু আধটু!
অসংখ্যবার
আমার জামায় ঠিক হৃৎপিন্ডের কাছে
ব্যাজ লাগিয়েছো লাল ঝান্ডার,
তুমিও বিশ্বাস করে বোসো না ভাই!

নিজের দুর্বল থেকে দুর্বলতর মুহুর্তেও
তুমি ভেবো না
যে আমার মস্তিষ্কের মৃত্যু হয়ে থাকবে!
না, কখনও না!

হত্যা ও আত্মহত্যাগুলি এক করে দেওয়া হয়েছে সময়ের
এই আদ্ধেক অন্ধকারে।
তফাৎ করে নিও কমরেড!

 

জেলাশাসক

তুমি এক পিছিয়ে থাকা বক্তা।

বিরোধের এমন ভাষায় রাখো বক্তব্য
যেন রাজাদের বিরোধ করছ।
এ ভাষা এমন এক সময়ের
যখন লোকসভার জন্ম হয়নি।

তুমি কি ভাবো
লোকসভা
বিরোধের ভাষা এবং বিষয়বস্তু
তেমনই থাকতে দিয়েছে
যেমন ছিল রাজাদের যুগে?

এই যে মানুষটি
টেবিলের অন্যদিকে বসে তোমায় শুনছে
এত কাছ থেকে এবং মন দিয়ে
এ রাজা নয় জেলাশাসক।

                                    রাজাদের চেয়ে
                                    অনেক বেশি শিক্ষিত সাধারণতঃ
রাজাদের চেয়ে বেশি
তৎপর ও তন্নিষ্ঠ এই জেলাশাসক!

দূরে কোনো কেল্লায় – ঐশ্বর্যের নির্জনে নয়
মানুষটি,
আমাদেরই গলিতে জন্ম নেওয়া এক বালক।
আমাদের নানান অসফলতা ও ভূলের মাঝে
এর প্রতিপালন – এ জানে আমাদের  
সাহস আর লোভ;
নিজের ভিতরে
ধৈর্য ও ভাবনা ধরে
অনেক বেশি, রাজাদের চেয়ে!

এ উৎপন্ন করতে পারে বেশি ভ্রান্তি
বেশি ভালো করে স্বাধীনতা থেকে দূরে
সরিয়ে রাখতে পারে আমাদের।
কঠোর
কঠোর সতর্ক দৃষ্টি চাই
সরকারবাহাদুরের
অতি উত্তম এই মাথাটির ওপর!

কখনো কখনো তো
শিখতেও হতে পারে
এর কাছ থেকে!


ছাতে মেয়েরা

ছাতে
এখনও আসে মেয়েরা
আমার জীবনে পড়ে তাদের ছায়াগুলি।

জানা কথা যে মেয়েরা ওই ছেলেগুলোর জন্যই এসেছে
যারা তাশ খেলছে নিচে গলিতে
নর্দমার ওপর তৈরি সিঁড়িগুলোয়  
অথবা খাচ্ছে চা
ফুটপাথের উন্মুক্ত চা’খানার বেঞ্চিগুলোয়
ওই ছেলেটিকে ঘিরে
যে খুব মিষ্টি বাজাচ্ছে মাউথ অর্গানে
আওয়ারা এবং শ্রী ৪২০ এর অমর সুর।

ভুঁইয়ে বেছানো একটি দোকান, পত্রিকার
তার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু যুবক 
                        পড়ছে খবরের কাগজও।
সবাই ছাত্র নয় তার মধ্যে
কিছু বেকার কিছু চাকুরে
আবার রয়েছে কিছু নিষ্কর্মাও

কিন্তু ওদের সবার রক্তে আছে প্রতীক্ষা
একটি মেয়ের!
আশা আছে
যে ওই বাড়ি ওই ছাদগুলি থেকে
কোনো সন্ধ্যায়
আসবে ভালোবাসা।


আলো, জীবনের প্রথম সিনেমার

যে রাতে ভাঙল বাঁধ
আর জল ঢুকল শহরে

তুমি খোঁজটাও নিলে না

যেন এত বড় হলে নারী
এই শহরটি ছাড়াই
যেখানে তোমার প্রথম রেলগাড়ি ছিল
আর আলো ছিল
জীবনের প্রথম সিনেমার।


চৌরাস্তা

সে নারীদের ঐশ্বর্য আমার সঙ্গে রইলো
চৌরাস্তা পার করতে যাঁরা শেখালেন আমায়।  

ছিলেন তাঁরা আমাদেরই পাড়ার
কাজে যেতেন রোজ সকালে
তাঁদের পথে পড়ত আমার স্কুল
মা আমায় তাঁদের হাতে ছেড়ে দিতেন
ছুটি হলে তাঁদের অপেক্ষা করতাম
তাঁরা আমায় অপেক্ষা করতে শেখালেন।

জনপদের স্কুলটায়
প্রথম ভর্তি হয়েছিলাম
কিছু দিন পর
একাই যেতে লাগলাম
আর তারও কিছুদিন পর
অনেক ছেলেরা বন্ধু হয়ে গেল আমার
তখন একসাথে আমাদের
আরো অনেক অন্য রাস্তা দিয়েও
স্কুলে যাওয়া আসা শুরু হল

কিন্ত আজও
ওই ক’টা দিনের এত দশক পরেও
যখন কোনো বড় শহরের
এলোমেলো চৌরাস্তা পেরোই
সে নারীদের কথা মনে পড়ে
আর আমি আমার ডান হাত
তাঁদের দিকে বাড়াই
বাঁহাতে ওই স্লেটটা সামলাই
যেটা কুড়ি বছরের
খবর-কাগজের
পিছনে ছেড়ে এসেছিলাম! 


দাম

এখন তো ভুলে যাওয়ারও বেশ ভাল দাম পাওয়া যায়

এখন তো এটাই করে
লোভী নীচ মানুষেরা।

আকাশের মত হাওয়া

সমুদ্র,
তোমার তটগুলি শরতঋতুর

আর তুমি নিজে সমুদ্র
সূর্য আর লবণের

তোমার কন্ঠস্বর
আন্দোলন ও গভীরতার

আর অনেক দেশ পার করে
তোমার ভিতরে পৌঁছনো
হাওয়াগুলি
আকাশের মত

তোমায় পার করার ইচ্ছে
বেশি হয় না
হারিয়ে যাওয়ার
ভয় থাকে সব সময়।


রেলগাড়ি

প্রত্যেক ভালো মানুষের একটি রেলগাড়ি থাকে
যেটি তার মায়ের বাড়ির দিকে যায়

হুইসিল বাজিয়ে
ধোঁয়া উড়িয়ে।

জংশন

আহ, জংশন!
রেলগাড়িগুলো বেশিক্ষণ দাঁড়ায় যেখানে
বাকি পথটুকুর জন্য জল নেয়

আমি খুঁজি সেখানে আমার
পুরোনো সহযাত্রী।

শরতের রাত

শরতের রাতগুলি
এত হাল্কা আর খোলা
যেন কাল সকাল অব্দি পুরোটাই
                        সাঁঝ

যেন এই সাঁঝের পরের
রাতগুলি হবে অন্য মরশুমে। 

পথ

বাড়িগুলির ভিতর দিয়ে যেত পথ আমাদের
এত বড় উঠোন
সবদিকে বারান্দা আর বারান্দা
দরজাগুলো গলিতে খুলত
ওদিক থেকে রোদ আসত দিনের শেষ অব্দি

আর ওই গাছগুলো
এমনভাবে ছিল ছাতে ছাতে ঘেরা
গাছে চড়তাম
আর নামতাম যে কোনো ছাতে

ছিলাম বাঁদরের চেয়ে বেশি বাঁদর
বেড়ালের চেয়ে বেশি বেড়াল

বিজলির খাম্ভাগুলো
পাথর দিয়ে বাজাতে বাজাতে, গলিতে
কাল আমরা ছিলাম।

সুর্যাস্তের আকাশ 

অতগুলো সুর্যাস্ত তার অতগুলো আকাশ
অত তার রঙ
দীর্ঘ রাজপথে সন্ধ্যা
ধীরে, খুব ধীরে ছাওয়া সন্ধ্যা
হোটেলগুলোর আশেপাশে
আলো আলো
মানুষের ভীড়
দূর অব্দি দেখা যাওয়া তাদের চেহারা
তাদের কাঁধ পরিচিত কন্ঠস্বর

এসব কিছুকেও ঘটনার মত কোনোদিন
লিখবে কবি এ দেশে।

বিস্ময়, তরমুজের মত

যখন তার তীর থেকে ফিরে এলাম
বেশি বড় দেখা গেল তাকে

সে নারীদের এখন বেশি দেখতে পাই
যারা চুমো খেয়েছিল আমায় শৈশবে

ওই পশুরা
যারা সুদূর রোদ্দুরে আমার সাথে খেলত
আর পারতো না প্রতীক্ষা করতে

আর ওই প্রথম ছাতাগুলো
যেগুলোর খুব কাছে ছিল মেঘ

সমুদ্র আমায় নিয়ে চলল সেই দুপুরে
যখন ডাকতেও পারতাম না
কান্নাই ছিল ডাক

যেখানে বিস্ময়
তরমুজের মত
যতটা সবুজ ততটাই লাল।

থিয়েটার

পার্কের বেঞ্চির
কোনো শেষ নেই
শুধু ভরটা দিয়ে পার্কে
আছে শহরের বাইরে অব্দি

সেতুর আলোগুলোর
কোনো শেষ নেই
আমার রাতগুলো ভরা ওই আলোয়
মরণের সামনেও
থাকবে স্মৃতিতে

দীঘলচঞ্চু ছোটো পাখি
কাঠঠোকরা
কোনোরকমে দু’তিনবার দেখেছি
গত দশবারো বছরে

আবার দেখা দেবে পাখিটা
এবার থিয়েটারে

থিয়েটারের কোনো শেষ নেই
কোনো একটা ইমারতের নাম নয় থিয়েটার।

পাখি ও তারারা

পাখিরা যাচ্ছে আর তারারা আসছে

কয়েক মিনিট আগে
সূর্যাস্ত ধুয়েছে আমার ঘষা প্যান্ট

আমার সামনে যে মাঠ
সেটি অনেকক্ষণ অব্দি অদৃশ্য হতে থাকলো
আমার চলায় উঠতে থাকলো তার ধুলো

এত আর্দ্র বেগুনি দানা
পড়ছে, ছড়িয়ে যাচ্ছে অবিরাম আমার ছায়ায়
যেন আমার আসাই উচিৎ হয়নি
এদিকে।

সাতশো বছর পুরোনো ছন্দ

পৃথিবী ঘুরতে ঘুরতে গেল কোনদিকে
যে ফুল ফুটলো আপেলে

আলাদা আলাদা করে
ছোটো ছোটো শহরের চাঁদ
বৃষ্টি থেকে উপরে উঠতে থাকা তাদের শান্তি
মনে পড়লো

ঘাসের পাতার ওপর দাঁড়িয়ে গেল ফোঁটা
ছড়িয়ে পড়তে লাগলো সমস্ত ঘুমে  

রোদ্দুর নামলো লেবুতে

প্রথম প্রেম যখন ছাই হয়ে গেল
নিজেকে বাঁচিয়ে নিলো ওই শ্যামলী নৃত্যশিক্ষিকা
দাঙ্গার বিরুদ্ধে প্রভাতফেরিতে তাকে দেখা গেল আবার
শরীরে ও সমুদায়ে এক

লম্বা ছুটি মাঝখানেই শেষ করে
কাজে ফিরলো আবার
অনুশীলন করাতে এল নিজের ছাত্রীদের
ছন্দ, সাতশো বছর পুরোনো ।

সমুদ্র ও চাঁদ

যখন সে চাঁদের দিকে উঠছিল
পশ্চিম ভারতের শেষ প্রান্তে
সেই সন্ধ্যায় আমি সমুদ্রকে দেখলাম

আর চাঁদ
ট্রামের চাকার মত বড়
আর ওই শহর কলকাতা বহুদূর
যেখানে ট্রাম চলে

সমুদ্র উঠছিল চাঁদের দিকে
যেভাবে উঠতে পারে শুধু ঘোড়া
যেমন ঘোড়া দেখাই যায় তখন
যখন দৌড়োয়

সমুদ্র উঠছিল চাঁদের দিকে
আমি এক্কেবারে কাছেই দাঁড়িয়েছিলাম
এমন এক একাকীত্ব এমন এক উত্তেজনা
কাঁদারও ইচ্ছে হয়েছিল
কিন্তু বেরুলো না

আর কিভাবে রাত আসছিল
অত উঁচু ঢেউএ
কোথাও
শুধু আমার পুরোনো জামাটায় ছাড়া
দেখা যাচ্ছিলো না

বেশিক্ষণ দাঁড়ানো ছিল কঠিন
বোম্বাইয়ের ভিতরে ফিরে এলাম।

পায়ে চলা পথ

ওখানে সঘন বৃক্ষরাজি
ভিতরে যায় পায়ে চলা পথ

একটু এগিয়ে উৎরাই শুরু হয়
নামে নদীর তীরে
যেখানে নারীরা রয়েছে
নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে
কাটতে থাকে ঘাস
বৃক্ষরাজির ভিতরেই
তাদের কথাবার্তা শুনতে পাওয়া যায়।

মীর

মীর কে নিয়ে কথা বলো
তো সে কথাগুলোও ততটাই ভালো লাগে
যতটা মীর

আর তোমার ওই কয়ে চলা
প্রেমপাগলামির সারল্যে
হৃদয় হৃদয় করা
হৃদয় নিয়ে কথা বারবার
জোর দিয়ে বলা নিজের হৃদয় বিষয়ে যে
জনাব এ সেই হৃদয়
যে মীরের গলি হয়ে এসেছে।

বাসনা

যেখানে নদীরা সমুদ্রের সাথে দেখা করে
সেখানে কী আছে আমার
আমি জানিনা
কিন্তু যেতে হবে ওদিকে একদিন

ওদিকে কাউকে যেতে দেখলে
কেমন চাগিয়ে ওঠে বাসনা!

