Saturday, September 12, 2026

পালিয়ে যাওয়া মেয়েরা - আলোক ধন্বা

১
কতো বেশি করে
বাড়ির শিকলগুলো দেখা যায় যখন
একটি মেয়ে 
সে-বাড়ি থেকে পালায়
 
মনে পড়ছে কি সে-রাতটির কথা
পুরোনো সিনেমায় আসতো বার বার
বাড়ি থেকে যখনই পালাতো এক মেয়ে?
বৃষ্টিতে আবছা পাথরের ল্যাম্পপোস্ট
চোখের অস্থিরতাটুকু মাত্র
দেখানোর মতো আলো সেগুলোর? 
 
আর ভালোবাসায় 
পাগল করে তোলা সেই সমস্ত গান
রুপোলি পর্দার
নিজেদেরই বাড়িতে সত্যি হল!
 
তুমি কি এটাই ভাবতে
যে সে-গান শুধু
অভিনেতা-অভিনেত্রীদের জন্য
লেখা হয়েছিল?
আর সে-বিপজ্জনক অভিনয়?
লায়লার বিধ্বংসের?
অক্ষুন্ন যেটা মঞ্চ থেকে উঠে
ছড়িয়ে পড়ত
দর্শকদের নিজের জীবনে?
 
২
তুমি তো কখনো
পড়ে শোনাবে না সেই চিঠি
পালাবার আগে যেটা 
টেবিলের ওপর সে রেখে গেল
লুকোবে পুরো যুগটা থেকে তার
সংলাপ
চুরি করবে তার আয়না্‌, তার পারদ,
তার আবলুশ
সাত পালের নৌকো তার
কিন্তু কিভাবে চুরি করবে একটি
পালিয়ে যাওয়া মেয়ের বয়স
যা হতে পারে
অনেকখানি বেঁচে আছে
তার ঊড়ুনির আবছায়ায়?
 
জ্বালিয়ে দেবে
রয়ে যাওয়া জিনিষগুলো তার?
জ্বালিয়ে দেবে তার ঐ
না-থাকা
যা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে থাকার চেয়ে বেশি
চুলে, যেন সন্তুরের সুর
 
৩ 
মুছে ফেলবে তাকে
মুছে ফেলবে
পলাতকা এক মেয়েকে তার
নিজেরই বাড়ির বাতাস থেকে
মুছে ফেলবে তার যে শৈশব
ভিতরে আছে তোমার
সেখান থেকেও
কুলীনত্বের হিংসা কেমন
আমি জানি
 
কিন্তু পুরোনো হাওয়াচাক্কির মতো
স্মৃতি থেকে 
তার পালানোর কথাটা যাবে না
 
সে প্রথম পলাতকা নয়
শেষও নয়
আরো আরো ছেলেরা মেয়েরা
পালাবে মার্চ মাসে
 
মেয়ে পালায়
যেন ফুলে, তারায়
হারিয়ে যেতে যেতে
সাঁতারের পোষাকে দৌড়োতে দৌড়োতে
ঠাসাভিড় আলোঝলমল স্টেডিয়ামে

৪
যদি এক মেয়ে পালায়
সবসময় হয় না এমন যে এক ছেলেও
পালিয়ে থাকবে কোথাও
 
আরো অনেক প্রসঙ্গ আছে জীবনে
যা নিয়ে সে যেতে পারে
সবকিছু করতে পারে
শুধু জন্ম দেওয়াই
নারী হওয়া নয়
 
ট্যাঙ্কের মতো বন্ধ আর মজবুত
তোমাদের বাড়ির বাইরে
অনেক বদলে গেছে মেয়েরা
তার সম্ভাবনাটাও পাচার করবে
সে অনুমতি তোমাদেরকে দেব না
 
যে কোনো জায়গায় থাকতে পারে সে
পড়ে যেতে পারে
গুঁড়িয়ে যেতে পারে
কিন্তু সে নিজে শামিল থাকবে সবে
ভুলগুলোও নিজেই করবে
শুরু থেকে শেষ অব্দি
দেখবে সব
নিজেরও শেষ দেখতে দেখতে যাবে
অন্য কারো মৃত্যু মরবে না 

৫
মেয়ে পালায়
যেন সাদা ঘোড়ায় সওয়ার
লোভ আর জুয়ার এফোঁড়-ওফোঁড়
কতো ধুলো ওড়ে
জর্জর বরগুলো থেকে
 
তোমরা
যারা স্ত্রীদেরকে
বেশ্যাদের থেকে আলাদা করে রাখো
আর প্রেমিকাদেরকে
স্ত্রীদের থেকে আলাদা করে রাখো
কেমন আতঙ্কিত হও
যখন এক নারী
নিজের ব্যক্তিত্ব সন্ধানে
নির্ভয়ে একই সঙ্গে
বেশ্যা, স্ত্রী আর প্রেমিকাদের মাঝে
বেড়িয়ে বেড়ায়
 
এবার তো সে কোথাও হতে পারে
সেই আগামী দেশগুলোয়
যেখানে প্রণয়
একটা কাজ হবে পুরো

৬

কতো কতো মেয়ে
পালায় মনে মনে
নিজেদের রাত জাগায়, ডাইরিতে
বাস্তবে যারা পালায় তাদের চেয়ে
অনেক বেশি সংখ্যা তাদের
 
তোমার জন্য কি 
পালিয়েছে
কোনো মেয়ে?
 
তোমার রাতে কি একটাও
লাল মোরামের রাস্তা নেই?

দাম্পত্য কি দেওয়া হয়েছে তোমায়?
উঠিয়ে এনেছ নিজের
সামাজিক জোরে?
গায়ের জোরে?
একবারেই উঠিয়ে নিয়ে এসেছ
একটি নারীর যতো রাত
তার মৃত্যুর পরের রাতগুলোও!
 
একবারও এই পৃথিবীতে তুমি
কোনো নারীর বুক জড়িয়ে কাঁদো নি
 
কোনো নারী তোমায় বলে নি
আজকের রাতটুকু থেকে যাও
 
আজকের রাতটুকু থেকে যাও
বলেছে কতো       কতো বার
কতো নারী
সারা বিশ্বে
দৌড়ে এসেছে সমুদ্রের সবক’টি দরজা অব্দি
আজকের রাতটুকু থেকে যাও
আর যদ্দিন থাকবে এই বিশ্ব
আজকের রাতটুকুও থাকবে। 


[অনুবাদঃ ১২.৯.২৬]

No comments:

Post a Comment