Friday, August 16, 2024

রাত-দখল

অপরূপ এক রাত দিলে প্রতিবাদ!
শহরগুলোও মুখ দেখে নিজেদের
মা-মেয়েদের পথ ভরা কলরোলে
চমকে উঠলো আগামীর ঝাঁকানিতে।
 
আকাশ ডাকলো, “আসিফা …!” তুই কোথায়?
চিতায় একটু আগুন খুঁজলো হাথরস।
ধর্ষক জাত-ধর্ম-টাকার গর্মি
তাচ্ছিল্যে বন্ধ করলো জানলা। 
 
ঘরে ঘরে ঘর সুখ-সই ভাবা পুরুষ
হঠাৎ দেখলো পা’দুটো তার অবশ।
অনেক প্রশ্ন ভাবার বাইরে রেখে
সোজা উত্তরে তুষ্ট ছিল যে তারা!
 
বাঁচতে দিল না, ন্যায় ওরা কী দেবে?
দুষ্কৃতীদের শাস্তির দাবিতে,
নজরদারি – তাও রুখছে পুলিস;
গন্ধ উঠছে – নালিঘা এত গভীর!  
 
এক প্রতিবাদে ভাঙবে না দুশ্চক্র।
তবু, অসংখ্যে শরীর যে হয় চেতনা,
দেখতে, দেখাতে নারীদের রাত-দখল
চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লো স্বাধীনতা যাপনে।
 
১৬.৮.২৪     

 

 

প্রথম জীবনানন্দ

মেঘলা তেরাস্তার একটা বেয়ে বন্ধু এসেছিল।
সন্ধ্যা ঘনাচ্ছিল পিছেরটায় পাড়ার বাঁক ঘুরে,
সামনে আঁধার, দূরে পুরোনো পাড়ার হাতছানি।
উঁচু সাইকেল ঠেঙিয়ে কদমকুঁয়া থেকে আসা
সে-বন্ধুর কাঁধঝোলা থেকে বেরিয়ে থমকে দিল
উজ্জ্বল দুটো খণ্ডের ল্যামি-জ্যাকেট, গেরুয়া, লাল,
 
অজিতকাকুর দোকানটা বন্ধ থাকে সেসময় …
একটু এগিয়ে কোথাও চা খেয়েছিলাম কি?
মনে নেই, হাতে নিয়ে অধীর দেখছিলাম, যেন
এক আকাটের কাব্যিক বাঙালিয়ানার টিকিট!
 
আর তাও বোধহয় ওই একটা, পুরো পাড়ায়!
বন্ধুদেরও আদ্ধেক বাংলা বোঝে না, আর কবিতা?
যাহোক, ভাবি ‘আগে পড়তে হবে বস্‌’ … পৃষ্ঠা খুলে
গন্ধ শুঁকি অভ্যাসে … ‘নাঃ, ভালো, টাটকা এ্যান্টিক!

১২.৮.২৪

 

চিঠিচর্চা ৫

কিছু চিঠি বন্ধু সঙ্গে তর্কযুদ্ধে নেমে
নবতর রণক্ষেত্রে – প্রবন্ধে ছড়ায়।
এভাবে সাহিত্য পায় যুব গদ্যকার;
সময়ের তর্ক পায় নতুন সৈনিক!
 
প্রবন্ধ কেন, মুদ্রিত সকল গ্রন্থাদি,
আদপে তো চিঠিই, যাকে দিতে চাওয়া,
উৎসর্গে তারি নাম থাকে; জীবনের
প্রৌঢ় প্রান্তে পৌঁছে হয় সম্ভব, সে-চিঠি।

যাকে লেখা, সে হয়তো নেই পৃথিবীতে,
অথবা শিশু এখন, বয়সে পড়বে।
ঘোষণা থাকে, ‘এ্যাদ্দিনে লিখতে পেরেছি,
যা চেয়েছিলাম।’ থাকে সাগ্রহ আহ্বান,
‘পোড়ো কিন্তু! সবাইকে পারলে পড়িও!’    
আমরা যখনি কিছু লিখি, চিঠি লিখি।
 
১২.৮.২৪

 

 

রূপারোপ

একটা লোক গান ধুয়ে ধুয়ে
               তার সুরটা বার করছে।
সে জানে, যে ঝর্ণার জলে সে গানটা ধুচ্ছে
অনেক আগে একজন সে-ঝর্ণার জলে কান পেতে,
                         জলের সুরটা বার করেছিল,
       পাহাড়ের প্রতিধ্বনি, পাখিদের সাড়া আর
       গাছে হাওয়ার সরসরানি ছাড়িয়ে।
তবে সে-গান তৈরি হয়েছিল
              যেটা সে ধুচ্ছে এখন …।
 