কে বাঁচালো আমার প্রাণ

কে আমার প্রাণ বাঁচালো
দু পয়সার মোমবাতির আলো

দুচারটে সেদ্ধ আলু

শুকনো পাতার আগুন
আর মাটির বাসনগুলো
খড়ের বিছানা আর
খড়রঙা চাঁদ

পথনাটিকার বখাটে দেখতে ছোকরাগুলো
ছেঁড়া কাপড় পরে
সত্যের গৌরবের মত কন্ঠস্বরে
মোড়ে মোড়ে কঠিন মোকাবিলায়
যারা দাঙ্গাকারীদের করলো তাড়া
শিখলো রঙ্গমঞ্চ বীর ভারতীয় তরুণদের কাছে
ভেজা বস্ত্রের মত আকূল অভিনয়

ঠাকুমার জন্য রুটি সেঁকার চিমটে নিয়ে
ইদগাহের মেলা থেকে ফিরতে থাকা ছোট্টো হামিদ
আর ছয় ডিসেম্বরের পর
ফেব্রুয়ারি আসতে আসতে
জংলা কুল
এরা সব বাঁচালো আমার প্রাণ।


ক্যারাভান

সমুদ্র আর শহর
একে অন্যের স্মৃতিতে ভরপুর

বন্দর এদের পথ
আর শ্রমিক এদের ক্যারাভান

সন্ধ্যায় গভীর জলে
যখন জাহাজীরা নামায় নোঙর
শহর নিজের আলো জ্বালে
দরজায় দাঁড়ানো নারীরা দেখা দেয়
কী আছে ওদের মনে
কেমন জমি
বালুর ওপরেও জল
আর বালুর নিচেও জল

সমুদ্রে কাজ করা মানুষেরা
যখন শহরে আসে
রাত শুরু হয়
এটা ছুটির হপ্তা
এক হপ্তার রাত শুরু হয়
সাত দিন শুধু রাত আর রাত
দুঃখ থাকবে কিন্তু খোলা থাকবে রেস্তরাঁ
মাঝরাতের পরেও সিনেমা দেখান হবে

গান গাওয়া হবে দলে দলে
নারীদের সঙ্গে সঙ্গে গাইবে পুরুষেরা
গানে বাচ্চারাও শামিল হবে
আর গৃহপালিত পশুগুলোও

জাহাজের নোঙর শুয়ে থাকবে জলে

আবার পরের হপ্তায় সমুদ্র, শুধু সমুদ্র থাকবে
কিন্তু এ হপ্তায় শহর, শুধু শহর।

নিজের কথা

কত দিন ধরে রাত
আসছে যাচ্ছে পৃথিবীতে
তবু তাকে দেখা
তার মধ্যে থাকা
এক অসামান্য কাজ মনে হয়

মানে আমি
নিজের কথা বলছি।


(‘দুনিয়া রোজ বনতি হ্যায়’ বইটির ছোটো কবিতা এখানে শেষ হল। এবার এদিকে পত্রিকায় মুদ্রিত কবিতা থেকে।)


দেখা

হঠাৎ তুমি চলে এস

এত রেলগাড়ি চলে ভারতে
যে কোনো সময়
যে কোনো জায়গা থেকে
তুমি আমার কাছে আসতে পারো

কিছুদিন থেকো এই ঘরে
যেটা ততটাই তোমার
গভীর পিপাসা রয়েছে তোমাকে দেখার
তোমাকে শোনার

কিছুদিন থেকো
যেন তুমি যাওনি কোথাও

আমার হাতে সময়
কম হয়ে চলেছে
আদরের বন্ধু আমার

মানুষজনে সঘন ভরা আমার দেশ
সন্ধ্যে হতেই
কত নারী আপন
ঘরে ফেরে
বহু বার সত্যিই মনে হয়
তুমি ওদেরই মাঝে কোথাও
আসছ
সেই রোগা শরীর
মিহি চেকের সুতি শাড়ি
কাঁধে ঝুলন্ত
ঝালর লাগানো ব্যাগ
পায়ে চটি
আমি বলি জুতো পরো খেলোয়াড়দের
ছুটোছুটিতে ভরসা করা যায়

তোমারও বেশি মন লাগবে নিজের কাজে
আমার সাথে একবার দেখা করে ফিরলে

সুখদুঃখ আসবে যাবে
সবকিছু পার্থিব এখানে
কিন্তু দেখা হওয়া পার্থিব নয়
দেখা হওয়ার সতেজতা
থাকবে এখানেই, হাওয়ায়!
দেখা হলে তৈরি হয় নতুন জায়গা
একবার আবার দেখা হওয়ার পরও
একবার আবার দেখা হওয়ার ইচ্ছে
শেষ হবে না কখনও পৃথিবীতে

চেন্নইয়ে কোকিল

চেন্নইয়ে কোকিল ডাকছে
যখন নাকি
মে মাস এসে গেছে
সমুদ্রের তীরে এই শহরে

কোকিল ডাকছে নিজের ডাক
কী হিন্দী
আর কী তামিল
তেমনই মিষ্টি ডাক
যেমন অওয়ধের আমবাগানে!

কোকিল
বাঁচিয়ে রাখছে সেই ঋতু
যে ঋতুর বিষয়ে আমরা
কম জানি কোকিলের চেয়ে!

বৃষ্টি

বৃষ্টি একটি পথ
নারীর কাছে যাওয়ার

ঝরতে থাকা জল
জীবিত ও মৃত মানুষদের
মাঝখানে বয়ে যায়

এক ধরণের রাত
বৃষ্টি

এত দীর্ঘ সময় পরেও
একটি সুদূর ও বহিরাগত বস্তু

শরীর থেকে বেশি
মাথা ভেজে

বহু বার এক হতে থাকে
ঘর ও বাহির!

বড় পশুরা
আষাঢে
দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে
ভেজে অনেকক্ষণ
আকাশের নীচে জাগায়
আদিম দিনের কম্পন

বৃষ্টির শব্দে
মিশে রয়েছে আমারও কন্ঠস্বর!


প্রশ্ন বেশি

পুরোনো শহর
চায় উড়তে
কিন্তু ডানা তাদের 
আকচার ডোবে রক্তের কাদায়!

আমি আজও
ওই শহরগুলোর চৌরাস্তায়
কখনো বক্তৃতা দিই
যা আমার বহু বছর ধরে কাজ
কিন্তু আমার
নিজেরই কন্ঠস্বর এখন
অপরিচিত মনে হয়

নিজের ভিতরে আমি ঘেরাবন্দি হচ্ছি

প্রশ্ন বেশি
আর
কথা বলার লোক
কেউ কেউ
পরাজয়টা বড়, মানুষ হওয়ার
তবু এত স্বাভাবিক কেন জীবন?

রেশমা

রেশমা গান
আমাদের জাতিটাকে
কোনো একটি দেশকে নয়

যখন গান
গঙ্গা থেকে সিন্ধু অব্দি
ঢেউ ওঠে

কোথায় নিয়ে যান
কোন অসমাপ্ত
অসফল প্রেমাখ্যানের
বেদনায়

রেশমা জাগান
বহু শতাব্দী পিছনে ছেড়ে আসা শরীর
ধুলো থেকে
অশ্রু ও কুঁড়ি থেকে উঠিয়ে

এমন বিষাদ
ও দোটানায় ফেলেন
শূন্যতাও ভরে মনে

অনেক বার বুঝতেও পারি না
পিছনে ছেড়ে যেতে থাকে জগৎ
কিছু করে উঠতে পারি না

অনেক বার বাইরে নিয়ে যান
জাতি আর দেশগুলি থেকেও
আবার থেকে ভবঘুরে করতে চান নাকি
মানুষকে?

কার প্রয়োজন
রেশমার গাওয়া ওই
অশান্ত প্রেম!

আমি শুনি ওনাকে
বার বার

শুনি কি, বরং
ফিরি ওনার দিকে
বার বার
যেটা ওই একবারই
কিন্তু বদলে যেতে থাকে
তাঁর কন্ঠস্বর
ইষৎ আর্দ্র
কাছে ডাকেন

দূরে দূরে থাকা আমাদের!



Friday, December 1, 2017

साइकिल पर कन्याकुमारी

नगाड़े का पूर्वाभ्यास
1970 के मार्च महीने की शुरुआत तक हम पूरी तरह तैयार हो चुके थे । हम मतलब, मैं, चपल बनर्जी, बिष्टुपद दत्ता, असीत पर्वत और आशीष आयकत। हमारी साइकिलें तैयार थीं, 14 छेद वाले रेंच, रबड़ चिपकाने के सल्युशन, ट्यूब के टुकड़े, कैंची, सरेस कागज आदि के साथ किट भी तैयार कर लिये थे लेकिन छोड़ना पड़ा क्योंकि हैन्डपम्प खरीदने के पैसे नहीं जुट पाये। मेरे पास थे पचीस रुपये, चपल के पास भी लगभग उतने ही थे, बिष्टु बताया तो था कि उतने ही उसके पास भी हैं, पर बाद में शक के घेरे में आ गया था । असीत के पास नि:सन्देह ज्यादा रहा होगा; थोड़ा शौक रखता था बेचारा । आशीष निश्चिन्त था कि आधा रास्ता जाते जाते उसके वापसी की बुलाहट आ जायेगी – उसके बीमार पिता की जगह उसे नौकरी पर रखने के लिये औपचारिक अनुशंसायें आदि हो चुकी थीं । फिर भी इन्हे लेकर पाँच लड़कों की टीम बनाने का कारण थे हमारे प्रिन्सिपल सर एवं हमारे परिवार । हम सब वाणिज्य महाविद्यालय के छात्र थे एवं हमारे प्रिन्सिपल सर, पी॰ एन॰ शर्मा - जिनसे हम सभी डरते थे - को खुश करना था कि एक बड़ी टीम को उन्हे कॉलेज के गेट से रवाना करना है । दूसरी ओर, परिवार को तसल्ली देना था कि हम सब अपने अपने घरों के अकेले सिरफिरे नहीं हैं। हमारा छोटा सा दस्ता है । खैर सब कुछ तैयार था । घरों अपनी माँओं को भी हम, जहाँ तक मजबूरी थी रुला चुके थे । तारीख तो याद नहीं पर इतना याद है कि निकलने के बारह दिन बाद होली आई थी । वह भी एक खास कारण से याद है ।
घर से निकल कर पाँचों कॉलेज में जुटे और फिर कुछेक दर्जन छात्रों की उपस्थिति में प्रो॰ पी॰ एन॰ शर्मा ने हमें विदा किया । आखरी वक्त तक सुझाव देने वालों में ‘तैराक मिहिर सेन के एक्स्प्लोरर्स क्लब से स्पॉन्सर करा लेने’ से लेकर ‘साथ में रिवॉल्वर रख लेने’ को कहने वाले शामिल रहे पर हमने उनमे से किसी की नहीं सुनी । हाँ, दो साल पहले साइकिल से राजगीर जाते वक्त बख्तियारपुर से आगे हमने रास्ते में खजूर का ताजा ‘वैसक्खा’ (ताड़ का नहीं भई) उतार कर ले जाने वालों को पकड़ा था, उन्ही के टिफिन का डब्बा भर कर पिया था, इस बार भी पीना है, ये बात याद थी ।
लेकिन वे रास्ते में मिले नहीं । पहला दिन पैर सबका खुल नहीं रहा था । हम में से किसी का कोई परिचित भी था बिहारशरीफ में । वहीं हम खाना खाये और रात को रुक गये । किस तरह रुके, यानि कहाँ सोये बिल्कुल याद नहीं । लेकिन उनके एक सुझाव पर हमने तत्काल अमल करना शुरु किया जो बहुत काम आया पूरी यात्रा में । बल्कि जहाँ तक याद है उन्होने यानि, घर के जो अभिभावक थे, खुद ही शुरुआत करवा दी । एक मोटी कॉपी मंगवाई और बिहारशरीफ थाने पर हमे ले जा कर लिखवा लिया, “अमुक, अमुक (पाँच जनों का नाम) आज (तारीख) को पटना से शाम 7 बजे बिहारशरीफ पहुँचे । कल सुबह वे यहाँ से आगे के लिये गया के रास्ते रवाना होंगे ।” थाने का मुहर लगवा दिया उस पर । हिदायत भी दी कि जहाँ भी रात को रुकना हो पहले थाने पर जाकर इस डायरी पर इसी तरह लिखवा लें। बाद में, खास कर आंध्र प्रदेश में श्रीकाकुलम वगैरह का इलाका पार करते समय, यहाँ तक कि त्रिवन्द्रम (आज का तिरुअनन्तपुरम) पहुँच कर भी यह डायरी बहुत काम दिया । बल्कि कई जगह तो सिपाहियों से दोस्ती भी हो गई उस डायरी के कारण ।
अगले दिन सुबह राजगीर होते हुये गया पहुँचे और वहाँ भी रुक जाना पड़ा । किसी का कोई परिचित था वहाँ भी । फिर अगली सुबह आगे बढ़े तो बोध गया होते हुये डोभी पहुँचे । जी॰ टी॰ रोड पर चढ़ कर रोमांचित हुये । अब शुरु हुआ नैशनल हाइवे का सफर ।
रात में बरही रुक गये । और फँस गये । यानि लगा कि गये । सरकारी बंगला बिलकुल खाली था । चौकीदार को पटिया कर घुस गये एक कमरे में । रात के दस बजे गाड़ी की आवाज हुई । चौकीदार ने खबर दी कि दिल्ली से कलकत्ता जा रहे हैं सीआइडी या सीबीआई के कोई बड़ा अफसर । थोड़ी देर में बुलाहट भी आ गया । उस वक्त नक्सलवाद का आन्दोलन बिहार में युवाओं को रोमांचित कर रहा था । पर उस वक्त हमें एक दम ही रोमांच नहीं हो रहा था सोच कर कि झूठमुठ इन्टेरोगेशन के नाम पर अगली सुबह रोक लिये जायें । यह तो तय था कि दिल्ली से कलकत्ता यह बड़ा अफसर नक्सलवाद से ही सम्बन्धित काम से जा रहा था । … खैर, हम उनके कमरे में गये । जान बची जब लगा कि कल सुबह रुकना नहीं पड़ेगा । बल्कि उन्होने हमें शाही कप (जो सरकारी मेहमान के लिये रखा रहता था) में चाय पिलाया, विलायती सिगरेट 555 का पैकेट आगे बढ़ाया जिसमें से मैंने और शायद असीत ने एक एक सिगरेट लिया । हमारी साइकिल यात्रा की योजना के बारे में जानकारी ली और फिर हमें शुभकामना देते हुये गुडनाइट कहा ।
अगली शाम गोविन्दपुर से धनबाद के लिये मुड़ गये । जाना ही था, आशीष की फुआ (शायद) रहती थी और वहीं खबर को ‘इन्तजार’ करने के लिये भेजा गया था कि ‘आशीष आयेगा’ । नौकरी की खबर । आशीष को मिल गई और अगली सुबह हम आगे बढ़े चार ।
रात को दस बजे पहुँचे इसलामपुर, जिला बर्द्धमान । थाने पर लिखवाने काम तो हो गया पर कहीं जगह मिल नहीं रही थी ठहरने की । धरमशाला अगर था भी तो कोई बता नहीं पा रहा था । सड़क पर लोग भी कम थे । तभी किसी ने दिखाया कि वो सामने एक अनाथ आश्रम है, वहाँ पूछिये, शायद वे जगह दे दें, रात भर ठहरने की । हम पहुँचे तो एक बुढ़ीमाँ गेट में ताला लगा रही थी । हमारी बातें सुन कर, साथ में साइकिलें और सामान देख कर उन्हे भरोसा हुआ । रात में ठहरने के लिये उन्होने एक कमरा दे दिया । भूख लगी थी । बुढ़ीमाँ को कह कर हम निकले कि बस कुछ खा कर आ जायेंगे । वाह ! थोड़ी दूर आगे एक मोड़ पर पहुँचे तो दिखा कि बाज़ार पूरा रौशन है । हालाँकि सिर्फ मिठाई की दुकानें हैं, और उसमें भी, रात के ग्यारह बजे कड़ाही भर भर के समोसे छाने जा रहे हैं । पता किया तो मालूम हुआ कि अगले दिन कलकत्ता मैदान में समावेश है - लोग ट्रकों पर रवाना हो रहे हैं और साथ में समोसे से भरी टोकरियों जा रही हैं । हम भी समोसे खाये और लौट गये अनाथ आश्रम के उस घर में । हमें एहसास हो रहा था कि हमारे चारों तरफ कमरों में बच्चे हैं जो कुछ कुछ हमारे बारे में ही फुसफुसा रहे हैं । अगली सुबह दो-चार ने हमें उत्सुकता भरी नज़रों से देखा पर ज्यादा बातें नहीं हुई । हम भी निकल गये । हमारा लक्ष्य था कलकत्ता ।
कलकत्ता में कुछ हमारा इन्तजार कर रहा था । रात को आठ बजे हावड़ा का पुल पार करते हुये इतना तो पता चल गया था कि कलकत्ते में जोरदार बारिश हुई है । वह बारिश कितना था यह पता चला पुल से उतरते हुये । दूर से दिखाई दिया कि पानी जमा है । कितना होगा ! घुटना भर ! कमर तक ! इतना तो पटना में हर साल झेलते हैं । ब्रेक छोड़ कर साइकिल को हमने अपने मोमेन्टम में उतरने दिया । दुर्घटना की खास गुंजाइश नहीं थी क्योंकि सामने का मोड़ सूना था । … जब हम रुके तो सीना पानी के नीचे । हड़बड़ाकर साइकिल से उतरे तो ठुड्डी पानी छू रहा था और पैर जमीन ढूँढ़ रहा था । हालाँकि थोड़ी ही दूर तक यह स्थिति रही । उस वक्त फ्लाई ओवर नहीं थे । इसलिये कहीं घूमना नहीं था । स्ट्रैन्ड रोड पर चढ़ते चढ़ते पानी चलने लायक हो गया ।
चपल बनर्जी के भैया खिदिरपुर बन्दरगाह में नौकरी करते थे । हम वहीं ठहरे । और चार दिन ठहरे । मुझे भी बड़ी चाची के यहाँ जाना था और डाँट सुनना था । डाँट मिली और साथ में सख्त हिदायत कि वापस पटना ही लौटना है, आगे नही बढ़ना । बड़ी चाची लम्बी चौड़ी हुआ करती थी । पिताजी कहते थे ढाका में जब थी तो घोड़े पर चढ़कर पोलो खेलती थी । मानिकतल्ला में तीसरी मंजिल के उस फ्लैट में जब हम सारे बच्चे जुटते थे तो एक बड़ी थाली के चारों ओर हमें बिठाकर वह खाना खिलाती थी । … पैसे भी मिले पटना के टिकट के लिये । दिमाग में बात आई कि चलो आगे का जुगाड़ हो गया ।   
अगले दिन हम सब एक साथ गये राइटर्स । उस वक्त इतनी सख्ती भी नहीं थी । युनाइटेड फ्रॉन्ट सरकार के खेल मंत्री थे राम चटर्जी । उन्ही से मिले, आशीर्वाद बटोरे लेकिन अन्त में झिड़की खानी पड़ी । नेताजी से मिलना है सोच कर हाफ पैन्ट, गंजी उतार कर बैग में सलीके से रखा हुआ कुर्ता पाजामे का अकेला सेट पहन लिया था । मंत्रीजी जब नीचे उतर कर आये हमारे साथ एक तस्वीर के लिये तो डाँट दिया। “ये कौन सा ड्रेस है तुम लोगों का ? स्पोर्ट्समैन का ड्रेस पहन कर आना था, बाराती का ड्रेस पहन लिये !”
चारों रात जो हमने कलकत्ते के खिदिरपुर मोहल्ले के उस छोटे से घर में बिताये, नगाड़ों के आवाज से गूंजती रही । पीछे मोहमेडन स्पोर्टिंग का क्लब या फैन क्लब था । एक सप्ताह के बाद शील्ड का फाइनल होना था मोहमेडन के साथ किसी और – मोहन बागान या इस्ट बेंगॉल - के साथ । मोहमेडन स्पोर्टिंग फाइनल जीतेगा यह भरोसा था उनको । विजय जुलूस के लिये नगाड़ा बजाने का अभ्यास चल रहा था हर रात । उन्ही दिनों यह सच्चाई दिमाग में कौंधी थी, कि लड़ाई में जीतें या हारें, मेहनत सिर्फ विजय के लिये नहीं, विजय के उत्सव के लिये भी करनी पड़ती है ! कहीं भी, लड़नेवालों के मन के किसी भी कोने शक की गुंजाइश नहीं रहती है कि वे शायद नहीं भी जीतें ! …
कलकत्ता से आगे बढ़े तीन । असीत पर्बत थक चुका था, वह वापस लौट आया । जिस दिन सुबह को विदा हुये उस दिन बंगाल बन्द या आम हड़ताल का आह्वान था । हमें जल्दी हाइवे पर – एनएच6 – पर पहुँच जाना था । खिदिरपुर के रास्ते पर बच्चे निकल चुके थे कांटी (कील) का थैला और हथौड़ी लेकर । बीच सड़क पर कील ठोके जा रहे थे कि गाड़ी गुजरे और बुम, फुस्स …!
       