বস্তুতঃ সে-ও যে ধুচ্ছে, ঝর্ণার
স্রোতে ভেসে যাওয়া গানের কথাগুলোয়
         দিব্যি দেখতে পাচ্ছে পাহাড়ের প্রতিধ্বনি,
    পাখিদের সাড়া, সরসরানি, গাছে হাওয়ার, কিন্তু
             শব্দ হয়ে, কাজ আর ঘাম হয়ে …।
 
শুধু সুরটা পাওয়ার পর নিয়ে
সে যে নিজের ভাষাঞ্চলে ফিরবে
সেখানেও সেখানকার প্রকৃতির ধ্বনি ওভাবেই
শব্দ হয়ে, কাজ, ঘাম হয়ে আছে
এই সুরটা তাতে বসালে সে শব্দ, সে কাজ, সে ঘাম
এক নতুন রূপ পাবে, শক্তি পাবে।
 
“কে বলে রূপারোপে শক্তি নেই,
            সুরের ভাষান্তরে মুক্তি নেই,
                          ইতিহাসে যুক্তি নেই?”
সে আকাশকে শোনালো,
            “তবে হ্যাঁ এমন হতে হবে যেন
           সে-নতুন ভাষার শব্দ, কাজ, ঘাম
    নিজের করে নেয় বাইরে থেকে আসা সুরটা,
                       তাই তো?”
 
আকাশ ঝিকিয়ে সায় দিল।

১২.৮.২৪

 

Saturday, August 10, 2024

ধর্মচক্র

পুরোনো কাঁসার বড়ো থালা ঘিরে রাতে
অনেকক’টি আমরা দিদি বোন ভাই,
আধঘুমে, তবু ঠোঁট খোলা সব, পাছে
এগিয়ে ভাতের গ্রাস ধরা জেঠিমার
বকুনি কপালে জোটে; আজ মনে হয়,
অলীক পার্বণ কোনো উচ্ছিন্ন বৃক্ষের।
 
যবে থেকে ধর্মচক্র, শুনছি শান্তির,
ন্যায়ের মর্মে প্রোথিত; প্রত্যক্ষ দেখছি
বিপরীতে, চক্র এক, নির্মম, অমোঘ,
সময়ের শয়তানি পরিহাসে যেন
ছিঁড়ে দিচ্ছে দেশ, ভাষা, পরম্পরা, শ্রুতি …
ঐ এক কাঁসার বড় থালাটির আভা
কৃষ্ণ প্রতিপদের চাঁদের চেয়ে বেশি
দীপ্র, ধর্মচক্র করে রেখেছি সম্বিতে।

১০.৮.২৪
   

সত্য আর তথ্য

ঠাকুরদাদার কোলে বসে
ছেলেটা প্রথম পড়ল যেই
অ-য়ে অজগর আসছে তেড়ে,
পাশ থেকে দাদাটি তার
ফুট কাটল – অজগরও
নানান রকম, জেনে নে রে!
তারপর তো হাতের ফোনে
ভিন্ন ভিন্ন অজগরের
ছবি দেখা শুরু হল,
সেসব কিছু দেখে দেখে
দাদু-নাতির মাথা থেকে
অ-টাই হারিয়ে গেল।

৩০.৭.২৪  

 

প্রেমচন্দ ২

একদিনে হন নি, সময় লেগেছিল
বই পড়ে হন নি, জীবন লেগেছিল।
লমহীর ধুলোয় সামান্য আছে স্মৃতি
বাকিটা হিন্দির যাপনে তাঁর কৃতি।
ভারতের, যাকে বলে গঙ্গা-যমুনি
আঁচলের রঙ তাঁর দৃষ্টিতে চিনি।
কে এমন ধ্রুপদি প্রাখর্যে কলম
চালিয়ে দেখিয়েছিল সত্যের দম!
রুক্ষ শিল্প তাঁর কংক্রিট ঢালাই
কোথাও শিক বেরুনো – উদ্দেশ্য, তাই। …
হামিদের চিন্তায়, দিদার আনন্দে,
জোখুর খাওয়ার জলে বিষাক্ত গন্ধে,
গঙ্গির নিদারুণ ভীত পলায়নে,
হোরির মৃত্যুকালীন অবচেতনে,
ঘিসু আর মাধবের বুকের মড়কে,
হিরা আর মোতির বিদ্রোহের ছকে
ব্যথার দার্ঢ়্য নির্মাণ, তাঁর চলে –
শব্দ ইতিহাস হয়ে চাগায় বদলে।

১০.৮.২৪