चिलका के किनारे रात, गर्म दूध
एन॰ एच॰ 6 यानि कलकत्ता-मुम्बई हाइवे पर थोड़ी दूर के बाद एन॰ एच॰ 5 यानि कलकत्ता-मद्रास हाइवे अलग हो जाता है । कांथी या कॉनटाइ थाने के ओसी द्वारा किया गया स्वागत याद है । भर तश्तरी मिठाइयाँ । और बहुत सारा उत्साह । रात को हम खड़गपुर से थोड़ा आगे एक कस्बे में रुके । क्या सोच कर रुके याद नहीं । एक आवासीय विद्यालय के परिसर में पहुँचे रात को और लड़कों ने हमे सर पर उठा लिया । हमारे लिये खाना बनाया, अपने हाथ से बिस्तर बिछाया मच्छरदानी के साथ । सामने अंधेरे में तालाब था । उसी में हम नहाये, फिर खाना खाये और सो गये । सुबह विदा होते वक्त बच्चे हाथ हिला हिला कर चिल्लाते रहे, “हम भी आ रहे हैं”! इस वाक्य के पीछे का परिदृश्य यह था कि उस समय इस तरह के यात्राओं की धूम मची थी, खास कर बंगाल में । कोई साइकिल पर, कोई पैदल तो कोई हिच-हाइकिंग करते हुये । रास्ते में कई बार हम मोतिहारी के एक लड़के को पार किये जो हिच-हाइकिंग कर रहा था । प्लानिंग पूरे भारत का था जैसा हमारा । हमारा तो पूरा हुआ नहीं, उसका हुआ कि नहीं हम नहीं जान पाये । एक और टीम मिला पाँच लोगों का, वे पैदल कन्याकुमारी जा रहे थे चावल, हँड़िया, नमक बांध कर । कहीं दोपहर हुआ, सूखी लकड़ी जुटाई, ईँटा जोड़ा कर चुल्हा बनाया और भात बना लिया । भात और नमक । एक दोपहर हम भी उनके साथ भात खाये थे तमिल नाडु में । फिर हमारी अगली भेँट तिरुचिरापल्ली में हुई थी क्योंकि चेन्नई में हम चार दिन रुक गये थे । खैर ये सब आगे की बातें हैं ।
उस रात को हम शायद बालेश्वर में रुके थे या भद्रक में, स्पष्टत: याद नहीं । भद्रक ही होगा । शायद थाने के ही परिसर में एक खुली जगह पर उन्होने बिस्तर लगाने की इजाजत दे दी थी । कुछ दे भी दिया था बिछाने को ।
भद्रक तक पहुँचने में और भद्रक से आगे कटक होते हुये भुवनेश्वर तक पहुँचने में कई नदियाँ आपको मिलती है । हमारे साथ उन नदियों के मुलाकात की खासियत यह थी कि हम उनकी धारा में नहाते हुये आगे बढ़े । कोई पुण्य-वुण्य की बात नहीं थी । हम महसूस कर रहे थे कि नहाने से स्फूर्ति मिलती है । पैर का भारीपन मिटाने के लिये तो हम किसी पेड़ के तने के पास गमछी बिछाकर लेट जाते थे और पैर चढ़ा देते थे तने पर । पैसे कम थे । बचा बचा कर खर्च करते थे । निपट भी जाता था क्योंकि जिस किसी पुलिस थाने में रिपोर्ट करने के लिये डायरी फैलाते थे वहीँ एक पहर के भोजन या नाश्ते का इन्तजाम हो जाता था । लेकिन बार बार नहा कर स्फूर्ति लाना अपने हाथ में था । नदी देखी, बांध देखा, बस उतर गये ।
कभी कभी बहुत छोटा सा तथ्य भी बहुत देर से जानने को मिलता है । जैसे दाँतन (मेदिनीपुर) में पहली बार जाना कि भात, दाल, मछली का झोल मील-प्लेट के हिसाब से खाने के लिये जो भोजनालय हैं वे पाइस होटल कहे जाते हैं । उसी तरह भद्रक से आगे जिस कस्बे के मोड़ पर हमने नाश्ता किया, वहीं हमने जाना कि ग्रामीण, धोती में मुढ़ी बांध कर लाते हैं और नाश्ते की दुकान पर सिर्फ एक प्लेट सब्जी खरीद लेते हैं साथ खाने के लिये । यानि सब्जी अलग से खरीदने को मिलता है ! जबकि पटना में हम जानते थे कि दाम सिर्फ कचौड़ी का होता है ! सब्जी फ्री मिलती है चाहे जितनी बार मांगो ! ज्यादा सब्जी मांगने वाला कोई दल पहुँच गया तो चुपके से सब्जी में मिर्ची का पाउडर मिला देता है दुकानदार !     
रात को कटक होते हुये भुवनेश्वर पहुँचे । मेरी चचेरी दीदी रहती थी उत्कल विश्वविद्यालय के परिसर में । उनके पति वहाँ पढ़ाते थे । दीदी बहुत खुश हुई । रात को गर्मागर्म पराठे खाने को मिले । लेकिन लगा कि रहने की बात होगी तो फँस जायेंगे । इसलिये बहाने बना कर रात को ही निकल लिये पुरी की तरफ ।
पुरी पहुँचे नहीं । एक तो रास्ता पूरा अंधेरा था । और नींद तो थी ही आँखों मे । पीपली के पास एक चौड़े कलभर्ट पर दोनो तरफ, साइकिल लगा कर सो गये । कलभर्ट पर नींद क्या आती, हमेशा पानी भरे नाले में गिरने का डर सताता रहा । सुबह उठे और पुरी की ओर बढ़े ।
यहीं वह घटना होनी थी । पुरी की तरफ बढ़ते ही बच्चे दिखने लगे रास्ते पर रंगों से भरी पिचकारियाँ लिये । समझ गये की होली का दिन है । साइकिल चलाते हुये अगर आँखों में रंग पड़ जाय तो स्थिति खतरनाक भी बन सकती है । हालाँकि होली के कारण रास्ते पर ट्रक वगैरह नहीं थे । बसें और गाड़ियाँ कम चलती थी उन दिनों । फिर भी पिचकारियों की वार से बचते हुये आगे बढ़ रहे थे । अचानक एक पिचकारी का रंग सीधे मेरी आँखों पर पड़ा । मैंने आँखें बन्द कर ली । लेकिन साइकिल रोकते रोकते घड़ा लिये एक बुढ़िया मेरे साइकिल के चपेट में आ गई । मैं काफी जोर से गिरा, बुढ़िया भी गिर गई । उसका घड़ा चकनाचूर हो चुका था । मेरे केहुनी, कंधा, चेहरा छिला गया था । फिर भी मैं उठ कर भागा बुढ़िया की ओर, उसे न कुछ हो गया हो । लो, वह तो मेरे से पहले उठ कर खड़ी थी ! मैं बंगला/हिन्दी में उसकी खैरियत पूछ रहा था और वह उड़िया में गरज कर अपने घड़े का दाम मांग रही थी । कुछ लोग और आगे बढ़ आये । बाकि दोनों मित्रों ने बीचबचाव किया । घड़े का दाम देकर छुटकारा मिला ।
साक्षीगोपाल के पास एक पंडा मिला रास्ते पर । वह भी साइकिल से जा रहा था । उसने प्रस्ताव दिया कि पाँच रुपये देने पर वह मंदिर के बाहर वाले भगवान का दर्शन करा देगा । “और, भीतर वाले भगवान का?” “दस रुपये”। मन तो किया उसे पीटूँ पर उसे अपने रास्ते भगा कर हम बढ़ गये । दूर से तोप दागने जैसी आवाज आ रही थी । वह पुरी के समुद्रतट पर लहरों (ब्रेकर्स) के गिरने की आवाज थी ।
अगले दिन दोपहर तक हम वापस भुवनेश्वर लौट आये ।
भुवनेश्वर में ए॰ जी॰ बिहार-ओड़िशा का दफ्तर ढूंढ़ने में दिक्कत नहीं हुई । माँ को खुश करने का यह एक तरीका था कि हिम्मत जुटा कर ए॰ जी॰, बड़े मामा के चेम्बर में घुस जाऊँ, पैर छूऊँ, और दाँत, 32 ऑल आउट करके बोलूँ, “बड़े मामा, मैं अमुक, पटना से…”
बोलना था और फिर क्या । मामा अपने भगीना से पन्द्रह साल बाद मिल रहे थे । सीधा हम सभी बड़े मामा के बड़े से क्वार्टर पहुँचा दिये गये । अगले तीन दिनों तक भोजभात होता रहा, मामी डाँटती फटकारती और ठूँस ठूँस कर खाना खिलाती रही । अपनी छोटी ममेरी बहन से होश में पहली बार मिला, उसके गाने सुने । मामा ने पैसे दिये और सीधा पटना वापस जाने को कहा । वही पैसे आगे काम आये ।
भुवनेश्वर से आगे बढ़ने वाले बचे दो । कुछ कारणों से बिष्टुपद दत्ता वहाँ से वापस पटना आ गया । मैं और चपल उस दिन देर से भुवनेश्वर छोड़ कर चिलका के किनारे किनारे चलते हुये रात में पहुँचे रम्भा । बाँये दूर तक मद्धिम चमकता हुआ चिलका का विशाल झील । थोड़ी चढ़ाई थी सड़क पर । दाहिने अकेली रोशनी दिखी एक बरामदे पर । अन्दर गया तो दिखा कि भरा पूरा राजस्थानी घरवार है । गाय है बथान में, अनाज के कोठे हैं, कारोबार भी है … अच्छा स्वागत हुआ, बड़े बड़े गिलास में दूध मिला पीने के लिये और रात को सोने का बन्दोबस्त बरामदे में ही हुआ । यही मैं भी चाहता था कि रात भर झील और उस पर झुके हुये अनगिनत तारे देखने को मिले । 

अमरूद
अगली रात हम कहाँ रुके थे यह याद नहीं । इतना याद है कि अगली सुबह हम बरहमपुर पहुँचे थे और बरहमपुर विश्वविद्यालय के कुलपति से भी मिले थे । फिर उसके आगे की सुबह हम श्रीकाकुलम थाना पहुँचे थे । अभी गुगल मैप देख कर लगा कि हम नरसन्नपेट या उसके आसपास कहीं रुके थे । बेशक पुलिस थाने में ही हमने रात बिताने की जगह मांगी होगी, यह तरीका हमने तब तक ढूंढ़ लिया था पुलिस के शक वगैरह से बचने के लिये ।
बरहमपुर विश्वविद्यालय के कूलपति से उनके आवास पर मुलाकात हो जाना एक बड़ी घटना थी । उन्होने दो किताबें भेँट की हमारे कॉलेज के लिये ।    
आंध्र प्रदेश में प्रवेश करते ही कुछ बातें आँखों में बरबस चुभ गई । शायद इछापुरम पहुँचते ही एहसास हुआ होगा । एक तो अब हिन्दी नहीं चल पा रही है और गाँवों में तो अंग्रेजी भी नहीं चल पा रही है । मोपेड पर सवार एक शिक्षक मिले थे आगे कहीं । उन्होने बल्कि थोड़ा जोर डाल कर कहा कि हिन्दी जानने पर भी वे हिन्दी नहीं बोलेंगे । दूसरी बात जो चुभी वह थी पीने के पानी की किल्लत । कई जगह लोग उसी नहर से पानी लाकर भोजन/नाश्ते की दुकानों में पिला रहे थे जहाँ कपड़े धोये जा रहे थे । और तो और, एक बार मेढ़क का बच्चा भी तैरता हुआ मिला । तीसरी बात थी गरीबी और पिछड़ापन । बूढ़ी औरत बीच सड़क पर साड़ी घुटने तक उठा कर पेशाब कर रही है – कई साल बाद आयमे सेज़ार की कविता पढ़ कर एहसास हुआ था कि यह दृश्य तीसरी दुनिया में विश्वजनीन है – उस वक्त हमारे लिये नया था । चौथी बात थी, खास कर गाँवों में, एक विरोधाभास – गरीब, आम लोग इतने अच्छे और धनाढ्य उतने ही बुरे ! इनमें से कुछ बातों का अनुभव आंध्र प्रदेश प्रवेश करते ही हो गया और कुछ बातों का अनुभव आगे, गोदावरी जिले में हुआ, पर आंध्र प्रदेश में देखा गया हर दृश्य, आगे चल कर देश के बारे में अध्ययन करते हुये आवश्यक परिदृश्य बना ।
दोपहर का वक्त था । मैं और चपल हाइवे से एक छोटे से कस्बे के रास्ते पर उतर गये । आगे बाँई ओर एक अमरूद का बगीचा दिखा । सारे पेड़ों में अमरूद लदे हुये थे । बाँस का गेट खोल कर एक बड़े से फूस के घर का दरवाजा खटखटाया । एक जवान लड़का निकल आया । दिख रहा था कि यह पारिवारिक घर नहीं है । अमरूद के बगीचे के साथ एक बड़ा कमरा खड़ा कर दिया गया है मालिक के बेटे के लिये, पढ़ाई भी करेगा, मौजमस्ती भी करेगा जब जी चाहे । हमने इशारों से समझाने की कोशिश की कि हम साइकिल यात्रा पर निकले हैं । भूख लगी है, प्यास भी लगी है । एक दो अमरूद अगर वह दे दे तो राहत मिलेगी । लगभग भीख मांगने के तेवर थे हमारे । पर एक भी अमरूद नहीं मिला । उल्टे (जो समझ में आया) गालीगलौज मिला और मुंह पर दरवाजा बन्द कर दिया गया । वापस लौट रहा था । हाइवे के ठीक पहले धूल भरी चढ़ाई पर छे-सात औरतें मिलीं जो कहीं से घड़े में पीने का पानी लेकर आ रही थीं । हमें साइकिल के साथ देख कर रोकीं । न उनका पूछना हमें समझ में आ रहा था न हमारा बताना उन्हे समझ में आ रहा था । फिर भी जो समझना था वो समझ गईं । हमें ले गईं आगे हाइवे के बगल में खड़ी एक झोपड़ी में । चाय की दुकान थी वह पर चुल्हा बुझा हुआ था और दुकानदार नींद में था । वे अपने पैसे जोड़ीं, साड़ी के खूंट से निकाल कर – कुल दो चाय के दाम निकल आये । वे तब दुकानदार को जगाईं, जबर्दस्ती उससे चुल्हा जोड़वाकर दो गिलास चाय बनवाई । हम चाय पिये । फिर हमे आशीर्वाद देकर उन्होने विदा किया ।
एक घटना आगे भी हुआ था दो दिनों के बाद । गन्ने के खेत के बगल से गुजर रहे थे । गन्ने तैयार थे और किसान (या खेत मजदुर, इतनी समझ नहीं थी उन दिनों) खेत से निकाल कर बड़े बड़े बन्डल बना रहे थे । फिर बैल गाड़ियों पर चढ़ाये जा रहे थे । हम आगे बढ़ कर दो गन्ने मांगे । उन्होने ने इशारा किया, यहाँ नहीं, नजरदारी है, आगे बढ़ कर इन्तजार करो । हम थोड़ा आगे बढ़ कर इन्तजार करने लगे । कुछ ही देर में एक, कटे हुये गन्नों का बड़ा सा गठरी लेकर आया । खुद हमारी साइकिल के रॉड के साथ बांध दिया । हमने पूछा, ‘इतना क्या होगा’ । ‘आह, खाते हुये जाना रास्ते में’ उसने इशारा किया ।
फिलहाल, नरसन्नपेट या आसपास किसी कस्बे में रात गुजारने के बाद लगभग सुबह दस बजे हम श्रीकाकुलम पहुँचे । सुबह में, वह भी ऐसे शहर में जहाँ हम रात को रुकनेवाले नहीं थे, थाना ढूंढ़ कर पहुँचने का कोई कारण नहीं था । फिर भी, चुँकि हम सुन रखे थे कि श्रीकाकुलम नक्सलवाद का महत्वपूर्ण केन्द्र है, हम थाना पहुँच कर डायरी पर लिखवा लिये ताकि कहीं कोई समस्या न हो । और संयोग देखिये कि उसी वक्त थाने के हाजत में किसी की जबर्दस्त पिटाई चल रही थी । यह तो पता नहीं था कि वह कोई नक्सलवादी युवक था या आम आरोपित, पर उसकी चीख से हमारी सिट्टी पिट्टी गुम हो चली थी । डायरी लिखवा कर जल्दी से खिसक लिये ।
उस दिन के सफर का आखरी हिस्सा बहुत खूबसूरत था । पता नहीं कब शाम होने लगी और सुनसान सड़क पहाड़ी पर चढ़ने लगी । कहीं कोई शहर या कस्बे की रोशनी दिख नहीं रही थी कि रात को वहीं रुक जाने को सोचें । पहाड़ी भी पहाड़ी नहीं पहाड़ है, यह हम सोच नहीं पाये थे । पूरा अंधेरा हो गया और हम चढ़ते जा रहे थे । काफी देर बाद चढ़ाई खत्म हुई । ढलान के शुरु होते ही सामने एक बहुत बड़ा जगमग शहर दिखने लगा । कौन सा शहर है यह ? यही विशाखापतनम है क्या ? स्पष्ट जानकारी तो नहीं थी पर लगने लगा कि जरूर विशाखापतनम होगा । हम ढलान पर साइकिल को मुक्त छोड़ देना चाह रहे थे कि वह मोमेन्टम पकड़े और गति तेज होती जाय । पर ऐसा करना खतरनाक हो गया । सामने की जगमग रोशनी आँखों को चौंधिया देने के कारण आसपास का अंधेरा और घना हो गया । साइकिल फ्री छोड़ने का मतलब था सड़क से बाहर जाना और खाई में गिरना । इसीलिये ब्रेक लेते हुये धीरे धीरे हम पहाड़ से उतरने लगे ।
शहर तो बिल्कुल अजनबी था । वह भी रात के दस बजे । याद नहीं कौन वह भलेमानुस था जो हमारे पूछने पर समझ गया कि हम बंगलाभाषी हैं और मित्राबाबु के होटल का रास्ता दिखा दिया ।
मित्राबाबु के होटल, होटल मतलब भात की दुकान पर आखरी बैच खा रहा था । हम भी पहले तो खाना खा लिये । फिर मित्राबाबु से हमने अनुरोध किया कि हमें एक रात ठहरने की जगह दी जाय ।
तभी एक जादु हुआ । एक जवान आदमी सींढ़ी पर खड़ा होकर मित्राबाबु से बतिया रहा था । उसने हमारी पैरवी की । हमें भोजन के हॉल के दाहिनी तरफ बने भंडार वाले कमरे के दरवाजे के पास फर्श पर बिस्तर बिछाने की अनुमति मिल गई । उस आदमी ने हमसे दोस्ती भी कर ली । मनोमय नाम था उसका । सीआरपी का जवान था । सीआरपी कैम्प में ही रहता था । उसकी दोस्ती के बदौलत अगले तीन दिनों तक मित्राबाबु के होटल में खाना, सोना फ्री हो गया । एक दिन वह रात्रिभोजन का आमन्त्रण देकर कैम्प में हमें ले गया । उसके खाट पर बैठ कर हम गर्मागर्म आलु की सब्जी और एक एक दर्जन घी लगी रोटी खा गये अचार के साथ ।
साइकिल से खूब घूमे हम विशाखापतनम या वाइजैग या वालटेयर । … पर उसके बाद की घटनायें सिलसिलेवार याद नहीं हैं । काकीनाड़ा कब पहुँचे, राजामुन्द्री कब पहुँचे, विजयवाड़ा कब पहुँचे, कब हमने पार किया गोदावरी और उसके पानी में नहाया !…
बस टाडेपल्लीगुडेम का एक सुबह याद है । हम नाश्ता करके नहर पर बने पुल पार कर रहे थे कि एक वयस्क आदमी, बुश शर्ट और लुंगी पहने हुये, ने हमें छेंक लिया । नहर के किनारे किनारे चल कर उनके घर पहुँचे तो दिखा कि एक डाक्टर का घर है । वह खुद ही डाक्टर थे । पर वह ऑटोग्राफ के शौकीन भी थे । उन्होने हमें काफी पिलाई और एक ऑटोग्राफ बुक पर हमारे दस्तखत लिये । हम तो फूल के कुप्पा हो गये । ऑटोग्राफ बुक में अशोक कुमार और लता मंगेशकर का भी ऑटोग्राफ दिख रहा था । …            

मेरी जो-नही-बनी तमिल बीवी
पता नहीं तमिल नाडु की स्मृति की मेरी पहली कड़ी यही क्यों है । …एक रेलवे क्रॉसिंग पार कर नेल्लोर बाजार पहुंचना था । शाम का वक्त था । थोड़ी ही देर पहले पुलिस की हिदायत मान कर हम साइकिल के सामने किरासन वाला लैम्प लगवा लिये थे और भरपेट गाली दे रहे थे प्रशासन को इस फालतू खर्च के लिये । और अब आफत के लिये भी क्योंकि सड़क की मरम्मत हो रही थी – टूटी सड़क पर उछल उछल कर लैम्प उलटने ही वाली थी । साइकिलों पर लगे लैम्पों के सिवा कोई रोशनी भी नहीं थी सड़क पर । सामने एक साइकिल पर लगे लैम्प को उलट कर आग पकड़ते देखा । हम खूब जोर से हँस रहे थे पुलिस को दिखा दिखा कर कि देखो, तुम्हारे पागलपन के चलते किस तरह आफत भोग रहें हैं लोग ! … अचानक हम बाजार में थे और बाल में लगे गेरुआ-लाल-सफेद फूलों की गदराई लड़ियाँ थी हमारे बहुत करीब । हम साइकिल से उतर गये । …तमिल नाडु की यह मेरी पहली स्मृति, बाद की यात्राओं से अधिक तमिल नाडु को लेकर मेरे बाद के सम्मोहन के नीचे दब गई है । पिछले बीस वर्षों से मैं संगम साहित्य, उस युग की युद्ध कवयित्रियों की कवितायें, फिर शिलप्पदिकम की कथा, काव्य एवं नैसर्गिक सौन्दर्य को लेकर इतना अधिक मोहित रहा हूँ कि 1970 के मार्च महीने में हम किन किन जगहों को छूते हुये तमिल नाडु से गुजरे थे, याद नहीं आता । बस …।
यही पहला दृश्य याद आता है नेल्लोर बाजार पहुँचने का और बालों में फूल लगाई हुई उतनी सारी लड़कियों को देख कर यह खयाल, कि इन्ही में से कोई मेरी दोस्त होती तो हम शादी करते और यहीं बस जाते । धीरे धीरे मेरी पहचान तमिल ही रह जाती । … या हो सकता है यह खयाल भी बाद का आरोपन हो ! पर, शायद नहीं ।
चेन्नई पहुँच कर शहर के बाहरी छोर पर किसी रेस्तराँ में हम नाश्ता कर रहे थे । वे हमारे आखरी पैसे थे जो नाश्ते में खर्च हो रहे थे । तभी एक लड़का कुर्सी टेबुल में बैठे ग्राहकों पर नज़र दौड़ाते हुये भीतर के अन्तिम टेबुल पर बैठे हमारे करीब आया और खालिस हिन्दी में पूछा, “आप बिहार से आ रहे हो ?” कैसे समझा वह ? तब याद आया कि खिदिरपुर में हमने टीन की नीली पट्टी बनवाई थी साइकिल के सामने लगवाने के लिये, खास कर मंत्रीजी के साथ फोटो खिँचवाने के लिये, वो अब भी टंगी है साइकिल के सामने । छोटी सी पट्टी पर अंग्रेजी में लिखा हुआ था अखिल भारतीय साइकिल यात्री - पटना, कलकत्ता, भुवनेश्वर … पूर्वतटीय सारे बड़े शहरों का नाम कन्याकुमारी तक । तय था कि उसके आगे बढ़ेंगे तो लिखवा लेंगे । दरअसल उसके आगे के शहरों का नाम सिलसिलेवार हम जानते भी नहीं थे । तो, हमने उस लड़के का सवाल सुन कर सर हिलाया । फिर वह खाली कुर्सी खींच कर बैठ गया, हम गपियाने लगे और वह दोस्त बन गया । मालुम हुआ कि वह भी मोतिहारी का ही लड़का (‘भी’ मतलब उस हिच-हाइकिंग करने वाले लड़के जैसा) था । जहाँ तक याद है उसने कहा था कि मद्रास इन्स्टीट्युट ऑफ टेक्नॉलॉजी में टेक्सटाइल इंजिनियरिंग कर रहा था । नाम याद नहीं । वह हमें ले गया किसी मजदूर बैरक की तरह मकान में, कतार से एक एक घर और सामने कॉमन बरामदा … हर घर में एक परिवार । बरामदे में रसोई, भोजन और शौच कॉमन शौचालयों में । वहीं उसके एक भैया या मुँहबोला भैया सपरिवार रहते थे । उसी घर के बरामदे में हमारे सोने की जगह बनी । वह लड़का भी चार दिनों तक हॉस्टल छोड़ कर हमारे साथ पड़ा रहा । दिन रात का खाना एक बहुत ही अच्छी भावीजी के हाथों ।
सुबह सुबह हम निकल जाते थे एलियट समुद्र तट पर । वह करीब था । उस वक्त वह पूरी तरह मछियारों का समुद्र तट था । सुबह होते ही समुद्र से नावों का वापस आना शुरु हो जाता था । जाल में से मछलियाँ उँड़ेली जाती थी और फिर बोली लगती थी । कुछ खुदरा के लिये बच जाता था । उसी में से हम खरीदते थे । एक दिन वह मछली पकड़ाई, बंगला में ‘शंकर’ कह्ते हैं, पतंग जैसा वदन और पूंछ पतंग की पूंछ जैसी ही, लम्बी । बचपन से सुनते आये थे कि उस पूंछ से चाबुक बनते हैं । उसी मछली का एक हिस्सा खरीद कर ले आये, भावी बनाई और हम मजे से खाये । बढ़िया स्वाद था उसका ।
एक दिन मद्रास आइआइटी ले गया वह लड़का हमें । हमारी आगे की यात्रा के लिये चंदा इकट्ठा करने । यह एक बहुत बड़ी जरूरत थी । एक पैसे भी नहीं थे हमारे पास । उस लड़के के कुछ मित्र थे वहाँ । उसी लिये हमें वहाँ लेकर गया । पहली बार हम किसी आइआइटी परिसर में प्रवेश कर रहे थे । क्या खूबसूरत था परिसर ! भवनों तक पहुँचने के लिये गेट से शुरु होता था लम्बा, घुमावदार रास्ता जिसके दोनों ओर कहीं बगीचे, कहीं जंगल – जंगल में हिरनें – कहीं टेनिस कोर्ट… !
बहुत अच्छा तो नहीं फिर भी ठीकठाक रेस्पॉन्स मिला । उस लड़के के एक मित्र, एक बंगाली लड़के ने पहल की । बाइस-तेइस रुपये जुटे । आखिर कन्याकुमारी तक का खर्च तो इतने ही निभ गया था ! आइआइटी में ही हमने उस दोपहर को खाना खाया ।
मद्रास छोड़ने के दिन सुबह से पहले उठ कर भावीजी ने हमारे लिये ‘निम्बु-भात’, और ‘दही-भात’ बनाया । रस्सी से बंधे, कागज और फिर पत्तों के दो बड़े पैकेट में उसे डाल कर हमें दे दिया ।
हम तब तक नहीं जानते थे कि यह लगभग पूरे दक्षिण भारत का पारम्परिक नाश्ता या भोजन है और चावल काफी देर तक रह जाता है बिना महके हुये । हमें लगा कि कहीं खराब न हो जाये इस लिये मद्रास छोड़ने के दो घन्टे बाद ही हम दोनों वह भात पूरा खा गये ।
फिर चल पड़े पॉन्डिचेरी की ओर । छोटे, चमकते नारियल के पेड़ों के पत्तों और फलों को छूते छूते दिन ढलने के पहले ही हम पॉन्डिचेरी पहुँच गये ।
अच्छे लोग मिल ही जाते हैं । पॉन्डिचेरी प्रवेश करते ही हम पूछते पूछते पहुँचे श्रीमाँ के आश्रम के गेट पर । सीधा स्वार्थ था । मुफ्त का खाना और रात को सोने का बन्दोबस्त । खाने का समय खत्म हो चुका था । कोई दिख नहीं रहा था । तभी एक सज्जन निकले अन्दर से बाहर । वह रुक गये और हमसे बातचीत हुई । वह बंगलाभाषी थे । बंगाल में या उधर ही कहीं किसी कॉलेज में वाणिज्य के प्राध्यापक रह चुके थे । वह अपने घर ले गये हमें । वहाँ हमे काली सख्त बनरोटी खाने को मिली आश्रमवासियों के अपने हाथों से बनाई हुई । चाय पीने के बाद उन्होने भी हमें दो किताबें दी एकाउन्टेन्सी और ऑडिटिंग के । एक शायद उनकी अपनी लिखी हुई थी । फिर वह हमें ले गये समन्दर किनारे आश्रम का ही या फिर सरकारी गेस्ट हाउज में । घर की तो जरूरत ही नही थी । बाहर बगीचे में ही दो चार खाट लगे हुये थे । हम दो खाटों पर अपनी जगह बना लिये । लेटने पर बस सर से पाँच फूट आगे गेस्ट हाउज की, कमर तक उँची दीवार जिसके बाद रात भर लहरों का फॉस्फोरस । रात को खाने के लिये उन्होने आश्रम आ जाने को कहा । अगले दिन ऑरोविल घूम आने को भी कहा जो हम नहीं गये ।          

मक्खन
पॉन्डिचेरी से निकल कर हम किधर गये ? याद नहीं । विरलीमलई कितना आगे था । पता नहीं । लेकिन स्मृति का यह आखरी हिस्सा विरलीमलई के एक कहवाघर से शुरु होता है । आधे बने मकान के दुमंजिले पर बने कहवाघर में हम लोगों ने शाम से थोड़ा पहले काफी पी और जब निकले तो वह घुंघरैले बालों वाला युवक भी हमारे साथ अपनी साइकिल पर निकला जो उस दुकान में दूध पहुँचाने आया था । यह कहवाघर शायद उसका आखरी ग्राहक था क्योंकि उसके साइकिल के पीछे बंधा दूध का ड्रम खाली था, ढनढना रहा था ।
घन्टों हम साथ साथ साइकिल चलाते रहे और बातें करते रहे । न हम एक अक्षर उसकी तमिल समझ रहे थे न वह एक अक्षर हमारी हिन्दी समझ रहा था । उसका न समझना भी बनावटी नहीं था क्यों कि वह विशुद्ध रूप से ग्रामीण था । उसकी वह न-समझ-में-आने-वाली बातों और शरीर की भाषा से जो समझ में आ रही थी कि वह आगे करीब ही (करीब का मतलब लगभग 50 किलोमीटर) अपने गाँव में अपने मालिक की कोठी में रहता है । मालिक के घर का सारा काम, गायों को सानी देना, आंगन बुहारना, पानी भरना आदि कामों के बाद दिन चढ़ते ड्रम भरे दूध लेकर शहर पहुँचता है, जहाँ जहाँ महीनवारी ग्राहक बंधा है वहाँ वहाँ दूध देता है फिर आखरी ग्राहक इस कहवाघर में दूध देकर एक काफी पीता है फिर घर के लिये चल देता है ।
हाइवे पर कहीं वह रुका । हम भी रुक गये । उसने सड़क की बाँई ओर उतरती हुई एक कच्चे रास्ते के अन्तिम छोर पर दूर टिमटिमाती रोशनी दिखाकर कहा, “वही, मेरा गाँव” । हमने उससे हाथ मिलाया और विदा कहा । पर वो गया नहीं । कुछ कहना चाह रहा था । शाम के उस धुँधलके मे हमारे शरीर और चेहरे की भाषा भी एक दूसरे के लिये अस्पष्ट होती जा रही थी । थोड़ी देर के बाद समझ में आई उसकी बात कि वह हमें कुछ देना चाह रहा था ताकि यह मुलाकात यादगार रहे । उसकी स्थिति को समझते हुये हमने काफी जोर से मना किया । फिर भी वह सोचते रहा । पॉकेट से पैसे निकाले । जो पैसे मालिक के हिसाब के थे उस हिस्से को अलग कर बाकि गिने तो बहुत कम निकले । फिर अचानक उसे कुछ याद आई । उसने दूध के खाली ड्रम को खोला और ढक्कन बाँई हाथ में रख कर दाहिने हाथ से भीतर काछना शुरु किया । ड्रम सुबह में दूध से भरा रहा होगा । फिर इतने लम्बे सफर में हिलते हुये उससे काफी मक्खन निकले होंगे । जब उसने ढक्कन बढ़ाया तो आधा ढक्कन से ज्यादा मक्खन जमा हो चुका था । हमें खाने के लिये अनुरोध करते हुये उसने यह भी अफसोस जताया कि चीनी नहीं है उपर से छिड़कने के लिये । पता नहीं वह ड्रम अगर मक्खन के साथ घर पहुँचता तो किस तरफ जाता ! कोठी के किनारे उसके कमरे की ओर या मालिक की रसोई की ओर ! शायद किसी बच्चे के निवाले में जाता ! मैं और मेरे साथी ने मिलकर वह मक्खन खाया । फिर उस लड़के ने कमर से बीड़ी निकाली । उसने दो हमारी ओर बढ़ाये । मेरा साथी बीड़ी नहीं पीता था । वह था भी ऐथलीट । चैम्पियन तैराक था कॉलेज में । मैं और उस लड़के ने एक एक बीड़ी सुलगाये । बीड़ी पीने के बाद हम अलग हुये । वह कच्चे रास्ते पर उतर गया । हम भी आगे की ओर चल दिये । बीच बीच में पीछे मुड़ कर बाँये खेतों के फैलाव से आगे वह कच्चा रास्ता और साइकिल पर उसे ढूँढ़ लेते रहे । फिर वह पूरी तरह ओझल हो गया ।
उसी रात को या अगली रात को हम तिरुचिरापल्ली पहुँचे थे याद है ।  
तिरुचिरापल्ली की याद में बहुत कुछ खास नहीं है, बस्र यही की रात का खाना खाने के बाद हमें बाजार में रोशनी दिखाई पड़ी थी । करीब पहुँचे तो दिखा की भीड़ लगी है, पारम्परिक कोई नृत्य हो रहा है, और उसी भीड़ में अचानक मिल गये वे पाँचों जो कुलटी से पैदल जा रहे थे कन्याकुमारी, जिनके साथ कुछ दिनों पहले हमने सड़क किनारे एक सूने अहाते में चुल्हा जोड़ कर नून-भात खाया था ।
नागेरोकोयेल के बाद ही कन्याकुमारी का एहसास होने लगा था । जब पहुँचे तो सबसे अधिक आकर्षित किया उस जगह पर धूप की एक खास चमक । खाड़ी की धूप जो पूरे पूर्वतट पर छाई मिलती है उसमें एक धूंधलापन है । यहाँ धूप बिल्कुल साफ, पता नहीं अरब सागर के कारण या भारत महासागर के कारण । रात को हम किसी सड़े हुये होटल में रुके क्यों कि थाना के परिसर में जगह नहीं थी । शाम और सुबह को देखने और तीनों समन्दर के अलग अलग रंग के पानी के मिलनस्थल को छूकर रोमांचित होने के सिवा बहुत कुछ वहाँ करने को नहीं था । पैसे खत्म हो गये थे और त्रिवन्द्रम पहुँचे बिना पैसे का जुगाड़ नहीं हो सकता था ।
त्रिवन्द्रम पहुँचे रात को । सड़कों पर काफी चहल पहल थी । पुलिस भी थे बहुत सारे । मैने विश्वविद्यालय और उसमें छात्रावासों का पता पूछा तो बुरी खबर मिली । मोर्चा सरकार गिर गई है, शहर में 144 है, विश्वविद्यालय बन्द कर दिये गये हैं साइन डाई, छात्रावासों में छात्रों का होना मुश्किल है । पुलिस थाना पहुँचे डायरी लिखाने के लिये तो प्रभारी थे नहीं, रात को सोने की जगह के लिये पूछे तो झिड़की मिली । बाहर आये तो किसी सज्जन ने कहा छावनी थाना में जाने के लिये । रास्ता पूछ पूछ कर छावनी पहुँचे, फिर थाना के अन्दर प्रवेश किये । बड़ी राहत मिली । डायरी लिखा गया और रात को सोने की जगह भी मिल गई ।
सुबह उठते उठते हमने फैसला ले लिया था । एक साइकिल कम से कम बेचना पड़ेगा । दिन चढ़ते चढ़ते वह फैसला दोनो साइकिल बेचने का हो गया । दाम की मांग नीचे उतरती जा रही थी । अंतत: रेलवे का ही एक कर्मचारी दोनों साइकिल को खरीद लेने का प्रस्ताव दिया । पर दाम बहुत कम दे रहा था वह । उसे समझ में आ गया था कि हम बेचैन हो गये हैं । फिर उसी के दाम, दोनों साइकिल के लिये कुल 80 रुपये, पर बेचना पड़ा ।
इसके आगे कुछ बचा नहीं, हम दोनों के किसी तरह पटना लौटने के कुछ हास्यास्पद वृत्तान्त के सिवा । फिर भी एक माँ का जिक्र करते हुये खत्म कर रहा हूँ ।

जो पैसे मिले थे उससे दोपहर के खाने की कीमत चुकाने के बाद भुवनेश्वर तक का टिकट हो पाया था । वेटिंग रूम में बैठे हुये थे । एक पंजाबी औरत जो उधर अपने परिवार के साथ थी हमें ध्यान से देखते हुये सामने आकर खड़ी हो गई । हम कुछ खास बताना नहीं चाह रहे थे कि वह क्या समझेंगी । लेकिन दबाव डाल डाल कर वह आखिर जान ही गई कि उतरे हुये चेहरों के साथ हम क्यों बैठे हैं । वह गईं अपने सामान के पास और दो डिब्बे उठा के ले आईं, “यह रख लो बेटे । एक में चूड़ा है और दूसरे में चीनी । भूखे मत रहना । यह चूड़ा, चीनी खाकर पानी पीना । बताओ, इस तरह भी कोई निकलता है घर से ?” 

Monday, November 20, 2017

বহির্বঙ্গে বাঙালি এবং তার সাহিত্য – বিহার প্রসঙ্গ

বাঙালির মন ও মনন – বিশ্বপ্রেক্ষিত
স্বদেশ বা স্বভূমি ছেড়ে বাইরে গিয়ে বিদেশে বিভূঁয়ে থাকার, থেকে যাওয়ার সামাজিক প্রবণতা স্বেচ্ছায় নয়, প্রধানতঃ রুজি- রোজগারের বাধ্যতায় দেড়শো বছরেরও আগে থেকে শুরু হয়েছিল। অবিভক্ত ভারতে শুরু হয়েছিল এই অভিনিষ্ক্রমণ। দেশভাগের পর বাঙালি দুটো দেশের নাগরিক হয়ে যেতে শুরু করল। যেহেতু এ সম্পর্কিত সার্ভেগুলো বেশির ভাগ দেশের নাগরিক হিসেবে; বাঙালি বা বাংলাভাষী হিসেবে নয় তাই সঠিক সংখ্যাগুলো পাওয়া মুশকিল। তবু কিছু হিসেব দিলে বুঝতে পারা যাবে এর প্রকৃতি।
ভারতের একটা হিসেব নিলে যে সময় পশ্চিমবঙ্গে বাঙালি জনসংখ্যা সাত কোটির কিছু বেশি, সে সময় আসামে ৭০ লক্ষ (যেহেতু এই হিসেবে ত্রিপুরার নাম নেই, তাই ধরতে পারি ত্রিপুরার তেইশ লক্ষ বাঙালি এরই মধ্যে আছে) এবং বাকি ভারতে ৭০ লক্ষের বেশি। সেই একই সময়ে বাংলাদেশে বাঙালি ১৪ কোটির বেশি এবং বাকি পৃথিবীতে বাঙালি, ইংলন্ডে সাড়েতিন থেকে চারের মধ্যে আর আমেরিকায় সব মিলিয়ে ২ লক্ষ নিয়ে মোট ১০ লক্ষের বেশি। একটা হিসেব বলছে ১৯৫১ সালে ইউনাইটেড কিংডমে বাংলাদেশী বা পূর্বপাকিস্তানী বাঙালির সংখ্যা ছিল ২০০০। ২০০১ সালে সেই সংখ্যাটা হয়েছে ২,৮৩,০০০। তেমনই আরেকটি সার্ভে বলছে যে এই বাঙালিদের ৮৫% তাদের সঞ্চয় নিজের দেশে পাঠাতো ১৯৬০-৭০এর দশক অব্দি। আজ নানা কারণে মাত্র ২০% এই কাজটা করে বা করতে পারে। এই দুটো প্রবৃত্তিতেই ভারতের বাঙালিদের সংখ্যা জুড়ে নিন। আবার তেমনই গ্রেট ব্রিটেনের সাথে জুড়ে নিন আরো অনেক দেশের নাম – আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, ইওরোপের বিভিন্ন দেশ এবং  সিঙ্গাপুর-হংকং-মালয়েশিয়া সহিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি। চল্লিশ ঘর বাঙালি চিনেও আছে। বাঙালি আছে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। আর ভারতের ক্ষেত্রে আমরা আছি বিভিন্ন রাজ্যে কমবেশি ছড়িয়ে। এসবেরই পরিণতি আজ বাঙালি ডায়াস্পোরা বা বিশ্বব্যাপী বাঙালিয়ানা, বা ভারতবর্ষের মত বহুজাতিক দেশে ভারতব্যাপী বাঙালিয়ানা।
প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রজন্ম পেরিয়ে সেই সব বাঙালিদের অনেকেই, বাকি আরো অনেক জাতির বা ভাষাগোষ্ঠির মত পুরোপুরি সেখানকারই স্থানীয় হয়ে পড়েছেন। আর তাই সেই ডায়াস্পোরা, শুধু বাংলাভাষাভাষীর নয় সব ভাষাভাষীর ক্ষেত্রে, আবার সেই, প্রধানতঃ রুজিরোজগারে টিঁকে থাকার বাধ্যতায় বা সোজাসুজি পেটের দায়ে, নানা সুপথ ও (দায়ে পড়ে) কুপথ পেরিয়ে বহুজাতিক সত্ত্বা বা ট্রান্সন্যাশনাল আইডেন্টিটির জন্ম দিচ্ছে। মিশ্র পরিবার, মিশ্র সংস্কৃতির জন্ম দিচ্ছে।
ক্ষুদ্র পরিসরে এই ঐতিহাসিক গতিপথটিকে বোঝার চেষ্টা করার কথা বলাও বাতুলতা। তবু একটা ব্যাপারে আমরা নিশ্চয়ই আমরা অনেক পশ্চিমা সমাজশাস্ত্রীদের বিরুদ্ধে একমত হব যে ডায়াস্পোরা যেমন নেশন-স্টেটের বিপরীতে কোনো পোস্টমডার্ন ফেনমেনন নয়, পুরোপুরি বুর্জোয়া নেশন-স্টেটেরই কীর্তি – হয় এক দেশের বেকারত্ব অন্য দেশের সস্তাশ্রম – তেমনই আজকের ট্রান্সন্যাশন্যাল আইডেন্টিটিও সেই একই স্টেটের কীর্তি – মানুষটির বা পরিবারটির দিক থেকে, বিধিনিষেধের, আইনকানুনের বেড়াজাল কাটিয়ে রুজিরোজগারে টিঁকে থাকার প্রয়াস। মূলতঃ, মানুষ শেষ পর্য্যন্ত চায় নিজের ভাষা, নিজের সংস্কৃতিকে দাঁতে কামড়ে ধরে রাখতে।

ডায়াস্পোরিক সাহিত্য
এই চাওয়ার ছবিটা বহুবিধ এবং বিচিত্র – সংস্কৃতির শুদ্ধতাবাদী পন্ডিতদের চোখে ‘হাস্যকর’ হতে পারে। কিন্তু তাতে কিচ্ছু আসে যায়না। চেয়ে যেতে হবে। চেষ্টা করতে হবে। এই কথাটিই যথার্থ একটি লেখায় পেলামঃ
“Diasporas need not apologize for their alleged lack of authenticity, for the hybridity of diasporan identity, as if it represented mere decline from some purer homeland form. Rather – and there is an inevitable element of utopian self-congratulation here – at its best the diaspora is an example, for both the homeland’s and hostland’s nation-states, of the possibility of living, even thriving in the regimes of multiplicity which are increasingly the global condition, and a proper version of which diasporas may help to construct, given half a chance. The stateless power of diasporas lies in their heightened awareness of both the perils and rewards of multiple belonging, and in their sometimes exemplary grappling with the paradoxes of such belonging, which is increasingly the condition that non-diasporan nationals also face in the transnational era.” Tölölyan, Khachig, (Quoted in ‘Two women writers of Bengali diaspora’ by Sumona Das Sur)
ডায়াস্পোরার গতি কেন্দ্রাতিগ। অথচ যে মানুষগুলোকে নিয়ে এই ডায়াস্পোরা তাদের মনের গতি কেন্দ্রাভিগ। এই কেন্দ্রাভিগ মনন ও কেন্দ্রাতিগ জীবনগতি থাকে প্রথম প্রজন্মের মননে। কিন্তু, যেমন যেমন দিন যায়… “immigrants build social fields that link together their societies of origin and settlement.… develop and maintain multiple relations—familial, economic, social, organizational, religious, and political that span borders. Transmigrants take actions, make decisions, and feel concerns, and develop identities within social networks that connect them to two or more societies simultaneously.” (Basch, Glick Schiller and Blanc-Szanton, 1992)

সাহিত্যের মনোভূমি
একই সত্য ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী বা আমাদের এই বিহারবাসী বাঙালিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। এবং জীবন- যাপনের বিস্তৃতি থেকে যদি দৃষ্টির ক্ষেত্রটা সীমিত করি মন ও মননে বা আরো ছোটো ক্ষেত্রে, সাহিত্যে বীক্ষা ও সত্ত্বার অভিব্যক্তিতে তখনও আমাদের একশ্রেণীর পণ্ডিত ও তাদের স্পন্সর্ড দৃষ্টিভঙ্গীর বিপরীত মেরুতে অবস্থান নিতে হয়।
তাঁরা প্রকাশ্যে বলেন, সাহিত্য একটাই। বাংলা সাহিত্য। তার আবার ‘ভিতর-বাহির’ ভাগ হতে পারে না।
ন্যায্য বলেন! কিন্তু সেই এক ও অখন্ড সাহিত্যের মনোভূমিটা যে বিবিধ! বহুবিধ! প্লুরাল! এমনকি মাল্টিপোলার – মেরুবহুল! এটাও মানুন তাহলে! মানবেন?
কিন্তু না, এটা মানতে তাদের একটা অসুবিধা হয়ে যায়। কেউ খুলে বলেন কেউ বলেন না, কিন্তু তাঁদের অস্বীকৃতিটা স্পষ্ট টের পাওয়া যায়। তাঁরা স্বীকার করেন না যে বাংলা সাহিত্যের সমসাময়িকতা বা কন্টেম্পোরানিইটি কলকাতা বা ঢাকা তো নয়ই এমনকি পশ্চিমবঙ্গ বা বাংলাদেশেও নয়, সারা পৃথিবীতে পরিভাষিত হচ্ছে। ঠিক যেমন ইংরেজি সাহিত্যের। এবং তাঁদের এই রক্তচক্ষুর কারণে এমনকি ‘বাইরে থাকা’ বা ডায়াস্পোরিক লেখকেরাও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। উপরুল্লিখিত লেখিকা ভাষায়, “One wonders what could be the origin of such a denial of the obvious. Is it a reluctance to stand against the stream, an uncertainty about the medium of self-expression, or a fear that admitting a diasporic status might mean that the country of origin is being viewed as ‘the Other’?” এবং তারপর একটু apologetic ভাবে বলেন, “I think that if we examine and analyze the thinking of such people, as reflected in what they write, we can construct a map of the mental world of diasporic Bengalis from the second half of the twentieth century to the twenty-first century. …It is not an easy task to carry on writing in the mother tongue in a completely different environment and while immersed in the currents of a different language, but for those who do it, the task is an essential part of their sense of identity and self-esteem.” যখন নাকি তাঁর প্রবন্ধটি দুই প্রতিষ্ঠিত ‘ডায়াস্পোরিক’ লেখিকা, কেতকি কুশারি ডাইসন ও দিলারা হাশেমের সৃষ্টিকর্ম নিয়ে। এবং আরো বেশ কয়েকজন ডায়াস্পোরিক লেখক তাঁর চর্চায় উল্লিখিত।

আমরা যারা বিহারে বা সাধারণভাবে ভারতের বহির্বঙ্গে বাস করি, ভাষার অধিকারাদি নিয়ে আন্দোলন করি, মাঝে মধ্যেই একটা বক্তব্যের সম্মুখীন হই, “আগে ভাষা বাঁচলে তবে তো সাহিত্য!” বিহারে তো, আমরা যারা বাঙালি সমিতি ইত্যাদিতে রয়েছি, আমাদের সভায়, আলোচনায় আরো তীব্র ভাবে এই কথাটা উঠে আসে। তার কিছু বিশেষ কারণও আছে।

বিহারে বাঙালি
বিহারে বাঙালীর সাংস্কৃতিক গুরুত্ব ১৯৭৪এর পর থেকেই মোটামুটি কম হতে শুরু করেছিল। কেননা, চুয়াত্তরের আন্দোলনে বাঙালি সমুদায় সংস্কৃতিগত দিক থেকে অনুপস্থিত ছিল। পরে জাতিগত রাজনীতির বাড়বাড়ন্তে সে আরো পিছিয়ে পড়লো। তার পর সাম্রাজ্যবাদী বিশ্বায়নের সাংস্কৃতিক আক্রমণ ত্বরান্বিত করল সমাজের সবকটি ক্ষয়িষ্ণু প্রবৃত্তির বাড়। বিহারবাসী একটি ভাষাগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জীবন তার ব্যতিক্রম নয়। নতুন শতকে বিহার থেকে ঝারখন্ড নামে এক নতুন রাজ্যের সৃজন হওয়ায় সংখ্যাগত অনুপাতে বিহারে বাংলাভাষী হঠাৎ দুর্বল হয়ে পড়লো। আর উপরোক্ত তিনটের ফলশ্রুতি হিসেবে, সামুদায়িক সাংস্কৃতিক জীবনের সমূহ ক্ষয় ও ধ্বংস দেখা দিল।
এভাবে, সম্পূর্ণ অসংগঠিত ও বিচূর্ণ হয়ে পড়া বাঙালী বিহারের জাতভিত্তিক রাজনৈতিক সংখ্যাবিন্যাসে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ল। জাতভিত্তিক পালোয়ানির উত্থান, শহরে জমিজমার ব্যাবসার রমরমা ও আইনশৃংখলার সামগ্রিক অবনতি, এই সব কিছুর কারণে উঠতি প্রমোটার, অপহরণকারী, ছিনতাইবাজ ইত্যাদি সবরকমের দুর্বৃত্তের প্রধান লক্ষ্য (সফ্‌ট টার্গেট), বিশেষ করে বাঙালী-অধ্যুষিত শহরগুলোয় হয়ে দাঁড়ালো বাঙালী মধ্যবিত্ত।
এই রকম পরিস্থিতিতে বিহার বাঙালী সমিতির কুশল নেতৃত্ব ধীরে ধীরে সংগঠনে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করল। উত্তর বিহারের বিভিন্ন জেলায় গ্রামাঞ্চলে কলোনী গড়ে বসবাসকারী প্রায় পাঁচলক্ষ এককালীন উদ্বাস্তু বাঙালী জনসমুদায় নিজেদের যে আন্দোলন চালাচ্ছিল, তাদেরকে সাদরে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে এল সমিতির ব্যানারে। পাটনার রাস্তায় বেরুলো মিছিল। জেলায় জেলায় রিলে ধর্না। জমির মালিকানা স্বত্ত্ব, জাতি প্রমাণপত্র, বিপিএল সূচীতে অন্তর্ভুক্তি, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে পাঠ্যক্রমে বাংলা বিষয়ের ও বাংলা মাধ্যমের অন্তর্ভুক্তি, শিক্ষক নিয়োগ, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ইত্যাদি দাবীসম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিহারের বাঙালি টের পেল তার সামুদায়িক পরিচয়ে এক রূপান্তর ঘটছে। তার পর এল ভোট বয়কটের ডাক।… সমিতির সদস্যতার শ্রেণীগঠন, দাবীসমূহ এবং তা আদায় করার ধরণধারণ সব কিছু গেল বদলে। গণআন্দোলন একটা নিয়মিত ব্যাপারে দাঁড়িয়ে গেল।
তাই ‘ভাষা বাঁচলে’ কথাটার গুরুত্ব আমাদের মধ্যে অন্যরকম ও কিছুটা সাহিত্যবিরোধী হয়ে উঠেছে আজকাল। তবু, এটা দেখা দরকার যে কিসের প্রয়োজনে আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে ভাষা, মানে বাংলা? অর্থনৈতিক প্রয়োজনে নিশ্চয়ই নয়। অদূর ভবিষ্যতে সে প্রয়োজন আসার সম্ভাবনাও নেই। তাহলে? কী বলে বোঝাই আমরা নিজের সন্তানকে বাংলা পড়ার প্রয়োজনীয়তা? মা-বাবার, দাদু-দিদিমার ভাষা, পরম্পরা ইত্যাদির কথা বলেও যখন বোঝাতে পারি না তখন কি বাংলার অনুপম সাহিত্যেরই উল্লেখ করি না? বলি না যে রবীন্দ্রনাথের মত বিশ্ববরেণ্যই বা সে কোথায় পাবে আর ফেলুদার মত গোয়েন্দাগল্পই বা কোথায় পাবে?… সাহিত্য, ভালো সাহিত্যই ভাষার জায়গা তৈরি করে। বিহারের বাঙালিরা সরকারি মহলে হোক আর বুদ্ধিজীবী মহলে, হুঁকো পান আজও সেই দ্বারভাঙ্গা কে বিভূতিবাবু, ভাগলপুর কে বনফুল আর পুর্ণিয়া কে সতীনাথ ভাদুড়ীর নামে!
কাজেই আমার কথা হল যে সাহিত্যকর্মকে কখনোই হেয় করা উচিৎ নয়। ‘যা হোক, কষ্ট করে বাংলায় লিখছে তো’ কথাটা শুধুমাত্র বালখিল্যদের জন্য প্রয়োগ করা উচিৎ। মনে রাখা উচিৎ যে ‘বাঙালির মন ও মননের সমসাময়িকতা, তার বীক্ষার সমসাময়িকতা বিশ্বব্যাপী ও মেরুবহুল, এই ধারণাটাকে অনুশীলিত সত্যে ও তথ্যে পরিণত করার চ্যালেঞ্জটা আমাদের।  

বাংলা সাহিত্যে বিহার; সাহিত্য ও সাহিত্যিক – নিসর্গ, মানুষ, কালভাবনা
বিগত শতাধিক বছরে বিভিন্ন সমাজ-সংস্কারক ও সাহিত্যিকদের রচনায় ও কর্মে বিহার (এবং ঝাড়খন্ড) তার নিসর্গ, তার মানুষ নিয়ে উপস্থিত থেকেছে। গড়েছে বাংলা ও ভারতের বেশ কয়েকটি যুগসন্ধিক্ষণের কালভাবনা।
আকছার বলা হয় যে ইশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর নিজের শেষ জীবনে নানান কারণে বীতশ্রদ্ধ, ক্লান্ত ও হতাশ হয়ে একটু শান্তির নীড় খুঁজে নিতে এসেছিলেন কর্মাটাঁড়ে! যাঁরা বলেন তাঁরা ভুলে যান যে বিদ্যাসাগর বাংলার নবজাগরণের শ্রেষ্ঠতম সন্তান ছিলেন। রেনেশাঁ-ব্যক্তিত্বের পরিচয় এটাই যে তাঁরা অক্লান্ত কর্মদৈত্য, মনন ও অনুশীলনের ঐক্যের দিকে ধাবিত একেকজন লেভিয়াথান। বাংলার রেনেশাঁর শ্রেণীগত সীমা নিয়ে যত বিতর্কেরই অবতারণা করা হোক, এটা প্রমাণিত তথ্য যে তার শেষ পর্বে একটি ধারা বাঙলা থেকে বেরিয়ে ঔপনিবেশিক অর্থনীতির ও সমাজের প্রত্যন্তে স্থিত মানুষজনের মধ্যে কাজ করতে গিয়েছিল। সেই ধারার সুত্রেই বিদ্যাসাগরের কর্মাটাঁড়ে আসা, বালিকা বিদ্যালয়, হোমিওপ্যাথিক দাতব্য চিকিৎসালয়, বয়স্ক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনার প্রয়াস চালানো এবং আদিবাসি কৃষকদের জন্য উন্নত ধরণের চাষ শেখানো, ফলনশীল বীজের ব্যবস্থা করা, গ্রামীণ শিল্প, কারিগরির মাধ্যমে বৈকল্পিক রোজগারের দিকে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ ইত্যাদি।
বিহারে সরকারি কাজে হিন্দীর প্রচলনে ভুদেব মুখোপাধ্যায়এর অবদান সর্বজনস্বীকৃত। এই কাজটি ‘বাঙালির আত্মপরিচয়ে বিহার D বিহারের আত্মপরিচয়ে বাংলা’র, অর্থাৎ উপরুল্লিখিত ‘multiple belonging’ যথার্থ নজীর।
          বিহার আলাদা হওয়ার আগে অব্দি বেঙ্গল প্রেসিডেন্সীর অন্তর্গত ছিল। ওড়িশাও ছিল। কিন্তু বাংলায় পরিব্রাজক বাদে সাধারণ, মধ্যবিত্ত মানুষের এমনকি ঐশ্বর্যশালী বাবুদেরও যাত্রাপথ রেলের, সমান্তরাল লোহার পাতদুটোর সাথে এগিয়েছে। হাওড়া বেনারস রেলপথ ভায়া লুপলাইন, মানে ভাগলপুর, শুরু হয়েছে ১৮৬৩ সালে। আর হাওড়া থেকে কটক বা পুরী যাওয়ার রেলপথ খুলেছে ১৯০০ সালে। রেলের এই ইতিহাস ঔপনিবেশিক প্রশাসনের হাত শক্ত হওয়ারও ইতিহাস। তারই সাথে জড়িয়ে আছে বাঙালি মধ্যবিত্ত চাকুরে ও বুদ্ধিজীবীদের দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ার ইতিহাস ও পর্যায়ক্রম।
প্রথম দিকের বিহারবাসী, বা বিহারে বেশ কিছু সময়ের জন্য বসবাসকারী বাঙালি লেখকদের লেখায় তাই সাধারণভাবে, বাঙালি চরিত্র বাদে বিহারের মুখ অস্পষ্ট। খুব বেশি হলে দরিদ্র, দুঃস্থ চাষীঘর, চাকর বা ফেরিওয়ালা ইত্যাদির স্টিরিওটাইপ। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরপরই সাহিত্যের নতুন চিন্তাভাবনায়, দেশের সার্বিক মুক্তির স্বার্থেও আবার শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের ও মননের অসারতা প্রমাণেও, প্রত্যন্ত মানুষের মানবিক সৌন্দর্য ও দৃপ্তি প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। এখানেই মানবিক মূল্যের ব্যাপ্তির প্রেক্ষাপট হিসেবে বিহারের নিসর্গ এবং সেই নিসর্গের সাথে একাত্ম মানুষের চেহারা নিয়ে বিহারের প্রবেশ ঘটে।
আর ওই একই প্রয়োজনীয়তার প্রসারে, অধুনা ঝারখন্ড (কিন্তু তখন বিহার)এর আদিবাসীদের ব্রিটিশশাসন বিরোধী সশস্ত্র সংগ্রামের কাহিনী নিয়ে গবেষণা প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠতে থাকে। এমনকি তেমন লেখক, বুদ্ধিজীবীরাও এ নিয়ে ভাবতে শুরু করেন যাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিহারের সাথে সেভাবে ছিল না।
উল্লেখ করা অপ্রাসঙ্গিক হবে না যে হিন্দী সাহিত্যে বিহারের প্রবেশ, বিশেষ করে গ্রামীণ বিহারের প্রবেশ ওই একই সময়ে শুরু হল। আচার্য শিউপূজন সহায়ের ‘দেহাতি দুনিয়া’ প্রকাশিত হয় ১৯২৬ সালে।
স্বাধীনতাপ্রাপ্তির দিনগুলো এগিয়ে আসতে আসতেই সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে শাসনের হস্তান্তরণ বনাম স্বাধীনতা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা বনাম সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ, স্বাধীনতা বনাম শোষণের বিরুদ্ধে অন্তিম মুক্তিসংগ্রাম ইত্যাদি প্রতর্কগুলো।
এই পর্যায়ে বিহারের বাঙালি সাহিত্যিক ও বিহারি চরিত্র দুয়েরই গুরুত্ব অপরিসীম। আলাদা করে নাম নিতে চাই না, তবু উদাহরণ হিসেবে বলছি, ‘জাগরী’ নিজের genreএ প্রথম বাংলা উপন্যাস – বিষয়ভাবনা ও টেকনিক, দুদিক থেকেই। আবার ওই একই লেখকের সৃষ্ট ‘ঢোঁড়ই তাৎমা’ বাংলা ও হিন্দী সাহিত্যের আগামি অনেক চরিত্রের পূর্বসূরী।
অনেকেই বলেন সত্তরের দশক মুক্তির দশক। ৭১এ বাংলাদেশের জন্ম, ৭২এ আলেন্দের নেতৃত্বে চিলিতে নতুন শাসন, ৭৫এ ভিয়েৎনাম, কম্বোডিয়া ও লাওসের মুক্তি এবং ৭৮এ আফগানিস্তানে নুর মুহম্মদ তারাকির নেতৃত্বে দাউদের রাজতন্ত্র উৎখাত। এই বিহারেও, চুয়াত্তরে জয়প্রকাশ নারায়নের নেতৃত্বে গণআন্দোলন যার অভূতপূর্ব সাড়া ছাত্র ও ঘরের মহিলাদের মাঝে। ৭৫এ আপাতকাল ঘোষণা কিন্তু তার জবাবও দিল ভারতের জনতা ওই দশকেরই সাতাত্তরে। ভারতে প্রথম অকংগ্রেসী কেন্দ্রীয় শাসন এল।
নকশাল আন্দোলনও ওই সময়ে ছড়ালো বিহারের ও বর্তমান ঝারখন্ডের বিভিন্ন জেলায়।
এই রাজনৈতিক পরিপ্রেক্ষিতটা সবার কাছে সমান অর্থে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। কিন্তু আমূল পরিবর্ত্তনের একটা হাওয়া যে চলেছিল এবং সেটা বিহারের যুবসমাজকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করেছিল এটা তথ্য। যুক্তি-অযুক্তির, স্বপ্ন-বাস্তবের বিতর্ক এখানে টানছি না। সমাজবদলের সংগ্রামের এই নতুন ভাষা নানা ভাবে ছায়া ফেলতে লাগল বাংলা সাহিত্যে যেমন, হিন্দী সাহিত্যেও। ছায়া কথাটা এখানে এতটাই ব্যাপ্ত যে তার ভালোমন্দ ছেড়ে দিচ্ছি, আক্ষরিক অর্থে হিন্দী স্ল্যাং ও নানা ধরণের শব্দ ও শব্দজোট উঠে আসতে লাগল বাংলায়। এই পর্যায়েও আবার, এবং এর পরবর্তী পর্যায়েও এমন লেখকেরা বিহার নিয়ে লিখতে শুরু করলেন যাঁদের জীবনযাপন বিহারে নয়।
নব্বইয়ের দশক। যদিও মহারাষ্ট্র/গুজরাটের দলিত সাহিত্যের অনুবাদ ইত্যাদিরও এই প্রসঙ্গে বড় ভূমিকা রয়েছে, কিন্তু বাংলার সাধারণভাবে অসাম্প্রদায়িক মনন যখন দেখল যে অনগ্রসর জাত আর তপশীলী জাতের রাজনৈতিক ঐক্য রুখে দিচ্ছে আদবানির রথ, আর বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর সাধারণভাবে বজায় রাখছে শান্তি ও শৃংখলা… তখন জাত/বর্ণ ও শ্রেণীর অন্তর্সম্পর্ক নিয়ে পুনর্ভাবনা শুরু হল এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রে সেই ভাবনার পটভূমি প্রায় পুরোটাই বিহার। কিছুটা কাজ অবশ্য তখন উঠে আসা বাংলার নিজস্ব ‘দলিত সাহিত্য’ও করেছে। আর, অবশ্যই সোভিয়েত সঙ্ঘে সমাজবাদের পতনও এই ‘ফিরে দেখা’য় একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।  

শেষমেশ বিহারের বাংলা সাহিত্য নিয়ে কয়েকটি কথা।
১-       সাহিত্যের বিষয়ভাবনায়, বাংলাভাষী-হিন্দীভাষী/মৈথিলীভাষী/ভোজপুরীভাষী পরিবারের অন্তর্সম্পর্কের জায়গাটা এখনো সেভাবে আসেনি। বিশেষকরে পুনর্স্থাপিত উদ্বাস্তুদের কলোনিগুলোতে এ নিয়ে কাজ না করলে সামাজিক প্রেক্ষিতটা স্পষ্ট হবে না।
২-       বিহারের স্থানিক রাজনীতিতে বাঙালি – এ জায়গাটাও অনাবিস্কৃত।
___________________________________________________________________________________________________________

এই প্রবন্ধটি লিখতে ১৬-১৭ মার্চ ২০১৩ য় পাটনায় বিহার বাংলা আকাডেমি আয়োজিত সর্বভারতীয় আলোচনাচক্রে, আমারই রচিত দুটি বিষয়ভাবনার সাহায্য নেওয়া হয়েছে।